—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বাবার পরে ছেলে। বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে এই পদ্ধতিতেই। ভরা বাম আমলে এই কেন্দ্রে জিতেছিলেন কংগ্রেসের (পরে তৃণমূলে) মানিক উপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুর পরে, পর পর তিন বার তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসছেন ছেলে বিধান উপাধ্যায়। তৃণমূল যখন এ বারওআস্থা রেখেছে তাঁর উপরে, বিজেপিতে তখন জোর বিতর্ক দলে পরিবারতন্ত্র কায়েমের প্রশ্নেই।
সালানপুর ও বারাবনি ব্লকের ১৯টি পঞ্চায়েত, দু’টি পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ে গঠিত বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্র। গোটা এলাকায় সিপিএম এবং বিজেপির এক জন করে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য আছেন। পঞ্চায়েত সমিতির ৫১টি ও জেলা পরিষদের চারটি আসনই তৃণমূলের দখলে। গত ১৫ বছর ধরে বিধায়ক রয়েছেন বিধান। তৃণমূল সূত্রের খবর, এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সমস্যা নেই। বিধানের বাবা মানিক উপাধ্যায় ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিন বার বিধায়ক হয়েছিলেন। ‘যখন ডাকি তখন পাই’, এই স্লোগানে এলাকার মানুষচিনতেন তাঁকে। জেলায় বাম বিরোধী লড়াইয়ে সামনের দিকে ছিলেন তিনি। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, বিধায়ক হিসেবে বিধানও এলাকাই তেমন পরিচিতি পেয়েছেন।
তবে উদ্বেগও রয়েছে তৃণমূলে। কারণ, ২০২১ সালে সালানপুর ব্লকে যে ব্যবধানে দল এগিয়েছিল, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তা হাজার ছয়েক কমেছে। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে এক কর্মিসভায়এ প্রসঙ্গে বিধান বলেছেন, ‘তৃণমূলকে অন্য কেউ নয়, তৃণমূলই হারাতে পারে।’ তার পরে জল্পনা তৈরি হয়েছে ব্লকে সংগঠনের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে।
বিধান যদিও বলছেন, ‘‘৩৪ বছরে যা হয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি কাজ ১৫ বছরে আমরা করেছি। প্রচুর স্কুলের উন্নতিহয়েছে। এমন কোনও এলাকা নেই, যেখানে পরিষেবার উন্নয়ন হয়নি। জলের সমস্যা কিছু জায়গায় আছে। সমাধান হয়ে যাবে। এর পরে কলেজ ও হাসপাতালের জন্য চেষ্টা করব।’’
এই ফাঁকফোকর কাজে লাগাতে চায় বিজেপি। ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সময়ে এই এলাকায় দলের নেতা-কর্মীরা তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠার পরেবিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল ভয় পেয়েছে। তবে দলের একটি অংশের দাবি, ওই সময়ে দলের আসানসোল জেলা সাধারণ সম্পাদক অরিজিৎ রায়ের অনুগামী বলে পরিচিত প্রায় ৬০ জন কর্মী-সমর্থক ছাড়া আরকেউ না থাকায়, আক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়নি। তাই দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চিন্তা বিজেপির।
বিজেপি সূত্রের দাবি, ২০১৬ সালে অরিজিতের বাবা অমল রায় তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হন। ২০২১ সালে অরিজিৎ প্রার্থী হয়েছিলেন। এ বার যে ২৯ জন প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করেছেন, তাঁদের মধ্যে অরিজিৎ ছাড়াও, তাঁর একাধিক আত্মীয়-পরিজনের নাম রয়েছে বলে দাবি। অরিজিতের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দলেরই এক নেতা থানায় মারধরের অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বিজেপি নেতা-কর্মীদের একাংশ বার বার একই পরিবার প্রার্থী করার বিষয়টি মানতে চান না বলে দাবি।
তবে অরিজিতের বক্তব্য, ‘‘দল সব দিক বিবেচনা করে যোগ্যকে প্রার্থিপদ দেবে। এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে লাভ নেই। যিনিই প্রার্থী হবেন, দলের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁর পাশে থাকবেন।’’ তাঁর দাবি, ‘‘গত ১৫ বছরে তৃণমূলের বিধায়ক এলাকায় জল-সহ নানা সমস্যার কোনও সুরাহা করতে পারেননি। বালি-কয়লার লুটের সাম্রাজ্য তৈরি হয়েছে। কোনও কর্মসংস্থান হয়নি। এলাকার মানুষ এ বার পরিত্রাণ চাইছেন।’’
গত বিধানসভা ভোটে আসন সমঝোতায় এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। তেমন দাগ কাটতে পারেনি তারা। গত লোকসভা ভোটেও বাম-কংগ্রেস এখানে ৮ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পায়। এ বার দু’দলই আলাদা লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দু’পক্ষেরই দাবি, ভাল লড়াইয়েথাকবে তারা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে