Viral Video

শেয়ারে ৫০ লক্ষের ক্ষতি, পুষিয়ে নিতে নিজেকেই ‘অপহরণ’! পরিবারকে পাঠালেন ভিডিয়োও, ফাঁস ‘ধুরন্ধর’ যুবকের কারসাজি

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবকের নাম জিগনেশ তলভিয়া। তিনি সুরতের মোটা ভারাছা এলাকার বাসিন্দা। ১২ জুন জিগনেশ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার আশঙ্কা করেছিল যে, অপহরণ করা হয়েছে তাঁকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৬:২২
Share:

ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।

নিজেই নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। পাঠিয়েছিলেন রেকর্ড করা ভুয়ো ভিডিয়োও। তবে শেষরক্ষা হল না। পুলিশের জালে গ্রেফতার গুজরাতের সুরতের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সি এক হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্ট্যান্ট)। অভিযোগ, তিনি নিজেই নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন। পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, শেয়ারবাজারে হওয়া বিপুল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্যই নিজেকে অপহরণের সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন যুবক। ওই যুবকের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবকের নাম জিগনেশ তলভিয়া। তিনি সুরতের মোটা ভারাছা এলাকার বাসিন্দা। ১২ জুন জিগনেশ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার আশঙ্কা করেছিল যে, অপহরণ করা হয়েছে তাঁকে। এর পরেই জিগনেশের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। জিগনেশ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী মীনাক্ষীবেন তভিয়া উত্রান থানায় স্বামী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর পরই নাকি মেসেজের মাধ্যমে উদ্বেগজনক সব বার্তা পেতে শুরু করে জিগনেশের পরিবার। সেই মেসেজে দাবি করা হয়, জিগনেশকে অপহরণ করা হয়েছে। ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিলে তবেই মুক্তি পাবেন তিনি। পরিবারকে পুলিশকে জানানো বা কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা থেকে বিরত থাকার হুমকিও দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের মতে মেসেজগুলিতে জিগনেশকে কঠোর পরিণতির হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল যে, যদি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয় তবে তাঁর মৃত্যুর জন্য পরিবারকেই দায়ী থাকতে হবে।

এর পর একটি ভিডিয়ো পাঠানো হয় জিগনেশের পরিবারকে। সেখানে দেখা যায়, জিগনেশকে হাত-পা বেঁধে বন্দি রাখা হয়েছে। এর পর জিগনেশের পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনেরা নিশ্চিত হয়ে যান যে তাঁকে সত্যিই অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণের ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুরত পুলিশ তদন্ত শুরু করে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বার করতে তদন্তকারী আধিকারিকেরা সিসিটিভি ফুটেজ, কারিগরি নজরদারি এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তা নেন।

Advertisement

তদন্তকারীরা জিগনেশের গতিবিধি অনুসরণ করার সময় বিভিন্ন স্থান থেকে সূত্র পেতে থাকেন। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষের ধারণা হয় যে তিনি মধ্যপ্রদেশে রয়েছেন। এর পরে জিগনেশের পরিবারকে আরও একটি ভিডিয়ো পাঠনো হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় যে মুক্তিপণ না দিলে তাঁর মৃতদেহ ফেরত পাঠানো হবে। তবে পুলিশের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে ভিডিয়োগুলির মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্তকারীরা পরে নিশ্চিত হন যে ভিডিয়োগুলির একটি গোধরায় ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছিল।

১৫ জুন তদন্তে বড় সাফল্য আসে। পুলিশ গুজরাতের পঞ্চমহল জেলার গোধরার একটি হোটেলে জিগনেশকে খুঁজে পান। তা-ও সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায়। একটি আঁচড়ও পড়েনি তাঁর গায়ে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিগনেশ স্বীকার করেন যে অপহরণের পুরো নাটকটি তিনি নিজেই সাজিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা জানান, অপহরণের ঘটনাটি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্যই তিনি মুক্তিপণের বার্তাগুলি লিখেছিলেন এবং বন্দি অবস্থার ভিডিয়ো ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।

পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, কোনও সহায়তা ছাড়াই নিজেকে বেঁধেছিলেন জিগনেশ। ওই অবস্থাতে ভিডিয়োও শুট করেছিলেন। সুরতের অলোক কুমার ঝালা জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে ‘অপশন ট্রেডিং’য়ে ৫০-৬০ লাখ টাকা খুইয়েছিলেন জিগনেশ। ঋণও করেছিলেন। সেই টাকা তোলার জন্যই নাকি নিজেকে অপহরণের ছক কষেন তিনি। খবর, ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে জিগনেশকে। ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’-র একাধিক ধারায় মামলাও দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, জিগনেশকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে। সমাজমাধ্যমেও হইচই ফেলেছে বিষয়টি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement