ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
আগে থেকেই পাঁচ সন্তানের মা। এর মধ্যে রয়েছে এক পুত্রও। দ্বিতীয় পুত্রের আশায় আবার অন্তঃসত্ত্বা হলেন রাজস্থানের ২২ বছর বয়সি এক বধূ। জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করে ধমক দিলেন মহিলা চিকিৎসক। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলার বারৌতের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রজ্ঞা তোমর নামে এক জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের ক্লিনিকে ঘটেছে। প্রথমে তিনিই সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োটি শেয়ার করেছেন। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ওই চিকিৎসকের কাছে এসেছেন এক প্রসূতি। তিনি রাজস্থানের বাসিন্দা। চিকিৎসক প্রজ্ঞা ওই বধূকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন যে তাঁর বয়স ২২ বছর এবং পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন। বধূ আরও জানান, তাঁর ইতিমধ্যেই পাঁচটি সন্তান রয়েছে যাদের মধ্যে এক পুত্র। তাঁর পরিবার আরও একটি পুত্রসন্তানের প্রত্যাশা করছে।
রাজস্থানের ওই বধূর সঙ্গে তাঁর স্বামীও গিয়েছিলেন চিকিৎসকের কাছে। বিয়ে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে দম্পতি জানান যে তাঁরা রাজস্থানের বাসিন্দা এবং তাঁদের বাল্যবিবাহ হয়েছিল। এর পর মহিলা চিকিৎসক জানতে পারেন যে, তরুণী বধূর বড় সন্তানের বয়স আট বছর। চার মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে তাঁর। এত অল্প বয়সে এত বার গর্ভধারণের ঘটনায় অবাক হয়ে মহিলা চিকিৎসক তরুণীকে জিজ্ঞাসা করেন, তাঁরা কোনও গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করেন কি না এবং কেন তাঁরা বার বার সন্তান নিচ্ছেন। উত্তরে তরুণী জানান যে, তাঁর পর পর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। একটি মাত্র পুত্র। তাই আরও একটি পুত্রসন্তান পাওয়ার আশা রয়েছে তাঁর এবং পরিবারের।
বাক্রুদ্ধ হয়ে যান চিকিৎসক। পুত্রসন্তানের প্রতি ঝোঁকের কারণে বার বার গর্ভধারণ একজন মহিলার স্বাস্থ্যের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা বুঝিয়ে বলেন। তরুণী বধূ মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্ট-সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন প্রজ্ঞাকে। উত্তরে চিকিৎসক জানান, দু’টি গর্ভধারণের মধ্যে ব্যবধান থাকা উচিত ছিল। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকির কথা বলে সতর্কও করেন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ডক্টর.প্রজ্ঞাওয়েলনেস’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনকে। বংশধারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নামে মহিলাদের উপর প্রায়শই যে চাপ সৃষ্টি করা হয়, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। সমালোচনা এবং বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছে। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘যখন আপনি আপনার পরিবারের জন্য খাদ্য, বাসস্থান এবং পোশাকের জোগান দিতেই অক্ষম, তখন বংশধারা টিকিয়ে রাখার কী প্রয়োজন?’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘বধূর স্বামীর প্রতি এক বিন্দুও শ্রদ্ধা নেই আমার। এঁদের মতো মানুষকে ধরে জেলে পুরে দেওয়া উচিত।’’