নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে শুধু নির্বাচন আর ভোটপ্রচারের জন্যই বিজেপি খরচ করেছে ৩৩৫৬ কোটি টাকা! ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে (যে সময় সপ্তদম লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল) এই খাতে বিজেপির অর্থ খরচের পরিমাণ ছিল ১,৩৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে এই সংক্রান্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে।
গত ২৭ ডিসেম্বর বিজেপি বার্ষিক খরচের হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে সব রাজনৈতিক দলের খরচ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে কমিশন। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে নির্বাচন এবং প্রচার খাতে বিজেপি ১,৭৫৪ কোটি টাকা খরচ করেছিল।
অন্য দিকে, পরিসংখ্যান বলছে, গত লোকসভা ভোটের বছরে (২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ) কংগ্রেস নির্বাচনী খাতে খরচ করেছে ৮৯৬.২২ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কংগ্রেসের এই সংক্রান্ত খরচের পরিমাণ ছিল ৬১৯.৬৭ কোটি টাকা। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, কেবল নির্বাচনী ফলাফলেই নয় ভোটে টাকা খরচের নিরিখেও বিজেপির তুলনায় অনেক পিছিয়ে কংগ্রেস।
গত লোকসভা নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ। সুতরাং ভোটের প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষেই। ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিজেপির মোট নির্বাচনী খরচের পরিমাণ ৫,০৮৯.৪২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে লোকসভা নির্বাচন ছাড়াও আটটি (রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে) বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এই অর্থবর্ষে বিভিন্ন খাতে বিজেপি মোট ৩,৭৭৪.৫৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৮৮ শতাংশই খরচ করা হয়েছে নির্বাচনী খাতে। শুধু দলীয় বিজ্ঞাপন এবং প্রচারের জন্যই খরচ করা হয়েছে ২,২৫৭.০৫ কোটি টাকা।
কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যানে এ-ও বলা হয়েছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিজেপির মোট আয়ের পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ৬,৭৬৯.১৪ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৬,১২৪.৮৫ কোটি টাকা এসেছে স্বেচ্ছাদান থেকে। ব্যাঙ্কের সুদ, দলের চাঁদা বাবদ বাকি টাকা এসেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বিজেপির আয়ের পরিমাণ ছিল ৪,৩৪০ কোটি টাকা।