ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
দিব্যি প্যারাগ্লাইডিং করছিলেন এক তরুণী। হঠাৎ করে মাঝ-আকাশে হাজির হল উটকো বিপদ। একটি ছোট বিমানের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে যায় প্যারাগ্লাইডারের। প্যারাগ্লাইডিংটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়ে প্রায় মৃত্যুর মুখে পৌঁছে গিয়েছিলেন পর্যটক। ঘুরতে ঘুরতে মাটির দিকে পড়তে থাকেন তরুণী। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকেলে। উত্তর অস্ট্রিয়ার প্যারাগ্লাইডিংয়ের জন্য জনপ্রিয় স্থান শ্মিটেনহয়হে পর্বতের কাছে। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, প্যারাগ্লাইডারটিতে একটি ক্যামেরা লাগিয়ে উড়ছিলেন তরুণী। এমন সময় একটি পর্যটকবাহী বিমান হঠাৎ তাঁর মাথার মাত্র কয়েক ফুট উপর দিয়ে উড়ে আসে। সরাসরি তাঁর ক্যানোপির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের ফলে ক্যানোপির ডানাটি মাঝখান থেকে দু’ভাগ হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্যারাগ্লাইডার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে নীচে নামতে থাকেন। ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করেন তিনি। মূল ক্যানোপিটি ছিঁড়েখুঁড়ে একাকার হয়ে যাওয়ায় রিজ়ার্ভ প্যারাসুটের দিকে হাত বাড়ান তরুণী। মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই ভাগ্যক্রমে সেটি খুলতে সক্ষম হন তরুণী। সালজবার্গ স্টেট পুলিশ জানিয়েছে প্যারাগ্লাইডিং যিনি করছিলেন তাঁর নাম সাবরিনা। তিনি এক অভিজ্ঞ প্যারগ্লাইডার।
আহত সাবরিনাকে উদ্ধার করতে অস্ট্রিয়ার পুলিশ হেলিকপ্টারে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। পরীক্ষার জন্য স্থানীয় একটি বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সংবাদমাধ্যমে পুলিশ জানিয়েছে , ‘‘বিমানের প্রপেলারের আঘাতে প্যারাগ্লাইডারটি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অভিজ্ঞ প্যারাগ্লাইডার তাঁর অতিরিক্ত প্যারাসুটটি খুলতে বাধ্য হন। তার ফলে তিনি মারাত্মক দুর্ঘটনাটি এড়াতে পেরেছেন। পুলিশ জানিয়েছে তরুণী এবং বিমানচালক দু’জনেই গুরুতর আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। জ়েল আম সি বিমানবন্দরে অবতরণের পর ২৮ বছর বয়সি পাইলট কর্তৃপক্ষকে জানান যে তিনি সংঘর্ষটি এড়াতে পারেননি। ভিডিয়োটি এক্স হ্যান্ডলে ‘মারিয়োনওফাল’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করার পর তা ইতিমধ্যেই হাজার হাজার বার দেখা হয়েছে। ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি দেখে বহু নেটাগরিকই তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিন।’’