শুভ্রাংশু রায়, শীলভদ্র দত্ত এবং সুনীল সিংহ (বাঁ-দিক থেকে)।
তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের ৪০ বিধায়ক। নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই মন্তব্য হইচই ফেলে দিয়েছিল গোটা রাজ্যে। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিংহ ব্যারাকপুর থেকে বিজেপির টিকিটে জেতার পরে দাবি করেছেন, ৪০ নয়, সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ১০০। তৃণমূল বার বারই নস্যাৎ করেছে বিজেপির এই সব দাবি। কিন্তু অর্জুনের নির্বাচনী ক্ষেত্রের ৩ বিধায়কের দিল্লি যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সেই জল্পনা আরও বেড়ে গিয়েছে।
বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় এ দিন দিল্লি পৌঁছেছেন বলে খবর। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তিনি বিকেল সাড়ে ৫টার উড়ান ধরেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি শোনা যাচ্ছে যে, ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত এবং নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিংহও দিল্লিতে। যদিও সুনীল সিংহের ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন, তিনি কলকাতাতেই রয়েছেন। আর শীলভদ্রের ঘনিষ্ঠদের দাবি, চিকিৎসার প্রয়োজনে আগে থেকেই দিল্লিতে রয়েছেন তিনি। গুরুগ্রামের একটি হোটেলে উঠেছেন। তাঁর ওখানে থাকার সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। যদিও অন্য একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সদর দফতরে এই বিধায়করা আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া ঝান্ডা হাতে তুলে নিতে পারেন।
যে ৩ তৃণমূল বিধায়ক এ দিন দিল্লি গিয়েছেন বলে খবর, তাঁদের সঙ্গে সোমবার বিকেলের পর থেকে আর যোগাযোগ করা যায়নি। তাই জল্পনা সম্পর্কে তাঁদের কোনও মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ৫ মন্ত্রী পেতে পারে নজরকাড়া বাংলা, কিন্তু আলোচনায় অন্তত ১১ নাম
যে তৃণমূল বিধায়কদের দিল্লির যাওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে শুভ্রাংশু রায় বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মুকুল রায়ের ছেলে। লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার পরে শুভ্রাংশু সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বলেছিলেন যে, নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র বীজপুরে তিনি ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীকে লিড পাইয়ে দিতে পারেননি, কারণ তিনি তাঁর বাবার কাছে হেরে গিয়েছেন। বাবা অর্থাৎ মুকুল রায়কে নিয়ে তিনি গর্ব বোধ করেন— এমন মন্তব্যও শুভ্রাংশু করেছিলেন। সঙ্গে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে। সে দিন বিকেলেই আর এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, শুভ্রাংশুকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আরও এক দফা পে কমিশনের মেয়াদ বাড়াল রাজ্য সরকার, তীব্র ক্ষোভ কর্মী মহলে
শুভ্রাংশু ছাড়া আর যে দুই বিধায়ক দিল্লি পৌঁছেছেন বলে বিজেপি সূত্রের দাবি, সেই দু’জনের মধ্যে শীলভদ্র দত্ত প্রায় গোড়া থেকেই মুকুল রায়ের অনুগামী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। মুকুলের সঙ্গে তিনি দল ছাড়েননি ঠিকই। কিন্তু মুকুলের সঙ্গে শীলভদ্রের সুসম্পর্কে ছেদ পড়েনি তার জন্য। তৃতীয় জন অর্থাৎ সুনীল সিংহ হলেন ব্যারাকপুর থেকে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহের নিকটাত্মীয়। অর্জুন দল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সুনীলও তৃণমূল ছাড়বেন। সুনীল সে জল্পনা নস্যাৎ করে জানিয়েছিলেন, তিনি তৃণমূলেই থাকছেন। কিন্তু সুনীলের ছেলে আদিত্য বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। ছেলের পরে এ বার কি বাবারও পালা? গুঞ্জন জোরদার হয়েছে।
সুনীল এবং শীলভদ্রের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার নিয়ে বা দিল্লি যাওয়া নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও, শুভ্রাংশু যে আগামিকাল যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে, সেটা প্রায় নিশ্চিত। শুভ্রাংশুর সঙ্গে কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহর এই দুই পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলরও নাকি দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন, শুভ্রাংশু শিবিরের দাবি। এমনকি কল্যাণী এবং নৈহাটির বেশ কিছু কাউন্সিলর দিল্লিতে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। আগামিকাল শুভ্রাংশুর সঙ্গে এঁরা সকলেই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে কাউন্সিলরদের তরফে কিন্ত এ বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
(পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেবাংলায় খবরজানতে পড়ুন আমাদেররাজ্যবিভাগ।)