Kolkata Municipal Corporation Chaos

কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা! ঢুকতেই পারলেন না কাউন্সিলরেরা, বাইরে সভা বসালেন মালা, ফিরহাদেরা

কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা। ভিতরে ঢুকতেই পারলেন না কাউন্সিলরেরা। তৃণমূল সাংসদ মালা রায় পুরসভার চেয়ারপার্সন। তিনি বাধ্য হয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরে সভা বসান।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১৪:১৮
Share:

কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষের বাইরে সভা বসেছে। —নিজস্ব চিত্র।

কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা। ভিতরে ঢুকতেই পারলেন না কাউন্সিলরেরা। তৃণমূল সাংসদ মালা রায় পুরসভার চেয়ারপার্সন। তিনি বাধ্য হয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরে সভা বসান। ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। মূলত তৃণমূল কাউন্সিলরেরাই এই অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। অন্য কোনও দল সেখানে নেই।

Advertisement

কলকাতা পুরসভায় অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে কেউ মনে করতে পারছেন না। শুক্রবার পুরসভার মাসিক অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী কাউন্সিলরেরা এসেছিলেন। কিন্তু অধিবেশন কক্ষে তাঁরা ঢুকতে পারেননি। অভিযোগ, ঘরে তালা দেওয়া ছিল। অধিবেশনের জন্য ঘরটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন মালা নিজে। কিন্তু তার পরেও তালা খোলা হয়নি। অভিযোগ, নতুন সেক্রেটারি জানিয়ে দেন, তিনি এখনও দায়িত্ব নেননি। তাই চাবি দিতে পারবেন না। এর পর মালা অধিবেশন কক্ষের বাইরে কাউন্সিলর্‌স ক্লাব রুমে সভা বসান। ওই ঘরে অধিবেশনের উপযুক্ত আসনবিন্যাস নেই। নেই মাইকের ব্যবস্থাও। চেয়ার-টেবিলগুলিকে কাউন্সিলরেরা নিজেরাই সরিয়ে ঘরটিকে অধিবেশনের উপযুক্ত করার চেষ্টা করেন। তার পর সভা শুরু হয়। মাইক ছাড়াই সেখানে নিজের বক্তব্য জানান ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ।

অতীনের পর অধিবেশনে বলতে ওঠেন ফিরহাদ। তখন একটি মাইকের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। ফিরহাদ বলেন, ‘‘হাউস খোলা এবং বন্ধ করা চেয়ারপার্সনের কাজ। আজ যা হল, অত্যন্ত দুঃখের, অপমানের। এখানে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি গণতন্ত্রের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য। এই লড়াই আমরা চালিয়ে যাব। রাজ্য সরকারকে বলব, কাজ করতে হবে। বর্ষা এলে শহরে জল জমলে কে দায়িত্ব নেবে? কলকাতায় কোনও বিপর্যয় হলে দায়িত্ব কে নেবে? নির্বাচিত সদস্যদের না মানলে তো সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হবে। গণতন্ত্রের উপরে কেউ নেই।’’

Advertisement

ক্লাব রুমে অধিবেশন শুরুর আগে এ বিষয়ে তেমন কোনও মন্তব্য করতে মালা রাজি হননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি তালা খুলে দেওয়ার কথা বলে পাঠিয়েছিলাম। অধিবেশন করব। আমরা প্রত্যেকেই এখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু এখনও সেই তালা খোলা হয়নি। তাই আমরা এখানে অধিবেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকি কথা পরে জানাব।’’

এই ঘটনায় তৃণমূল মুখপাত্র তথা কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। পুরসভার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘হতে পারে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু পুরসভা এখনও বৈধ। ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তার বৈধতা রয়েছে। পুরসভার অধিবেশনে সাধারণ মানুষের পরিষেবা নিয়ে কাজ হয়, আলোচনা হয়। তা বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগে এমনটা কখনও হয়নি।’’

মালা পরে বলেন, ‘‘কার নির্দেশে অধিবেশন কক্ষ বন্ধ রাখা হল, আমাদের কেন অধিবেশন করতে দেওয়া হল না, চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছি। তার কোনও উত্তর এখনও পাইনি। সরকারে যে কেউ আসতে পারে। কিন্তু এটা নির্বাচিত পুর বোর্ড। অধিবেশন কক্ষ বন্ধ করে এমন ঘটনা আগে কখনও দেখিনি। এটা ইতিহাস হয়ে রইল।’’

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু রাজধানী কলকাতা এখনও তৃণমূলের দখলে রয়েছে। পুরসভায় ক্ষমতাসীন তারাই। অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল পরিচালিত সেই পুরসভার কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই কারণেই শুক্রবার এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হল শহরে। কাউন্সিলরদের অধিবেশনে কী আলোচনা হয়, সভা শেষে মালা-ফিরহাদেরা মুখ খোলেন কি না, সেটাই দেখার। এ বিষয়ে বিজেপির তরফে এখনও কেউ কোনও মন্তব্য করেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement