—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পঞ্জাব থেকে পুণে, উত্তরাখণ্ড থেকে রাঁচী— দেশের একাধিক রাজ্যের বিভিন্ন শহরে পেট্রল পাম্পে তেলের অভাব দেখা দিচ্ছে। কোথাও পেট্রল পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল বেচা হচ্ছে না। পেট্রল, ডিজ়েলের অভাব দেখা দেবে, এই আতঙ্কে বহু মানুষ গাড়ি, মোটরবাইক, স্কুটার নিয়ে তেল ভরাতে আসছেন। ফলে পেট্রল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।
এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, যে সব বেসরকারি শিল্প, বাণিজ্যিক বা পরিবহণ সংস্থা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণে তেল কেনে, তারা পেট্রল পাম্প থেকে তেল কিনছে বলেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কারণ এই সংস্থাগুলিকে বাজারদরে তেল কিনতে হয়। পেট্রল পাম্পে সাধারণ মানুষের জন্য অপেক্ষাকৃত কম দামে পেট্রল, ডিজ়েল বিক্রি হয়।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির জন্য বিক্রি হওয়া পেট্রল, ডিজ়েলের দরও বেড়েছে। কিন্তু আমজনতার জন্য দুই জ্বালানির দর সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে দুই রকম জ্বালানির মধ্যে দামের ফারাক লিটার প্রতি ৪০ থেকে ৪২ টাকা হয়ে গিয়েছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘এর ফলে পেট্রল পাম্পগুলিতে জ্বালানির বিক্রি অনেকখানি বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ডিজ়েলের ক্ষেত্রে। কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা বেড়েছে। চাষের মরসুম বলে কৃষকরাও ডিজ়েল কিনছেন। পেট্রল পাম্পগুলিতে দুই থেকে আড়াই দিনের তেল মজুত থাকে। বড় বড় সংস্থাগুলি সেখান থেকে তেল কিনছে বলে পেট্রল পাম্পে তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই পেট্রল পাম্পগুলি নিজেদের মতো করে সবাইকে অল্প অল্প করে তেল বিক্রি করছে।’’ তাঁর যুক্তি, বেসরকারি তেল সংস্থাগুলি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির থেকে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। সে কারণেও অনেকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পেট্রল পাম্প থেকে তেল কিনছেন। সে কারণেও পাম্পে লাইন পড়ছে।
পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, দেশে অশোধিত তেল বা পেট্রল, ডিজ়েলের কোনও অভাব নেই। তাই আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনে তেল কেনার প্রয়োজন নেই। স্থানীয় স্তরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির পক্ষে সাত দিন চব্বিশ ঘন্টা পেট্রল পাম্পগুলিতে তেলের জোগান অক্ষুণ্ণ রাখা কঠিন হচ্ছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শহর, গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত এলাকায়। কী ভাবে পেট্রল পাম্প থেকে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির তেল কেনায় লাগাম দেওয়া যায়, পেট্রলিয়াম মন্ত্রক তার রাস্তা খুঁজছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। আজ ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম— তিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাও জানিয়েছে, পরিবহণের জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসে কোথাও অভাব নেই।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে