Health Services

দীর্ঘ দিন আটকে স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন পোস্টিং, আপস পরিষেবায়

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পোস্টিং ও বদলিতে স্বজনপোষণ, অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১০:২৮
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কোনও পদে পদোন্নতি হয়েছে এক বছর আগে। কোথাও দেড় বছর পার হয়ে গিয়েছে। কোনওটিতে পদোন্নতির ইন্টারভিউ হয়ে গেলেও প্রায় ১০ মাস ধরে ফলাফলই বেরোয়নি!

রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের পোস্টিংয়ে লাগামহীন স্বজনপোষণ ও বিশেষ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। তা নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে প্রতিবাদের সাহস দেখাতে পারেন না অধিকাংশ চিকিৎসক-আধিকারিকই। তাঁদের কথায়, ‘‘প্রতিবাদ করলে, শাস্তিস্বরূপ কোথায় পোস্টিং দেওয়া হবে, তা নিয়েই আতঙ্কে কাটাতে হয়েছে।’’ স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরের খবর, দিনের পর দিন হেল্থ সার্ভিসের বিভিন্ন পদে পোস্টিং সংক্রান্ত ফাইল প্রশাসনের শীর্ষ মহলে পড়ে থেকেছে। ফাঁকা পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপানো হয়েছে অন্য বিভাগের আধিকারিকের উপরে। কোথাও অবসরের পরেও রেখে দেওয়া হয়েছে আধিকারিককে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পোস্টিং ও বদলিতে স্বজনপোষণ, অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। তবে পোস্টিং কবে হবে, সংশয় কাটেনি। সদুত্তর মেলেনি স্বাস্থ্যকর্তাদের তরফেও।

হেল্থ সার্ভিস ক্যাডারে গত বছরের ১৬ এপ্রিল ৯৩ জন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) পদোন্নতি পেয়ে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ মেডিক্যাল অফিসার অব হেল্থ’ (এসিএমওএইচ) হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে শুধু বিশেষ গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ কয়েক জনকেই পোস্টিং দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর ১৮ জন এসিএমওএইচ পদোন্নতি পেয়ে ডিএডিএইচএস (ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব হেল্থ সার্ভিস) হয়েছেন। কিন্তু পোস্টিং হয়নি।

আবার, গত বছরের ১৯ মার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব হেল্থ সার্ভিস (এডিএইচএস) পদে পদোন্নতি হয়েছে ন’জন ডিএডিএইচএস-এর। ওই অফিসারদের জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন বিভাগে পোস্টিং পাওয়ার কথা। কিন্তু কিছুই হয়নি। আর, গত বছরের ২৮ ও ২৯ অগস্ট এডিএইচএস থেকে ডেপুটি ডিরেক্টর অব হেল্থ সার্ভিস (ডিডিএইচএস) পদে পদোন্নতির ইন্টারভিউ হলেও ফলাফল আজও প্রকাশিত হয়নি।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কুকুর বা সাপে কামড়ানোর প্রতিষেধক, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও জরুরি পরিষেবা, জেলায় মা ও শিশু স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা, ব্লাড সেফটি, টিকাদান থেকে মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ট্রেনিংয়ের বিভাগ-সহ বিভিন্ন পরিষেবার প্রশাসনিক কাজে যুক্ত থাকেন হেল্থ সার্ভিসের এই চিকিৎসক-আধিকারিকেরা। কিন্তু দিনের পর দিন নতুন পোস্টিং না হওয়ায় বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।

বিধায়ক, চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু সুষ্ঠু স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকে যে তাঁর নজর ছিল না, সেটাই প্রমাণ হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন