জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু ভয়ঙ্কর আতঙ্ক সৃষ্টিকারী শব্দ আছে।
সেগুলি শুনলেই মনে ভয় বা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। শনির সাড়েসাতি তার মধ্যে অন্যতম। জ্যোতিষশাস্ত্র
মতে,
শনি অশুভ গ্রহ। এরই সঙ্গে শনি ধীর গতির এবং বিশেষ দৃষ্টিসম্পন্ন
গ্রহ। বিশেষ দৃষ্টিসম্পন্ন হওয়ার অর্থ হল, শনি
অবস্থানক্ষেত্র ছাড়াও তৃতীয়, সপ্তম এবং দশমে দৃষ্টি দান করতে
সক্ষম। শনি লগ্ন বা রাশির বেশির ভাগ স্থানেই অবস্থান করলে বা দৃষ্টিসম্পর্ক স্থাপন
করলে অশুভ ফল দান করে। ধীর গতির গ্রহ হওয়ার কারণে শুভ বা অশুভ, যে ফলই দান করে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে শনির সাড়েসাতি সকলের জন্যই খারাপ
এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। শনিদেব সাড়েসাতি কালে অনেকের ভাগ্যেই সুপরিবর্তন আনতে
সক্ষম। শাস্ত্র জানাচ্ছে, বিশেষ কিছু মানুষ রয়েছে, যাঁদের উপর শনির সাড়েসাতি খারাপ
প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। বদলে উল্টোটাই হয়। শনির সাড়েসাতি কালে এঁরা অন্যদের
পিছনে ফেলে অনেকটা এগিয়ে যান। তালিকায় কারা রয়েছেন, দেখে নিন।
শনির সাড়েসাতি কাদের জন্য ভাল সময় নিয়ে আসে?
- সৎ জীবনযাপন করলে শনির সাড়েসাতি খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে
না। উল্টে ভাল ফলই পাওয়া যায়। শনিদেব ন্যায়বিচারের অধিপতি। সৎ পথে চলা মানুষকে
তিনি কখনও কষ্ট দেন না বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র।
- যে সকল ব্যক্তি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন কাটান, তাঁদেরও
সাড়েসাতির খারাপ প্রভাব ছুঁতে পারে না। নিয়মানুবর্তিতা শনিদেবের পছন্দের বিষয়। যে
কোনও কাজ নিয়মমাফিক করলে শনিদেব তার যোগ্য ফল দান করেন। সে ক্ষেত্রে সাড়েসাতির
খারাপ প্রভাবে ভোগার আশঙ্কা থাকে না।
- দরিদ্র এবং অসহায় মানুষদের শনির সাড়েসাতির খারাপ প্রভাব
ভুগতে হয় না বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র। উল্টে সাড়েসাতি কালে এঁরা ভাগ্য বদলানোর
প্রচুর সুযোগ পান। পর্যাপ্ত পরিশ্রম করলে এবং সুযোগ কাজে লাগালে এঁদের অর্থভাগ্য বদলে
যেতে পারে বলে মনে করা হয়। পথের ভিখিরি থেকে রাজা হতে বিশেষ সময় লাগে না।
- অনেক মানুষই সাড়েসাতি কালেও কঠোর পরিশ্রম করে চলেন। সহজ পথে নয়,
সঠিক পথে সফলতা প্রাপ্তির চেষ্টা নিয়ে এগিয়ে চলেন। তাঁদের শনিদেব ফেরান না।
সাড়েসাতির খারাপ প্রভাব তাঁদের কাছে ঘেঁষে না। বদলে পরিশ্রমের ফল পেতে সাহায্য
করেন শনিদেব। সাড়েসাতি এঁদের জন্য আশীর্বাদ রূপে নেমে আসে।