West Bengal Elections 2026

প্রার্থী বদলে আসন রক্ষার চেষ্টা তৃণমূলের

এবারের লড়াই মূলত ত্রিমুখী। তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপির অবনী নস্কর এবং আইএসএফ প্রার্থী আব্দুল মালেক মোল্লার সঙ্গে।

সৈকত ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১১
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ব্রিটিশ আমলে সুন্দরবনের দক্ষিণপ্রান্তে শেষ থানা গড়ে উঠেছিল কুলপিতে। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই জনপদের নাম। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি কুলপি বিধানসভা কেন্দ্রে বাম জমানাতেই জয় ছিনিয়ে এনেছিল জোড়াফুল। ২০০১ সাল থেকে পর পর চার বার তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হন যোগরঞ্জন হালদার। তবে এবার প্রার্থী করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত বর্ণালী ধাড়াকে। জয়ের ব্যাপারে তৃণমূল আত্মবিশ্বাসী হলেও গত কয়েক বছরে রাজনীতির চিত্র অনেকটাই বদলেছে। তাই জয়ের পথে বাধাও অনেক, মানছেন দলেরই কেউ কেউ।

এবারের লড়াই মূলত ত্রিমুখী। তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপির অবনী নস্কর এবং আইএসএফ প্রার্থী আব্দুল মালেক মোল্লার সঙ্গে। দীর্ঘ কুড়ি বছর পরে এই কেন্দ্র থেকে একক ভাবে লড়াই করছে কংগ্রেসও।

এই বিধানসভায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বহু বার প্রকাশ্যে এসেছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরলে সেই দ্বন্দ্ব ভয়াবহ রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের উচ্চ নেতৃত্বকে আসরে নামতে হয়। এবার কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল দলের অন্দরে। শেষ পর্যন্ত টিকিট পান বর্ণালী।

তিনি রাজনীতিতে নতুন। প্রার্থীর হয়ে প্রচারে দলের একাধিক অঞ্চল স্তরের নেতা, এমনকী সাংসদকে দেখা গেলেও দেখা যায়নি বিদায়ী বিধায়ক যোগরঞ্জনকে। তৃণমূলের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারছেন না। যোগরঞ্জনের নিজের পরিচিতি আছে এলাকায়। বর্ণালীকে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছেবলে মনে করছেন কর্মী-সমর্থকদের একাংশ।

মাটি কামড়ে পড়ে আছেন বিরোধী প্রার্থীরাও। বাড়ি বাড়ি প্রচারে জোর দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অবনী নস্কর। বিজেপির জেলা সভাপতি নবেন্দুসুন্দর নস্করও এই বিধানসভার বাসিন্দা। প্রার্থী তাঁর আত্মীয়। বিজেপির দাবি, বিধানসভার ১৪টি পঞ্চায়েতের মধ্যে রামকিশোর, কামারচক, করঞ্জলি, বেলপুকুর, রামকৃষ্ণপুর, রামনগর গাজিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় ভাল ফল করবে। তা ছাড়া, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেকারত্বের সমস্যা, ভোট সন্ত্রাস নিয়ে প্রচারে জোর দিয়েছে বিজেপি।

অন্য দিকে, বাম সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন আইএসএফ প্রার্থী আব্দুল মালেক মোল্লা। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে জোর দিয়েছেন তিনি। গত বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ ১৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল। ইতিমধ্যে কিছুটা শক্তি বাড়িয়েছে তারা৷ গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল। এবার বিজেপি ও আইএসএফের জোড়া আক্রমণ, অন্য দিকে এসআইআর-এর পরে বহু মানুষের নাম বাদ যাওয়া— সব মিলিয়ে চাপের মুখে তৃণমূল।

বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘‘তৃণমূলকে মানুষ আর চাইছে না। সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন হলে আমরাই জিতব।’’ আইএসএফ প্রার্থী আব্দুল মালেক মোল্লার কথায়, ‘‘তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে আমরাই লড়াই করছি। আমরাই বিকল্প।’’ তবে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘‘বিরোধীরা যা-ই বলুক, তৃণমূল সরকারের মাধ্যমে মানুষ উপকৃত। উন্নয়নের নিরিখেই ভোট হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন