(বাঁদিক থেকে) ভজনলাল শর্মা, সিআর পাটিল, অমিত শাহ এবং নয়াব সিংহ সাইনি। ছবি: পিটিআই।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের উদ্যোগে অবশেষে হরিয়ানা ও রাজস্থানের মধ্যে ৩২ বছরের পুরোনো যমুনা জল বণ্টন বিবাদের অবসান ঘটল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে সোমবার দু’রাজ্যের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শাহের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী (জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী) সিআর পাটিল, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিংহ সাইনি এবং সশ্লিষ্ট দুই রাজ্যের জলসম্পদ দফতরের মন্ত্রী ও আধিকারিকেরা ওই বৈঠকে ছিলেন। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী বর্ষার মরসুমে হরিয়ানার হাথনিকুণ্ড (তাজাওয়ালা) বাঁধ থেকে অতিরিক্ত যমুনার জল পাইপলাইনের মাধ্যমে রাজস্থানের শেখাবাটী অঞ্চলে (সীকর, চুরু, ঝুনঝুনু জেলা) পৌঁছাবে। এর ফলে হরিয়ানার সীমানা লাগোয়া ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলসংকট দূর হবে। বৈঠকে স্থির হয়েছে, হরিয়ানা, রাজস্থানের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশকে যৌথ ভাবে যমুনার মানসম্মত পরিবেশগত প্রবাহ (ইকো-ফ্লো) নিশ্চিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, হরিয়ানা ও রাজস্থানের মধ্যে যমুনার জল বিবাদ মূলত ১৯৯৪ সালের একটি চুক্তির বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে। ৩২ বছরের পুরনো ওই ‘উচ্চ যমুনা বেসিন চুক্তি’ অনুযায়ী, বর্ষাকালে হথনিকুন্ড ব্যারাজ থেকে উদ্বৃত্ত যমুনার জল রাজস্থানে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী বর্ষায় মরসুমে রাজস্থানের ১,৯১৭ কিউসেক জল পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হরিয়ানা সরকার পরবর্তী সময় সেই শর্ত পালনে আগ্রহ দেখায়নি। হরিয়ানা থেকে রাজস্থানের খরাপ্রবণ শেখাবাটী অঞ্চলে জল নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট খাল বা অন্য পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা ছিল না। হরিয়ানার সীমান্ত দিয়ে রাজস্থানে জল পৌঁছানোর জন্য নতুন খাল খনন করার বিষয়ে দুই রাজ্য দীর্ঘদিন কোনো সহমতে পৌঁছাতে পারেনি।