Migrant Worker Death

দুর্ঘটনায় ভিন্‌রাজ্যে বাঁকুড়ার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু! ঝাড়খণ্ড থেকে দেহ ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার

শনিবার সন্ধ্যায় হাতি তাড়ানোর কাজ সেরে একটি গাড়িতে করে প্রায় ১০ জন যুবক যখন ফিরছিলেন সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি লরি তাঁদের গাড়িকে ধাক্কা মারে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক জখম হন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পিন্টুর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:১৬
Share:

মৃত পরিযায়ী শ্রমিক পিন্টু মুদি। —ফাইল চিত্র।

পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বাঁকুড়ার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। গত শনিবার ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলায় পথ দুর্ঘটনায় বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের কড়াপাড়া গ্রামের পিন্টু মুদি নামের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সেখানে ময়নাতদন্তের পর সোমবার দেহ নিয়ে আসা হয় তাঁর নিজের বাড়িতে। দেহ গ্রামে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় এক এজেন্টের মাধ্যমে কড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু-সহ বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের বেশ কিছু যুবক হাতি তাড়ানোর কাজ করতে ঝাড়খণ্ডে যান। শনিবার সন্ধ্যায় হাতি তাড়ানোর কাজ সেরে একটি গাড়িতে করে প্রায় ১০ জন যুবক যখন ফিরছিলেন সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি লরি তাঁদের গাড়িকে ধাক্কা মারে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক জখম হন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পিন্টুর। রবিবার ঝাড়খণ্ডে মৃতদেহের ময়নাতদন্তের পর সোমবার তাঁর নিথর দেহ ফেরে বাঁকুড়ার কড়াপাড়া গ্রামে। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার।

মৃতের স্ত্রী মৌসুমি মুদি বলেন, “আমি শ্বাসকষ্টের রোগী। তাই আমাকে কাজ করতে দিতেন না স্বামী। আগে আমার স্বামী কলকাতায় কাজ করতেন। এক মাস বাড়িতে থাকলে জীবিকার জন্য দু’মাস বাইরে থাকতে হত। পৌষ পার্বণের সময় তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঝাড়খণ্ডে হাতি তাড়ানোর কাজে যান। তার পর আর কিছুই জানি না। এখন আমার সংসার কী ভাবে চলবে, কী ভাবেই বা ছেলেদের বড় করে তুলব তা জানি না।”

Advertisement

সোমবার পিন্টুর দেহ গ্রামে পৌঁছোতেই পৃথক ভাবে স্থানীয় তৃণমূল ও বিজেপি নেতৃত্ব মৃতের বাড়িতে যান। তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার এসটি সেলের সভাপতি গঙ্গারাম মুর্মু পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বলেন, “এই এলাকার যুবকদের একাংশ হাতি খেদানোর কাজে দক্ষ। সে কারণেই তাঁরা ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পিন্টু প্রাণ হারিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফে যাতে তাঁর পরিবারকে সহযোগিতা করা যায় তার চেষ্টা করা হবে।”

মৃতের বাড়িতে যান বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক শান্তনু সিংহ। পরিবারের হাতে দলীয় ভাবে কিছু অর্থ সাহায্য তুলে দেন তিনি। পরে তিনি বলেন, “এ রাজ্যে কাজ না থাকার কারণেই পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে এই যুবকদের ভিন্‌রাজ্যে যেতে হয়েছিল। আমরা সব দিক থেকে পরিবারের পাশে আছি। একই সঙ্গে মৃতের পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement