শরিকি সংঘর্ষে এক জখমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে এক ব্যক্তির দশ বছরের কারাদণ্ড হল। বুধবার এই রায় ঘোষণা করেছেন পুরুলিয়া জেলা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিত চক্রবর্তী।
ঘটনার বিবরণে মামলার সরকারি আইনজীবী সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১০ সালের ৪ জুলাই। সে দিন সকালে বরাবাজার থানার মুরাডি গ্রামে একটি দেওয়াল তোলাকে কেন্দ্র করে শরিকদের দু’পক্ষ অর্থাৎ সতীশ মাহাতো ও তাঁর পরিবারের লোকজন এবং গোষ্ঠবিহারী মাহাতো ও তাঁর পরিবারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনায় গোষ্ঠবিহারী মাহাতো ও তাঁর দুই ভাইপো জখম হন। তিনজনকেই প্রথমে স্থানীয় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মাথায় আঘাত থাকায় গোষ্ঠবিহারীকে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনত থাকায় তাঁকে ঝাড়খণ্ডের টাটানগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ১০ দিন পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর মৃতের ছেলে মহাদেব মাহাতো অভিযুক্ত সতীশ মাহাতো-সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করে। মামলার বিচার শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক অভিযুক্ত সতীশ মাহাতোকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সরকারি আইনজীবি জানান, বিচারক অভিযুক্ত সতীশ মাহাতোকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন। অনাদায়ে আরও ছ’মাস কারাদণ্ড দেন। আর বাকি দু’জনকে আহত করার জন্য এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।