তারা সুতারিয়ার মতে প্রেমের সম্পর্কের শর্ত কী? ছবি: সংগৃহীত।
প্রতিটা সম্পর্ক যেমন কিছু দুঃখ দিয়ে যায়, তেমনই শিখিয়েও যায় অনেক কিছু। এক সম্পর্কের ক্ষত সারিয়ে পরের সম্পর্কে যাওয়ার সময়ে সেই শিক্ষা সঙ্গে নিয়েই যান মানুষ। পুরনো আয়নায় ফেলে বিচার করেন নতুনের। মনমতো না হলে আবার অন্য সম্পর্কে কিংবা হয়তো 'যথেষ্ট হয়েছে' বলে কোনও সম্পর্কেই গেলেন না শেষমেশ। কারণ, তত দিনে সেই মানুষটি নিজের একটি বর্ম বানিয়ে ফেলেছেন। সেই বর্মের চাবিকাঠি হয়তো সম্পর্কের ব্যাপারে আপস না করা কোনও নীতি। তারা সুতারিয়ার ক্ষেত্রে সেই নীতি হল— তিনি সহজে কিছু ভুলবেন না, আর সহজে ক্ষমাও করবেন না।
এমনিতে তারার জীবনে প্রতিটি সম্পর্কই টেনে এনেছে বিতর্ক। আর সেই সব সম্পর্ক শেষ হয়েছে তিক্ততায়। করিনা কপূরের খুড়তুতো ভাই আদর জৈনের সঙ্গে চার বছরের সম্পর্ক ভাঙে আদর এক বান্ধবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথা ঘোষণা করার পরে। এর পরে বীর পাহাড়িয়ার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান অভিনেত্রী। এক বছর পরে সেই সম্পর্কও ভেঙে যায় এক কনসার্টে গায়ক এপি ধিলোঁর সঙ্গে তারার প্রকাশ্য চুম্বন ঘিরে বিতর্কের মাঝে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অরুণোদয় সিংহ, ঈশান খট্টর, বাদশার সঙ্গেও তারার সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা হয়েছে। সম্প্রতি রিয়া চক্রবর্তীর পডকাস্টে নায়িকাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রেমের সম্পর্কে কোন বিষয়গুলির সঙ্গে আপস করতে চান না তিনি। তারা বলেছেন, ‘‘প্রতারণা, মিথ্যা বলা, মুখোস পরে থাকা এবং অসততা সহ্য করতে পারি না। কারণ, আমি নিজে কখনও এগুলো কারও সঙ্গে করব না। একটা সম্পর্কে এগুলো আমার ন্যূনতম চাওয়া।
এপি ধিলোঁ (ডান দিকে)-র সঙ্গে কনসার্টের এক বিতর্কিত দৃশ্যের জেরে ভাঙে বীর পাহাড়িয়ার (বাঁ দিকে) সঙ্গে তারা সুতারিয়ার সম্পর্ক। ছবি: সংগৃহীত।
যে কোনও সম্পর্কেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভরসা এবং বিশ্বাস। উল্টো দিকের মানুষটিকে যদি বিশ্বাসই না করা যায়, তবে তাঁর সঙ্গে সারাটা জীবন কাটানো মুশকিল হয়ে পড়ে। কারণ, যিনি জীবনসঙ্গী হবেন তাঁর সঙ্গে জীবনের ভাল লাগা মন্দ লাগা ভাগ করে নেওয়া দস্তুর। তিনি যদি বিশ্বাসযোগ্যই না হন, তবে সেই ভাল লাগা বা মন্দ লাগার বিষয়টি জেনে নিয়ে তার অপপ্রয়োগও করতে পারেন তিনি। ক্ষতিও করতে পারেন।
যদিও রিয়া তারার শর্ত শুনে বলেছেন, ‘‘সহজ সরল এই জিনিসগুলো এ যুগে পাওয়া আর তত সহজ নয়।’’ জবাবে তারা বলেন, ‘‘এটাই আমারও বক্তব্য। জিনিসগুলো খুব সহজ। কিন্তু আমাদের প্রজন্ম বিষয়টাকে কঠিন বানিয়ে ফেলেছে। অথচ এই সহজ বিষয়গুলি মনে রাখা খুব কষ্টকর নয়।’’ তারার মতে, যে কোনও সম্পর্কেই এই কয়েকটি বিষয় প্রাথমিক প্রয়োজনের মধ্যে পড়ে। আর এই কয়েকটি শর্ত পূরণ না করলে সম্পর্ক ভাল হতে পারে না। তিনি বলেছেন, ‘‘আমার এইটুকুই চাওয়ার। কিন্তু কেউ যদি উল্টো কাজ করে, তা হলে আমি কখনও ক্ষমা করি না। আমি সেই রাগ মনে চেপে রাখি। তার জন্য নিজেও কষ্ট পাই। কিন্তু আমি ভুলতে পারি না।’’
যদিও যুগে যুগে গুণীজনেরা বলে এসেছেন, ক্ষমাই পরম ধর্ম। তার কারণও আছে। অন্যের প্রতি রাগ চেপে রাখার যে কষ্ট, তাতে তো নিজেরও ক্ষতি! নিজের স্বাভাবিক যাপনের ক্ষতি। তাই নিজের প্রতি ভালবাসা বা মমত্ব থাকলে, অতীতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। কারণ, নিজেকে ভাল না বাসলে, ভাল না রাখলে অন্যকে ভালবাসাও সম্ভব নয়।