গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে উদ্যোগী হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। বুধবার সরকারি নথি উদ্ধৃ়ত করে খবর প্রকাশের পরেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাল নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘প্রস্তাবিত শুল্ক কাঠামোর বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে “নিয়মিত যোগাযোগে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে। এখনও শুল্কের হার চূড়ান্ত হয়নি।’’
প্রকাশিত খবরে দাবি, বলপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন ভারত-সহ অন্তত ৬০টি দেশের পণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছে। শুল্কের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজ়িল, সুইৎজ়ারল্যান্ডের মতো দেশের উপর সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে মার্কিন নথি অনুযায়ী, এখনই এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। জনমত এবং পর্যালোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনা সাপেক্ষে পদক্ষেপ করবে ট্রাম্প প্রশাসন।
১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ (খ) (১) ধারার অধীনে আমেরিকা তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল বলে ওই খবরে জানানো হয়েছে। তার কয়েক মাস পরই এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এল। কেন এই পদক্ষেপ, তা-ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে সরকারি নথিতে। উদ্দেশ্য হল, বলপূর্বক শ্রমিকদের দিয়ে তৈরি করা পণ্যের আমদানি আটকানো। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দেশ কোনও পদক্ষেপ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত যৌথ বিবৃতির ভিত্তিতে একটি কাঠামোগত চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্যও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সমান্তরাল ভাবে কাজ করছে। ভারত জানিয়েছে, যেসব পণ্য ইতোমধ্যে সেকশন ২৩২-এর শুল্কের আওতায় রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আরও কিছু নির্দিষ্ট পণ্যকে এই প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারির গোড়ায় ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক (জরিমানা-সহ) ৫০ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। যা এশিয়ার অন্য অনেক দেশের উপর চাপানো শুল্কের তুলনায় কম।