Concrete dam

সীতারামপুরে কংক্রিটের বাঁধ, জেটিঘাট

সে সময়ে বাঁধ মেরামতির জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ফেরত চলে যায় সেই অর্থ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৯
Share:

এখানে তৈরি হবে কংক্রিটের নদী বাঁধ। ছবি: সমরেশ মণ্ডল।

বার বার ভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও কটালের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হল সেচ দফতর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের জি-প্লট পঞ্চায়েতের সীতারামপুর এলাকায় ৭১০ মিটার দীর্ঘ মাটির নদীবাঁধের বদলে তৈরি হবে স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই বাঁধের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। সোমবার সেখানে স্থায়ী জেটিঘাটেরও উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন এলাকার বিধায়ক সমীরকুমার জানা।

সুন্দরবনের উপকূলবর্তী সীতারামপুর দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আয়লা থেকে শুরু করে বুলবুল, আমপান এবং ইয়াসের মতো প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগেই ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই অঞ্চল। প্রবল জলোচ্ছ্বাস, পূর্ণিমা ও অমাবস্যার কটালে নদীর জলস্তর বিপজ্জনক ভাবে বেড়ে গিয়ে একাধিকবার বাঁধ ভেঙেছে বা ধসে পড়েছে। নোনা জল ঢুকে পড়েছে গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, চাষের জমি ও মাছের ভেড়ি। বহু পরিবারকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে বারবার। সেখানে কংক্রিটের বাঁধ তৈরি হওয়ার কথা জেনেআশাবাদী স্থানীয় মানুষ।

পাথরপ্রতিমা বিধানসভা কেন্দ্রে নদী-সমুদ্রবেষ্টিত ১৫টি দ্বীপ রয়েছে। কোনও মতে নোনা জল আটকানো গেলেও স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ না থাকায় পূর্ণিমা বা অমাবস্যার কটাল এলেই বাড়ত দুশ্চিন্তা। ২০০৯ সালের আয়লায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই পাথরপ্রতিমাই। সে সময়ে বাঁধ মেরামতির জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ফেরত চলে যায় সেই অর্থ। তা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন ওঠে। এ বার কংক্রিটের বাঁধ হলে সমস্যা মিটবে বলে দাবি করেছেন বিধায়ক। সেচ ও জলপথ দফতরের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান সমীর বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে এই কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করছে।’’

সেচ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন কংক্রিটের নদীবাঁধটি আধুনিক প্রযুক্তিতে শক্তিশালী ফাউন্ডেশন ও সুরক্ষিত কাঠামোয় নির্মিত হবে, যাতে উচ্চ জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের চাপ সামলানো যায়। দফতরের দাবি, এই বাঁধ তৈরি হলে সীতারামপুর ও সংলগ্ন গোবর্ধনপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা ভবিষ্যতে নদীভাঙনের হাত থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। বিধায়ক বলেন, ‘‘আয়লার সময়ের নদীবাঁধ দীর্ঘদিন মাটিরই ছিল। বঙ্গোপসাগরের কোলে এই বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।’’ স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ জানা বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। বর্ষার আগে যদি কাজ শেষ হয়, তা হলে অনেকটাই নিরাপদে বসবাস করা যাবে।’’

পাশাপাশি, উত্তর সীতারামপুর এলাকায় পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে লক্ষাধিক টাকার ব্যয়ে একটি স্থায়ী জেটিঘাট তৈরি করা হচ্ছে। সোমবার তার উদ্বোধনে সেচ দফতরের আধিকারিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন