ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
স্কুলবাস চালাতে চালাতে মাঝরাস্তাতেই জ্ঞান হারিয়েছিলেন মহিলা চালক। নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে বাসটিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করল পাঁচ জন স্কুলপড়ুয়া। আমেরিকার মিসিসিপিতে ঘটে যাওয়া তেমনই একটা নাটকীয় ঘটনা দেশব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সেই ঘটনাটির টান টান একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। হইচই ফেলেছে সমাজমাধ্যমেও। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটে। মিসিসিপির হ্যানকক কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট স্কুলের বাসের চালক লিয়া টেলর কিশোর পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়ার সময় হাঁপানিতে আক্রান্ত হন। জ্ঞান হারিয়ে স্টিয়ারিং হুইলের সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। চলন্ত বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে থাকে। বাসটিকে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে চলতে দেখে টনক নড়ে বাসে থাকা পড়ুয়াদের। সামনের দিকে বসা এক জন ছাত্র কিছু একটা ভুল হয়েছে বুঝতে পেরে ছুটে গিয়ে স্টিয়ারিং হুইল ধরে ফেলে। তাকে দেখে ছুটে আসে বাকি পড়ুয়ারা। তবে বাসচালকের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকলেও বাসটি সোজা চলতে থাকে। টেলর কিছু ক্ষণের জন্য জ্ঞান ফিরে পেলেও মুহূর্ত পরেই আবার জ্ঞান হারান।
এর পর আতঙ্কিত না হয়ে স্কুলের পাঁচ ছাত্র-ছাত্রী ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এক ছাত্র চালকের আসনে গিয়ে ব্রেক চেপে বাসটিকে নিরাপদে থামিয়ে দেয়। একই সময়ে অন্য এক জন বাসচালকের হাতে থাকা ওষুধ তাঁর উপর প্রয়োগ করে। সাহায্যের জন্য ফোন করে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার চেষ্টা করে তৃতীয় এক পড়ুয়া। বাকি দু’জন বাসে থাকা বাকি পড়ুয়াদের শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকে। পাঁচ পড়ুয়ার দ্রুত পদক্ষেপে সম্ভাব্য গুরুতর দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় বাসটি। প্রাণ বাঁচে বাসে থাকা প্রায় এক ডজন ছাত্র-ছাত্রীর। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ওই পাঁচ পড়ুয়ার সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছে তাদের স্কুল। হ্যানকক মিডল স্কুলের অধ্যক্ষ মেলিসা সসিয়ার শিক্ষার্থীদের সংযম এবং দলবদ্ধ কাজের প্রশংসা করেছেন। সসিয়ার সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘এই জরুরি পরিস্থিতি অবশ্যই মারাত্মক হতে পারত এবং তারা ঠিক যে ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া উচিত ছিল, সে ভাবেই দিয়েছে। আমরা ওদের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত।’’ পরবর্তী কালে স্কুলের একটি উৎসাহমূলক সমাবেশে ম্যাকেনজি ফিঞ্চ, জ্যাকসন ক্যাসনাভ, ড্যারিয়াস ক্লার্ক, কেইলি ক্লার্ক এবং ডেস্টিনি কর্নেলিয়াস নামের এই পাঁচ শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীরা করতালির মাধ্যমে তাদের সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেন। অন্য দিকে, অসুস্থ বাসচালকও সুস্থ হওয়ার পর ওই পাঁচ পড়ুয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ওই পাঁচ পড়ুয়ার বীরত্বের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমের একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছে ‘কলিন রাগ’ এবং ‘ব্র্যান্ডন টাটুম’ নামের দু’টি এক্স হ্যান্ডল থেকেও। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই অনেকেই ওই পাঁচ পড়ুয়ার সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।