WB Irrigation Department

শ্রমিকদের সুরক্ষা বর্ম দেবে ঠিকাদার সংস্থা, বাধ্যতামূলক সেচের দরপত্রে

রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘১৩০০ কিলোমিটার খাল রয়েছে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায়। যেখানে প্রচুর মানুষ সংস্কারের কাজে জড়িত। আমরা চাই না, তাঁরা কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুর সম্মুখীন হন। তাই ঠিকাদার সংস্থাকে শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বিধানসভা ভোটের আগে সেচ শ্রমিকদের কাজের সময়ে নিরাপত্তা দিতে নড়েচড়ে বসল সেচ দফতর। খালের পানা পরিষ্কার-সহ সংস্কার করতে গিয়ে সাপ-বিছের কামড় খাওয়া নিত্য দিনের ঘটনা। পরিস্থিতি বদলাতে এ বার খাল সংস্কারের কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদার সংস্থাকে শ্রমিকদের জন্য গামবুট, দস্তানা এবং শরীর ঢাকার বিশেষ পোশাকের ব্যবস্থা করতে হবে। এ নিয়ে দরপত্রে আলাদা ভাবে উল্লেখ থাকবে।

রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘১৩০০ কিলোমিটার খাল রয়েছে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায়। যেখানে প্রচুর মানুষ সংস্কারের কাজে জড়িত। আমরা চাই না, তাঁরা কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুর সম্মুখীন হন। তাই ঠিকাদার সংস্থাকে শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।’’ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব কৃষ্ণ গুপ্ত জানান, সেচ দফতর বিশেষ কমিটি তৈরি করছে, যেখানে কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিও থাকবেন। তিনি বলেন, ‘‘শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনা করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শ্রমিকদের জন্য বিশেষ পোশাক, গামবুট, দস্তানা, মাস্কের ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি দরপত্রে বাধ্যতামূলক করা হবে।’’

উল্লেখ্য, কলকাতা ও তার আশপাশের খালের জলে বর্জ্যের কারণে দূষিত গ্যাস জমে থাকে। খালের পলির মধ্যে ইনজেকশনের সুচ, অ্যাম্পুল মিশে থাকে। কচুরিপানায় সাপ-বিছের উপদ্রব তো থাকেই। তাই খালে কাজ করতে নেমে নানা ভাবে বিপদের শিকার হন পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে শ্রমিকেরা। চর্মরোগ, স্ত্রীরোগ বা সংক্রমণেআক্রান্ত হন অনেকে। আধিকারিকেরা জানান, ওই বিশেষ পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম ঠিকাদারকে দিতে হবে এবং সেগুলির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।

এ দিকে এ দিন আরও কিছু সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেছে সেচ দফতর। সেচমন্ত্রী জানান, ২০০ কোটি টাকার নদী বন্ধন প্রকল্পের আওতায় জলঙ্গী ও ইছামতী নদীর পলি নিষ্কাশন ও জলের প্রবাহ বাধামুক্ত করা হবে। সেই কাজের মাস্টার প্ল্যান তৈরির পরামর্শের জন্য আগামী সপ্তাহে একটি জার্মান সংস্থার সঙ্গে মৌ স্বাক্ষর করবে সেচ দফতর। এর পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গে নদী ভাঙন ঠেকাতে বৃক্ষরোপণের একটি বৃহৎ প্রকল্প নেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সেচ দফতর জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে টাকা না পাওয়ায় রাজ্য সরকার ‘নো কস্ট ড্রেজ়িং’ পদ্ধতিতে বিভিন্ন নদীর সংস্কার শুরু করেছে। যেখানে ঠিকাদার সংস্থা পলি তোলার কাজের জন্য সেচ দফতরকে টাকা দিচ্ছে। এ ভাবে সেচ দফতর ১৫২ কোটি টাকা আয় করেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন