(বাঁ দিকে) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে বিরোধী শিবিরের একাংশ। তা নিয়ে সংসদের নিম্নকক্ষে আলোচনা এবং ভোটাভুটি হবে নিয়ম মেনেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানালেন, আগামী ৯ মার্চ লোকসভার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলে এ বিষয়ে ভোটাভুটি হবে।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ছাড়াও স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, শিবসেনা (উদ্ধব), এনসিপি (শরদ), আরজেডি এবং বামপন্থী দলগুলির ১১৮ জন সাংসদ। রবিবার সংবাদসংস্থা পিটিআইকে একটি সাক্ষাৎকারে রিজিজু বলেন, ‘‘৯ মার্চ স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আমরা লোকসভায় আলোচনা করব। নিয়ম অনুযায়ী, বিরতির পর সভা শুরু হলে প্রথম দিনেই এই আলোচনা করতে হয়। আলোচনার পর পক্ষে-বিপক্ষে ভোট হবে।’’ গত ২৮ জানুয়ারি থেকে লোকসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলেছে অধিবেশনের প্রথম পর্যায়। ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ যে বাজেট পেশ করেছেন, তার বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা চলছে। ৯ মার্চ থেকে আবার অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্যায় চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত।
বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্যায় ‘আকর্ষণীয়’ এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রিজিজু। কারণ এই পর্বে গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল কিছু প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে। বিরোধীদের সতর্ক করে দিয়ে রিজিজু জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলতে থাকলে তা বিরোধীদের জন্যেই ক্ষতিকর হবে। বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে পাঁচটি মন্ত্রক নিয়ে রাজ্যসভায় আলোচনা হবে এবং পাঁচটি মন্ত্রকের অনুদানের দাবি নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হবে, জানিয়েছেন রিজিজু। কোন পাঁচ মন্ত্রক আলোচনায় থাকবে, তা কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করবে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল এবং পুদুচেরীতে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। সেই কারণেও বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্যন্ত আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করছেন মন্ত্রী।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, লোকসভার বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে রাহুল-সহ বিরোধী দলের বিভিন্ন সাংসদকে বক্তৃতা করতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আট জন সাংসদকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। এই দুই ঘটনার প্রতিবাদেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। তবে লোকসভার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল তৃণমূল তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই প্রস্তাবে সই করেনি। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিজেপি-বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’র দলগুলি এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতি দিলে তবেই তৃণমূল সাংসদেরা অনাস্থা প্রস্তাবে সই করবেন। স্বাক্ষরে আর কোনও আপত্তি নেই তাঁদের। গত মঙ্গলবার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস লোকসভার সচিবালয়ে জমা দিয়েছিলেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। বিড়লা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, সংসদীয় প্রথা মেনে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সভা পরিচালনা করবেন না তিনি। ফলে মঙ্গলবারের পর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি লোকসভায়।