শুভমন গিল। —ফাইল চিত্র।
আইপিএলের লিগ পর্বে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছে গুজরাত টাইটান্স। ১৪ ম্যাচের পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সঙ্গে পয়েন্ট সমান (১৮) হলেও নেট রান রেটের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন শুভমন গিলেরা। তা-ও আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে তাঁরাই এগিয়ে। আইপিএলের পরিসংখ্যানের ইঙ্গিত তেমনই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) একটি সিদ্ধান্তও সুবিধা করে দিয়েছে শুভমনদের।
২০১১ সাল থেকে আইপিএলে শুরু হয়েছে প্লেঅফ ফরম্যাট। লিগ শেষে প্রথম দু’দল সরাসরি প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলে। জয়ী দল চলে যায় ফাইনালে। লিগের তৃতীয় এবং চতুর্থ দলের মধ্যে হয় এলিমিনেটর ম্যাচ। জয়ী দল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের মুখোমুখি হয় প্রথম কোয়ালিফায়ারের পরাজিত দলের। তার পর দুই কোয়ালিফায়ারের জয়ী দল ফাইনাল খেলে। এই নিয়মে এ বার প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে গুজরাত এবং বেঙ্গালুরু। চতুর্থ স্থানে শেষ করা দলের সঙ্গে এলিমিনেটরে মুখোমুখি হবে হায়দরাবাদ। চতুর্থ দল হিসাবে প্লেঅফে ওঠার সুযোগ রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস, পঞ্জাব কিংস, কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের।
আইপিএলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি গুজরাতের। ২০১১ সালে প্লেঅফ শুরু হওয়ার পর আইপিএল হয়েছে ১৫ বার। এর মধ্যে লিগ পর্বে শীর্ষে শেষ করা দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাঁচ বার। তিন বার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স আর এক বার করে গুজরাত এবং কেকেআর। দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ন’বার। তার মধ্যে চেন্নাই সুপার কিংস চার বার, কেকেআর দু’বার, মুম্বই দু’বার এবং বেঙ্গালুরু এক বার। ২০১৬ সালে এক বার তৃতীয় স্থানে শেষ করা দল আইপিএল জিতেছে। এই কৃতিত্ব হায়দরাবাদের। লিগ পর্বে চতুর্থ স্থানে শেষ করা দল গত ১৫ বারে কখনও চ্যাম্পিয়ন হয়নি।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাত হেরে গেলেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে শুভমনদের সামনে। সে ক্ষেত্রে এলিমিনেটরে জয়ী দলকে হারাতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। আর বেঙ্গালুরুকে হারাতে পারলে সরাসরি ফাইনালে চলে যাবে। এ বার আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার এবং ফাইনাল হবে অহমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। যা গুজরাতের ঘরের মাঠও। অন্য সব দলের তুলনায় অহমদাবাদের ২২ গজের সঙ্গে অনেক বেশি পরিচিত শুভমনেরা। আবহাওয়ার সঙ্গেও মানিয়ে নিয়েছেন। লিগ পর্বে এই মাঠে সাতটি ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছেন তাঁরা। অথচ আইপিএলের রীতি অনুযায়ী এই সুবিধা এ বার পাওয়া উচিত ছিল গত বারের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরুর।
আইপিএলের পরিসংখ্যান যেমন গুজরাতের সঙ্গে রয়েছে, তেমনই বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের সুবিধাও পাবে। তাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে গুজরাত এগিয়ে বলে মনে করা হচ্ছে।