Coronavirus

টানাটানি শেষে দাহ সাহুডাঙি শ্মশানে

সরকারি সূত্রের খবর, রবিবার গভীর রাতে মহিলার মৃত্যুর পর ঠিক হয়, ভোরের আলো ফুটতেই দেহ বিধি মেনে প্যাকেটবন্দি করা হবে।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০২:৫২
Share:

করোনায় মৃত মহিলার দেহ সৎকারের পথে স্বাস্থ্য কর্মীরা। রয়েছেন শিলিগুড়ির দমকল কর্মীরাও। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক

রাজ্যে প্রথম করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর পরে দাহ করা নিয়ে বিস্তর টানাপড়েন চলেছিল। দ্বিতীয় মৃত্যুর ক্ষেত্রেও অন্যথা হল না।

Advertisement

করোনা আক্রান্ত কালিম্পংয়ের বাসিন্দা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে মারা যান রবিবার রাত দু’টো নাগাদ। কিন্তু দেহ দাহ করার কাজ শেষ হতে লেগে যায় প্রায় পনেরো ঘণ্টা। তার মাঝে দাহ করার শ্মশান, শ্মশানে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের চালক, দেহ হাসপাতাল থেকে বের করার কর্মী জোগাড় করা—সব বিষয়েই বিষয় নিয়ে তীব্র টানাপড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত শহরের বাইরে সাহুডাঙি শ্মশানে মহিলার শেষকৃত্য হয়। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল থেকে যা ১২ কিলোমিটার দূরে।

সরকারি সূত্রের খবর, রবিবার গভীর রাতে মহিলার মৃত্যুর পর ঠিক হয়, ভোরের আলো ফুটতেই দেহ বিধি মেনে প্যাকেটবন্দি করা হবে। করোনা মৃত্যুর ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ, কোনওভাবে মৃতের শরীরের লালারস, রক্ত বা কোনও ফ্লুইড বাইরে যেন বাইরে না পরে, এমন ব্যবস্থা নিতে হবে।

Advertisement

সরকারি সূত্রে খবর, সকালে প্রথম আপত্তি তোলেন মেডিক্যাল কলেজের সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স চালকরা। দেহ নিয়ে যেতে রাজি হননি কেউই। তখন ঠিক ছিল, শিলিগুড়ির কিরণচন্দ্র শ্মশানঘাটে সৎকার হবে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরসভার একটি শীর্ষ মহল থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় বলে দাবি। সেখান থেকে জানানো হয়, শিলিগুড়িতে একাধিক শ্মশানঘাট রয়েছে। কিরণচন্দ্র শ্মশানঘাটটি ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। ওই দেহ নিয়ে সেখানে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই তুলনায় একেবারে ফাঁকা অঞ্চলে তৈরি সাহুডাঙি শ্মশান ঘাটটি বাছাই করা হোক।

ওই সূত্রে আরও বলা হয়, সাহুডাঙি শ্মশানের ৫০০ মিটারের মধ্যে জনবসতি নেই। মেডিক্যাল কলেজ থেকে তার দূরত্ব ১২ কিলোমিটারের মতো। ততক্ষণে দুপুর ১২টা বেজে গিয়েছে। এর মধ্যে মেডিক্যালে স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসকদের একাংশ পরিকাঠামো নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করায় প্রশাসনিক কর্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেই ক্ষোভ সামাল দেওয়ার পরে ফের গাড়ির খোঁজ শুরু হয়। সরকারি সূত্রে দাবি, বেলা ৩টা নাগাদ ১০০ নম্বরে ডায়াল করা জননী সুরক্ষার একটি অ্যাম্বুল্যান্সকে রাজি করানো হয়। সেটির চালক এবং বাকি চার জনকে সংক্রমণরোধক পোশাক পরানো হয়। বিকেল ৪টে নাগাদ দেহ সাহুডাঙি আনা হয়। পুলিশ মোতায়েন ছিল।

শ্মশান কর্মীরা আগে থেকেই চুল্লি তৈরি করে রেখেছিলেন। দ্রুত দেহটি চুল্লিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পৌঁছে যান দমকল কর্মীরাও। জীবাণুনাশক ওষুধ মিলিয়ে পাঁচ কর্মীর শরীরে স্প্রে করা হয়। অ্যাম্বুল্যান্সটিকেও শোধন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ যখন হয়, তখন ঘড়িতে বিকেলে সাড়ে ৫টা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement