Love numerology

প্রেমিক হিসাবে আপনি কেমন সেটিরও খোঁজ দিতে পারে জন্মসংখ্যা! যুক্তিবাদী না আবেগী, আপনি কোন দলে দেখে নিন

জন্মতারিখের ভিত্তিতে প্রতিটি মানুষের মধ্যেই নানা পরিবর্তন দেখা যায়। সেই বিচারে কোনও ব্যক্তির প্রেমজীবন সম্বন্ধেও নানা তথ্যের হদিস দেওয়া যায়। প্রেমিক-প্রেমিকা হিসাবে আমরা কেমন সেটাও বলে দিতে পারে আমাদের জন্মসংখ্যা।

Advertisement

বাক্‌সিদ্ধা গার্গী

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩১
Share:

—প্রতীকী ছবি।

জ্যোতিষশাস্ত্রের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সংখ্যাতত্ত্ব। জ্যোতিষশাস্ত্রের গণনা যেমন জটিল ও সময়সাপেক্ষ, সংখ্যাতত্ত্বের গণনা ততটাই সহজ ও তাড়াতাড়ি করে ফেলা যায়। কোনও মানুষের সঠিক জন্মতারিখের সমাহার হল উক্ত মানুষের জন্মসংখ্যা। এ ক্ষেত্রে অনেকে কেবল জন্মদিনের যোগফলকে জন্মসংখ্যা বলে মনে করে নেন। তবে এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কোনও মানুষের জন্মসংখ্যা তাঁর জন্মদিন, জন্মমাস ও জন্মবছরের যোগফলকে এক সংখ্যায় পরিণত করলে যেটা বেরোয়, সেটাই। এই জন্মতারিখের ভিত্তিতে প্রতিটি মানুষের মধ্যেই নানা পরিবর্তন দেখা যায়। সেই বিচারে কোনও ব্যক্তির প্রেমজীবন সম্বন্ধেও নানা তথ্যের হদিস দেওয়া যায়। প্রেমিক-প্রেমিকা হিসাবে আমরা কেমন, সেটাও বলে দিতে পারে আমাদের জন্মসংখ্যা।

Advertisement

কোন জন্মসংখ্যার ব্যক্তি ভালবাসার মানুষ হিসাবে কেমন?

১: ভালবাসার অভিনয় করা ১ জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকাদের দ্বারা হয় না। এঁরা যাঁকে ভালবাসেন, তাঁর জন্য সমস্ত অসম্ভবকে সম্ভবে রূপান্তরিত করার দৃঢ় চেষ্টা করেন। তবে এঁদের খারাপ দিক এটাই যে সম্পর্কে কোনও ঝামেলা হলে এঁরা সঙ্গীর কথায় গুরুত্ব দেওয়ার বদলে, কী ভাবে তর্কে জেতা যায় সেই চেষ্টা করতে থাকেন। তাঁর নিজেরও যে কোনও ভুল হতে পারে, সেটাই ১ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা মানতে পারেন না। তবে সঙ্গীর প্রতি এঁরা অত্যন্ত যত্নবান ও দায়িত্ববান হন।

Advertisement

২: ২ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা আবেগতাড়িত হন। সঙ্গীকে এঁরা সর্বদা খুশি রাখতে চান। তবে ২ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিদের সঙ্গীদের প্রতি এই অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ তাঁদের নিজেদের জন্য সমস্যার হয়ে যায়। এঁরা নিজে কিসে খুশি হন সেটাই একটা সময় পর ভুলে যান। সঙ্গীর প্রতি পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কিন্তু ২ জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকাদের সঙ্গী হিসাবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এঁরা ভালবাসার মানুষকে কখনও প্রতারিত করেন না। সম্পর্ককে ভালবাসা ও বিশ্বাসের বন্ধনে বেঁধে রাখেন।

৩: ৩ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা হাসিঠাট্টায় জীবন কাটাতে ভালবাসেন। প্রেমের ক্ষেত্রেও তাঁরা সেই মনোভাব বজায় রাখেন। এঁদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে একঘেয়েমি কাকে বলে সেটা ভুলে যেতে হয়। এঁরা সর্বদা সঙ্গীর সঙ্গে নানা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত কাটানোর পরিকল্পনা করে চলেন। তবে মজার নেশায় এঁরা সম্পর্কে আসা জটিল বাঁকগুলিকে এড়িয়ে চলেন। আবেগঘন কথোপকথন এঁদের দ্বারা হয় না। সেই কারণে সঙ্গীর মনে সংশয় জন্ম নেয়। তবে ভালবাসা দিয়ে এঁরা সেই সংশয় দূর করতে সক্ষম হন।

৪: চট করে কারও প্রেমে পড়ে যান না ৪ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা। এঁরা সম্পর্কের তকমা ছাড়া মানুষটির সঙ্গে আগে মিশতে, তাঁকে জানতে ও চিনতে পছন্দ করেন। তার পর গিয়ে সম্পর্কে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের এই স্বভাবের জন্য অনেকে এঁদের ভুল বোঝেন। কিন্তু বাস্তবে এঁরা অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও স্থিতিশীল মানুষ হন। এক বার কাউকে ভালবাসলে, গোটা জীবনটা তাঁর সঙ্গে কাটানোর স্বপ্ন দেখেন। আবেগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া এঁরা মোটেই পছন্দ করেন না। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এঁরা সব কিছুর বিচার মাথা দিয়ে করতে ভালবাসেন।

৫: ৫ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরাও রোমাঞ্চপ্রেমী হন। একঘেয়ে জিনিস এঁদের পোষায় না। প্রেমের ক্ষেত্রেও এঁরা মাঝেমধ্যে তেমনটাই বোধ করেন। তাতেই ঘটে সমস্যা। এঁরা যখন যাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকেন। তখন তাঁকে কোনও ভাবে একা বোধ করান না। কিন্তু যখন সেই মানুষটির সঙ্গে তাঁদের আগ্রহ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মেলে না, তখনই এঁদের মন তাঁর উপর থেকে উঠে যায়। ৫ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিদের এই স্বভাবের কারণেই তাঁরা সঙ্গীর বিশ্বাস হারান।

৬: নিঃস্বার্থ ভালবাসা কাকে বলে তা ৬ জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকাদের থেকে শেখা উচিত। সঙ্গীর প্রতি এঁরা অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ হন। তাঁকে কোনও মতে কষ্ট পেতে দেন না। তবে নিজেদের ভাললাগার জায়গাটা এঁরা ভুলে যেতে থাকেন। সঙ্গীর কষ্টকে নিজের কষ্ট বানিয়ে বয়ে বেড়ান। তবে এঁদের সঙ্গে সম্পর্কে থাকলে ভালবাসার কমতি কখনও বোধ করতে হয় না। সম্পর্ককে সর্বদা উষ্ণতা ও ভালবাসায় ভরিয়ে রাখেন। এঁদের চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়।

৭: ভালবাসার মানুষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এঁরা একটু নাকউঁচু হন। চট করে কাউকে মন দিয়ে দেন না। তবে যাঁকে মন দেন, তাঁকে নিজের সবটুকু দিয়ে ভালবাসেন। যদিও এঁদের খারাপ বিষয় একটাই। এঁরা যখন কোনও কারণে কষ্ট পান, তখন মনের মানুষের থেকে দূরে চলে যান। নিজের চারপাশে একটা পাঁচিল তুলে দেন। সেই পাঁচিল ভেদ করে প্রবেশ করা যায় না। তবে সেই সমস্যা মিটে গেলে এঁরা আবার ফিরে আসেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগকে এঁরা গুরুত্ব দেন। সঙ্গীর মনের কথা ধৈর্য ধরে শুনতে পছন্দ করেন।

৮: ৮ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা গভীর ভাবে ভালবাসেন। সঙ্গীর ভাল লাগা-খারাপ লাগার খেয়াল রেখে চলেন। তাঁর প্রতি অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ ও দায়িত্বশীল হন। যদিও এঁদের মধ্যে সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা দেখা যায়। সেই কারণে সম্পর্কে একটু ভুল বোঝাবুঝির সম্মুখীন হতে হয়। তবে সম্পর্কের কঠিন সময়কে দৃঢ়তার সঙ্গে সামলানোর কায়দা ৮ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিদের জানা রয়েছে। এঁরা সব সময় নিজেদের ইচ্ছাগুলি সঙ্গীর কাছে মন খুলে প্রকাশ করে উঠতে পারেন না।

৯: ৯ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা অত্যন্ত আবেগতাড়িত হন। এঁরা সঙ্গীকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসেন। সঙ্গীর প্রতি এঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে। সেগুলি পূরণ না হলেই এঁরা অভিমান করে বসেন। ৯ জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা আশা রাখেন যে সঙ্গী সর্বদা এঁদের অভিমান ভাঙাতে ছুটে আসবেন। কারণ এঁরা নিজেরাও সেটাই করেন। কিন্তু সঙ্গী সেটা না করলেই এঁরা কষ্ট পেয়ে দূরে সরে যান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement