আরও এক দফা মেয়াদ বাড়ল রাজ্য বেতন কমিশনের। সোমবার রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ আরও বাড়ল। বিরোধী কর্মী ইউনিয়নগুলি তো বটেই, খোদ শাসক দলের ইউনিয়নও বেজায় ক্ষুব্ধ সরকারের এই সিদ্ধান্তে। পে কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকারের পদত্যাগও দাবি করেছেন শাসক দলের কর্মী ইউনিয়নের নেতারা।

ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠিত হয় ২০১৫ সালে। তার মেয়াদ ছিল ছ’মাস। কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন অভিরূপ সরকার। কিন্তু প্রতি বারই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সময়ে এসে সুপারিশ জমা দিতে পারেনি কমিটি। তার জেরে দফায় দফায় বাড়তে বাড়তে প্রায় সাড়ে তিন বছরে এসে দাঁড়ায় ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বয়স। শেষ বার যে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, তার সময়সীমা শেষের দিন ছিল এ দিনই। তার আগেই আরও এক দফা মেয়াদ বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। এ বার সেই মেয়াদ আরও এক দফা বেড়ে যাওয়ায় সব মিলিয়ে চার বছর এক মাস হয়ে গেল। অনেকেই বলছেন, শুধু এ রাজ্যই নয়, গোটা দেশেই এই ঘটনা নজিরবিহীন।

বিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরা। এক যোগে তীব্র বিরোধিতা করেছে শাসক-বিরোধী সব দলের কর্মী সংগঠনগুলি। বামেদের সংগঠন রাজ্য কোঅর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয়শঙ্কর সিংহের বক্তব্য, ‘‘আমাদের রাজ্যে সরকারি কর্মীদের ৪১ শতাংশ ডিএ বাকি। বেতন কমিশনের মেয়াদ ৭ মাস মানে সেটা ৪ বছর ১ মাসে গিয়ে দাঁড়াবে।আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি। সরকার শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক। আগামিকাল সারা রাজ্য জুড়ে টিফিনের সময় বিক্ষোভ হবে। দেওয়া হবে বৃহত্তর সংগ্রামে যাওয়ার হুঁশিয়ারি। কেন্দ্রীয় সরকারের ৪০ লক্ষ কোটি টাকার উপর ঋণ। সমস্ত রাজ্যেরই ঋণ আছে। তারাও কিন্তু ডিএ দিচ্ছে। আর এ রাজ্যে ক্লাবকে টাকা দিচ্ছে, উৎসব হচ্ছে, ফূর্তি হচ্ছেদেদার। সবটাই ভাঁওতা। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে তৃণমূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মাইনে দ্বিগুণ করা হবে। কোথায় কী! ডিএ-টাই দিতে পারে না। সবটাই ভাওতা। আবারও বলছি, শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক সরকার।’’

অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারকে বর্তমান সরকারই বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছিল। কিন্তু তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব শাসক দলের সংগঠনই। তৃণমূলের সংগঠন স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের মেন্টর গ্রুপের আহ্বায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এক কথায় আমি যেটা বলি, কমিশন হল প্রতারণাকে দীর্ঘায়িত করার একটা হাতিয়ার। অভিরূপবাবু কার্যত সর্বভারতীয় রেকর্ড করেছেন। বেতন কমিশন নিয়ে ভারতের কোনও অঙ্গরাজ্য তার রিপোর্ট বার করতে এত দীর্ঘ সূত্রিতার পরিচয় দেয়নি। তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করা যাবে না। তাঁকে আদর্শ চেয়ারম্যান হিসাবে এই কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা সব সময় মনে রাখবেন। এই কমিশন চলছে এবং এই কমিশন চলবে। পন্থা দু’টো— হয় পদত্যাগ করুন অভিরূপবাবু, নয় তো রিপোর্ট পেশ করুন।’’

আরও পড়ুন: ইস্তফার সিদ্ধান্তে অনড় রাহুল, মানলেন সনিয়া-প্রিয়ঙ্কাও, নতুন নেতা সন্ধানের নির্দেশ

আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত কাজে উত্তরপ্রদেশে, বাড়তি সময় চাইলেন রাজীব, ফের সমন পাঠানোর প্রস্তুতি সিবিআইয়ের

বিজেপি এবং কংগ্রেসের সংগঠনও একই ভাবে সোচ্চার। বিজেপির সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীলের বক্তব্য, ‘‘লোকসভা নির্বাচনে যে ভাবে পোস্টাল ব্যালটে সরকারি কর্মচারীরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, সেখান থেকে এরা কোনও শিক্ষাই নেয়নি। ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। খুব শীঘ্রই আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।’’ কংগ্রেসের সংগঠন কনফেডারেশনের তরফে সুবীর সাহা বলেন, ‘‘আমরা এটাই আশা করেছিলাম। কারণ, মানুষ ভুল করলে পর পর ভুল করতে থাকে। রাজ্যের ১০ লক্ষ সরকারি কর্মচারীই এ বার প্রতিবাদেনামবে। সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস— সব দলকে নিয়েই পথে নামতে হবে। সেখানে কোনও রাজনীতি থাকবে না। বেতন কমিশনের অফিস ঘেরাও করব। অভিরূপ সরকারের অফিস ঘেরাও করব আমরা। বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতেই হবে। আর কোনও উপায় নেই।’’