(বাঁ দিকে) দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায় এবং প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত রায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
পুরনিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্তে এ বার দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়কে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সকালে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে। ইতিমধ্যে সেখানে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুরনিয়োগ মামলায় সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তিনি বর্তমানে ইডির হেফাজতেই রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে পাচুকে সুজিতের মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েই উঠে এসেছে সুজিতের নাম। তদন্তে নেমেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিতকে গ্রেফতার করেন ইডির আধিকারিকেরা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার ঘটনায় তাঁকে তলব করা হয়েছিল। ইডি সূত্রে আরও জানা যায়, ওই তালিকায় কম বেশি ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে। তাঁদের নাম সুপারিশ করার বিনিময়ে সুজিত অন্যায্য সুবিধা নিয়েছিলেন বলেও ইডি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত সপ্তাহের সোমবারই সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল সুজিতকে। সকাল থেকে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পরে রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেন ইডির আধিকারিকেরা। পরে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতেই রয়েছেন সুজিত। এরই মধ্যে সোমবার সকালে দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচুকে ডেকে পাঠাল ইডি। উল্লেখ্য, পুরনিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সিবিআইয়ের জমা দেওয়া চার্জশিটে পাচুর নাম রয়েছে। পুরনিয়োগ মামলার তদন্তের সূত্রে পাচুকে অতীতেও সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছিল ইডি। হাজিরাও দিয়েছিলেন তিনি। যদিও অতীতে পাচু দাবি করেছিলেন, তিনি কোনও টাকা নেননি। তাঁকে ‘হ্যারাস’ করার জন্যই ডাকা হয়েছিল বলে ওই সময়ে দাবি করেছিলেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান।