গণধর্ষণের ধারা যোগ করে সোমবার আদালতে রানাঘাট-কাণ্ডের চার্জশিট দিল সিআইডি। স্থানীয়দের একটা বড় অংশ ও একাধিক বিরোধী নেতার ক্ষোভ, ধর্ষণ কে করেছে সেটাই এখনও পর্যন্ত অজানা থেকে গিয়েছে সিআইডি-র!
১৩ মার্চ রানাঘাটের একটি স্কুলে ডাকাতি ও এক সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সোমবার ধৃত পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ৯৯৫ পাতার চার্জশিট রানাঘাট আদালতের এসিজেএমের কাছে জমা দেয় সিআইডি। ন’জন অভিযুক্তের মধ্যে ছ’জন ধরা পড়েছে। নজরুল ইসলাম ওরফে নজু বলে যে অভিযুক্ত গত বুধবার ধরা পড়েছে, সে সিআইডি হেফাজতে। জেরা সম্পূর্ণ না হওয়ায় নজুর নামে চার্জশিটে মামলা করা হয়নি (গ্রেফতারের কথা উল্লেখ হয়েছে) বলে সিআইডি সূত্রের দাবি। পলাতক দেখানো হচ্ছে তুহিন, হাবিব ও সেলিম নামে তিন বাংলাদেশি দুষ্কৃতীকে। সূত্রের খবর, চার্জশিটে পাঁচ জনের বিরুদ্ধেই ডাকাতি, গণধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু সন্ন্যাসিনীকে কে বা কারা ধর্ষণ করেছে তা উল্লেখ নেই। বিজেপি-র জেলা মুখপাত্র সৈকত সরকার এবং সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এস এম সাদি বলেন, ‘‘সন্ন্যাসিনীকে কে ধর্ষণ করেছে, তা কি গোয়েন্দাদের কাছে স্পষ্ট? মনে হচ্ছে, আলাদা করে কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি সিআইডি।’’ স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, ‘‘হতে পারে, গণধর্ষণ হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত দোষী এত দিনেও চিহ্নিত হল না কেন?’’ সিআইডি-র দাবি, তদন্ত শেষ হয়নি। সন্ন্যাসিনীর চাদর থেকে মেলা রক্ত ও বীর্যের নমুনার ডিএনএ-পরীক্ষা সময়সাপেক্ষ। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, ওই সন্ন্যাসিনীকে হয়তো ধর্ষণ করেছে এক জন। বাকিরা বাধা না দেওয়ায় অপরাধের দায় এড়াতে পারে না। তাই ৩৭৬-ডি ধারা চার্জশিটে জোড়া হয়েছে। নয়া আইন এটাই বলে। এক সিআইডি-কর্তা কামদুনি ও পার্ক স্ট্রিটের ঘটনা মনে করিয়ে জানান, সেখানে ধর্ষণ করে এক জন। কিন্তু সব অভিযুক্তকেই একই যুক্তিতে গণধর্ষণের চার্জ দেওয়া হয়।
রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক তথা স্থানীয় পুরপ্রধান পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, ‘‘সিবিআই যে মামলা নিতে চায়নি, সিআইডি সে মামলার তদন্ত করে চার্জশিট দিয়ে দিল। গোয়েন্দাদের তো প্রশংসা প্রাপ্য।’’