Sudipto Sen

সমস্ত মামলায় জামিন সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের! ১২ বছর ১১ মাস পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাচ্ছেন তিনি, ঘটনাচক্রে, ভোটের মুখেই

হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার জানায়, রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দু’টি মামলায় জামিন দেওয়া হচ্ছে। ফলে জেল থেকে বেরোনোর কোনও আইনি বাধা রইল না সারদাকর্তার।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২৪
Share:

সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন। ফাইল চিত্র।

সব মামলায় জামিন পেয়ে জেল থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন। ১২ বছর ১১ মাস জেলবন্দি তিনি। বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন। ঘটনাচক্রে, আর কয়েক দিন বাদেই রাজ্যে ভোট। তার আগে সারদাকর্তার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার রায় ঘোষণা করে তাঁকে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দু’টি মামলায় জামিন দিয়েছে। ফলে তাঁর জেল থেকে বেরোনোর কোনও আইনি বাধা রইল না। তবে জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে আদালত। সম্ভবত বৃহস্পতিবার জেল থেকে ছাড়া পাবেন রাজ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন।

সিবিআইয়ের হাতে মামলা ছিল ৭৬টি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির সব মামলায় আগেই জামিন পান সুদীপ্ত সেন। বারাসাত থানার দু’টি মামলায় জেলবন্দি ছিলেন সারদাকর্তা। এই দুই মামলাতেই জামিন মঞ্জুর করেছে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সারদাকর্তার জামিন মামলায় রাজ্যকে তুলোধনা করে কলকাতা হাইকোর্ট। ভর্ৎসনা করা হয় সিবিআইকেও। তার পর রায়দান স্থগিত রাখে আদালত।

Advertisement

মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, ৩৮৯টি মামলা হয়েছিল সারদার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল সারদাকর্তা গ্রেফতার হন বিধাননগর থানার মামলায়। সিবিআই ৭৬টি মামলা হাতে নেয়। তারা সব মিলিয়ে চারটে মামলা দায়ের করে। বাকিগুলোয় রাজ্য পুলিশ চার্জশিট দেয়। সেই চার মামলায় জামিন পেয়ে যান সুদীপ্ত। বেল বন্ড জমা দেন তিনি। তবে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলার মধ্যে দু’টি আটকে ছিল। বারাসত থানার দু’টি মামলাও ঝুলছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার হাই কোর্টে মামলাটি উঠলে, সবক’টি মামলাতেই জামিন দেওয়া হল সুদীপ্তকে।

সারদাকর্তার জামিন প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘কারও জামিন হওয়া বা না-হওয়া আইন-আদালতের বিষয়। জামিন পাওয়া আইনের মধ্যেই পড়ে। সুদীপ্ত সেন জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। সুতরাং এটা নিয়ে আপাতত আলাদা করে কোনও ব্যাখ্যা বা মন্তব্যের কিছু নেই।’’

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে সারদাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে দেবযানীকে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত। ওই বছরই কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। তখন থেকে দু’জনই জেলে রয়েছেন। ২০২৩ সালে অবশ্য কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে ছাড়া পেয়েছিলেন দেবযানী। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন থানায় প্রতারিতেরা অভিযোগ জানান সারদা অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে। পরে তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআইও মামলা রুজু করে। পাশাপাশি ইডি এবং সেবি-ও সুদীপ্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement