বরাকের বাংলাভাষী ও হিন্দু ভোটকে টানতে এ’বার শিলচরে সভা করতে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বিজেপির তরফে আজ এই কথা ঘোষণা করে বলা হয়, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের নিরিখেই ভোট চাইবে বিজেপি। তাই তুলে ধরা হবে জাতীয় সড়ক, ব্রডগেজ, নাগরিকপঞ্জি সংশোধনীর মতো বিষয়গুলিকে।
সম্প্রতি শিলচরে এসে এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ পান্ডে বলেছিলেন, ‘‘বিহারের মত অসমেও নরেন্দ্র মোদীকে প্রতিপক্ষ ধরেই কংগ্রেস বিধানসভার ভোটে লড়বে।’’ তাঁর বক্তব্যকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটির মুখপাত্র অবধেশ সিংহ বলেন, ‘‘তরুণ গগৈয়ের ১৫ বছরের কাজকর্ম নিয়ে গর্ব করা মতো কিছুই নেই। তাই কংগ্রেস এখন মুখ বাঁচাবার ফন্দি আঁটছে। তারা কখনও অসহিষ্ণুতা, কখনও সাম্প্রদায়িকতার কথা তুলছে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের অসমে আসতে দেখে ভয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দিশেহারা অবস্থা। তাই তিনি বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের অভিযোগ করছেন।’’ অবধেশবাবু এই প্রসঙ্গে পঞ্জাবের মনমোহন সিংহ ও উত্তরপ্রদেশের সঞ্জয় সিংহের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বলেন, ‘‘এই দুই বহিরাগতকে কংগ্রেসই অসমের সংসদ বানিয়েছে। যাঁরা কখনও অসমের জন্য কখনও কাজ করেননি।’’
অমিত শাহ এই মাসে ফের অসমে আসছেন বলে জানিয়ে অবধেশবাবু বলেন, ‘‘শাহ শিলচরে সভা করবেন। ডিমা হাসাও-সহ দক্ষিণ অসমের চার জেলার কর্মী-নেতাদের সঙ্গেও কথা বলবেন। সেই জন্য সাংগঠনিক পর্যায়ে আমরা তৈরি হচ্ছি।’’
বাংলাদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে যাঁরা এ দেশে এসেছেন— তাঁদের ভারতে বসবাসের অনুমতি দিয়ে কেন্দ্র ৭ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি-র জেলা সম্পাদক নীহাররঞ্জন দাস অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার এর কোনও সুবিধে সাধারণ মানুষকে দিতে আগ্রহী নয়। তাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেও ধরপাকড় চলছিল। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে এ বার তাদের বিজ্ঞপ্তি মেনে চলতে হবে। তাই অবশেষে এই অঞ্চলের মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন।
‘দীনদয়াল গ্রামজ্যোতি যোজনা’য় কাছাড়েও বহু এলাকা আলোকিত হয়ে উঠবে বলে দাবি করেন বিজেপি নেতারা। তাঁরা জানান, কেন্দ্র অসমের জন্য ১৪টি প্রকল্পে ১২৬৮ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে। এর মধ্যে কাছাড় পাচ্ছে ১৫৪ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা। যে সব গ্রামে একেবারেই বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি বা আংশিক পৌঁছেছে, সেগুলিকে পুরোপুরি বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। সে’জন্য ৭৭৪ কিলোমিটার এসটি লাইন এবং ৮৮০ কিলোমিটার এলটি লাইন টানা হবে। ফুলেরতল চিরিপুল ও শ্রীকোণা দামছড়ায় দুটি সাব-স্টেশন বসবে। যে সব গ্রামে পাওয়ার গ্রিডের লাইনই যায়নি, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে আলো জ্বালানো হবে বলে তাঁরা ভরসা দেন।
জাতীয় সড়ক নিয়ে অবধেশবাবু বলেন, ‘‘শালচাপড়া ও কাঁটাখালে দুটি উড়ালপুল এবং পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য কেন্দ্র ৪৯ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। মধুরামুখ থেকে ফুলেরতল অংশের জন্য মিলেছে আরও ২৩ কোটি টাকা। কাশীপুর-ফুলেরতল অংশে ১০ কোটি টাকার কাজ চলছে। ফুলেরতল-জিরিবাম বাইপাসের জন্য মঞ্জুর হয়েছে আরও ৫০ কোটি টাকা।’’
বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিত্যভূষণ দে জানান, কংগ্রেসিদের মোকাবিলায় এ বার তাঁরা আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন। মোদী সরকারের নানা প্রকল্প তাঁদের প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সেইসঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে সাংগঠনিক শক্তি। এরই মধ্যে কাছাড়ের প্রায় সবকটি বুথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৫ থেকে ৪০জন সদস্য নিয়ে কমিটি হচ্ছে।