দৈনন্দিন জীবনে
নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় প্রায় সকলকেই। সেই সঙ্গে আশপাশে চলে স্বার্থপর
মানুষজনের আনাগোনা। কারও কারও কাজে আবার কর্মজীবন বা ব্যক্তিজীবনে ক্ষতিও হয়ে যায়।
তবে, এর মাঝেই এমন কিছু
মানুষ থাকেন, যাঁদের সাহচর্যে মনে হয় তাঁরা যেন স্বয়ং
দেবদূত। দৈনন্দিন ক্লেদ, গ্লানি দূর হয়ে শান্তি মেলে তাঁদের
সান্নিধ্যে।
এর কারণ রয়েছে সেই
সব শুভবোধসম্পন্ন মানুষের জন্মকুণ্ডলীতেই। তাঁদের কোষ্ঠীতে থাকা গ্রহের অবস্থান
এবং আরও নানান শুভ বিষয়ের কারণেই তাঁদের মধ্যে এই গুণ রয়েছে। নিরাময়ের সহজাত
ক্ষমতা আছে তাঁদের। এই ব্যক্তিরা সংবেদনশীল,
অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, বুদ্ধিমান, যত্নবান এবং ভাল পরামর্শদাতা হন। অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগাতে এঁদের জুড়ি
নেই। জেনে নিন কোন কোন জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকার রয়েছে এই বিশেষ গুণ—
-
২, ১১, ২০,
২৯: এই জন্মতারিখগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে চন্দ্রের। সেই কারণে এঁরা
অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আবেগপ্রবণ হয়ে থাকেন। পরের দুঃখে সহমর্মী হন। এই সব
জাতক-জাতিকা অবিশ্বাস্য ভাল শ্রোতা হন। স্বভাবে খুব শান্ত এবং যত্নবান হওয়ার কারণে
মানুষ সহজেই এঁদের ভরসা করে থাকেন। কেবল তাই-ই নয়, আত্মবিশ্বাস
জোগাতেও সাহায্য করে থাকেন এঁরা।
-
৩, ১২, ২১,
৩০: দেবগুরু বৃহস্পতির কৃপা লাভ করে থাকেন এই সব জন্মতারিখের
জাতক-জাতিকারা। এঁদের কাছে কেউ সাহায্যের আশায় উপস্থিত হলে তাঁকে পথ দেখাতে এবং
বিভিন্ন বিষয়ে অনুপ্রাণিত করতে এঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকেন। আধ্যাত্মিক
উন্নতিও ঘটতে পারে এঁদের হাত ধরে। এঁরা সব সময় মাটিতে পা রেখে চলেন এবং কাউকে কখনও
নিচু নজরে দেখেন না। আবার নিজের কোনও সমস্যা উপস্থিত হলে সহজেই তা কাটিয়ে উঠে মানসিক
অস্থিরতা দূর করতে পারেন এই সব জাতক-জাতিকা।
-
৫, ১৪, ২৩: এই
জন্মতারিখগুলি বুধের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নিরাময়কারী হিসাবে সুনাম রয়েছে এঁদের। এই
সব জন্মতারিখের জাতক-জাতিকাদের উৎসাহব্যঞ্জক কথাবার্তায় খুব হতাশ মানুষও প্রেরণা
পেয়ে থাকেন। এক শুভ শক্তি যেন সব সময় এঁদের ঘিরে থাকে। এঁদের উপস্থিতিতেই চারপাশে
ছড়িয়ে পড়ে খুশির আলো।
-
৬, ১৫, ২৪: এই
জন্মতারিখগুলির চাবিকাঠি থাকে রাক্ষসগুরু শুক্রের হাতে। অত্যন্ত ধৈর্যশীল, বুদ্ধিমান এবং দয়ালু হন এই জন্মতারিখের জাতক-জাতিকারা। এঁদের নিরাময়ের
ক্ষমতাও প্রবল। এঁরা খুব ধৈর্যের সঙ্গে অপরের কথা শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের
চেষ্টা করেন। যদি কোনও কারণে সমাধান করতে না পারেন, সে
ক্ষেত্রে সহানুভূতি এবং ভালবাসার সঙ্গে পাশে থাকেন।
-
৭, ১৬, ২৫: কেতু
একটি গাণিতিক বিন্দু বা নোড হলেও জ্যোতিষশাস্ত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই সব
জন্মতারিখের জাতক-জাতিকারা কেতুর আশীর্বাদধন্য হয়ে থাকেন। এঁরা বিশেষ আধ্যাত্মিক
গুণসম্পন্ন হন। এর দ্বারা অন্যের মানসিক চাপ, জটিলতা
এবং নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেন তাঁরা।
সৎ পরামর্শদাতা হিসাবেও সুনাম রয়েছে এই জন্মতারিখের জাতক-জাতিকাদের। এঁরা পাশে
থাকলে মানুষ নিরাপদ বোধ করেন।
আপনার
আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবের মধ্যে যদি এই সব জন্মতারিখের জাতক-জাতিকারা থেকে
থাকেন, তবে তাঁদের সঙ্গে
সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। এতে লাভবান হবেন আপনিই।