তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির সঙ্গে একই মঞ্চে কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া (বাঁ দিকে)। ছবি: ফেসবুক।
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী তথা তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর ‘ঘনিষ্ঠ’ এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সম্রাট বড়ুয়া নামের ওই নেতা বিধাননগর পুরনিগমের ছ’নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। বাগুইআটি থানার পুলিশ সম্রাটকে গ্রেফতার করেছে।
সম্রাট যে দেবরাজের ‘ঘনিষ্ঠ’, তা এলাকার বাসিন্দারাও জানেন। অদিতির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। সমাজমাধ্যমে অদিতি এবং দেবরাজের সঙ্গে নানা সময়ে নানা ছবি পোস্ট করেছেন সম্রাট। অনেক অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। দেবরাজদের ‘ঘনিষ্ঠ’ হওয়ায় এলাকায় তাঁর প্রভাব ছিল। সম্প্রতি পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইডি। পুর নিয়োগ মামলাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বসুকে। তার মধ্যে তোলাবাজির অভিযোগে সম্রাটের গ্রেফতারি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার সকালে দক্ষিণ দমদম পুরসভার আর এক দেবরাজ ‘ঘনিষ্ঠ’ কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তিনিও অদিতি ও দেবরাজের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসাবে এলাকায় প্রভাবশালী ছিলেন। ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। কী কারণে এই মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, গত কয়েক দিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সঞ্জয়। পুলিশ এই ঘটনায় আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর দিকে দিকে তৃণমূল নেতা এবং কাউন্সিলরদের গ্রেফতারির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর আগেও তোলাবাজির অভিযোগে একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন কলকাতা কিংবা শহরের উপকণ্ঠে। দেবরাজ এবং অদিতি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন অদিতিরা। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর জন্যই এই কাজ করা হয় বলে রাজ্যের তরফে জানানো হয়। এই মামলায় আদালত মৌখিক ভাবে জানিয়েছে, ১৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের গ্রেফতার করা যাবে না। সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য হাই কোর্টে দেবরাজদের হয়ে সওয়াল করায় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তার মধ্যেই অদিতিদের ‘ঘনিষ্ঠ’ আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেফতার হলেন।