—প্রতীকী চিত্র।
সচেতনতার বার্তা দেওয়া পুলিশের ব্যানারের স্লোগান বিকৃত করে সমাজমাধ্যমে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন হুগলির চুঁচুড়ার বছর ৬২-র এক বৃদ্ধ। পূর্ব মেদিনীপুর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার হাতে গত শুক্রবার রাতে ধরা পড়া অমিতকুমার নন্দী নামে ওই বৃদ্ধ জেল হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে, এই অভিযোগে মঙ্গলবার সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচির প্রচারে ‘মদ খেয়ে গাড়ি চালাবেন না’ লেখা ব্যানার লাগানো হয়েছিল কাঁথি থানার তরফে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি সম্পাদনা করে লেখা হয়, ‘গাড়ি খেয়ে মদ চালান’। সমাজমাধ্যমে অমিতের অ্যাকাউন্ট থেকে তা ‘পোস্ট’ করা হয়। নজরে আসতেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা করে। গ্রেফতারের পরে, অমিতকে দিয়ে ওই ‘পোস্ট’মোছানো হয়।
সূত্রের খবর, অমিতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের সমতুল্য ধারা (বিএনএস ১৫২) দেওয়া হয়েছে। তাতে মৌখিক, লিখিত বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার আদালত তাঁকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। এপিডিআর-এর সহ-সভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, ‘‘রসিকতার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ! আমরা অবিলম্বে ওঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’’ চুঁচুড়ার মনসাতলা ধারাপাড়ায় স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে থাকেন অমিত। তাঁরা সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেননি। তবে ধৃতের ভাই সমিত বলেন, ‘‘দাদার বিরুদ্ধে ওই ধারা দেওয়া উচিত হয়নি।’’
চুঁচুড়ার কামারপাড়ায় অমিতদের পারিবারিক দোকান। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাঁর দুই ভাই দোকান নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, অমিত অতটা থাকেন না। অন্য কাজও করেন না। তবে মাঝেমধ্যে সমাজমাধ্যমে তাঁকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের নানা নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে।
২০১৫ সালের পুরভোটে হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএমের হয়ে লড়ে হেরে যান অমিত। ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল পুরসদস্য তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘শুধু বিরোধী দল নয়, মাঝেমধ্যে ফেসবুকে অমিতদার সমালোচনা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে যেত। তবে যতই বিরোধী মতাদর্শের হোন, এলাকার লোক হিসাবে উনি গ্রেফতার হওয়ায় খারাপ লাগছে।’’ তাঁর সংযোজন: ‘‘নিশ্চয়ই এমন কিছু করেছেন, যাতে পুলিশ এমন ধারা দিয়েছে। মামলার সঙ্গে সংযুক্তেরাই ভাল বলতে পারবেন।’’ সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্ব এ ব্যাপারে মন্তব্য করেননি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে