Bangladesh Situation

পৃথিবীর সব টাকা এনে দিলেও আমার ক্ষতিপূরণ হবে না! ইউনূসের সাহায্য ঘোষণার পর হাহাকার দীপুর পরিবারে

বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার দু’দিন আগে দীপুর পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেন ইউনূস। বুধবার দীপুর বাবা জানিয়েছেন, তাঁদের ক্ষতি এতে পূরণ হবে না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:২৫
Share:

বাংলাদেশের হিংসায় দীপুচন্দ্র দাসকে (বাঁ দিকে) হারিয়ে হাহাকার তাঁর পরিবারের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার বলি দীপুচন্দ্র দাসের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা করবে বলে ঘোষণা করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি দীপুর পরিবারের সদস্যেরা। তাঁর বাবা বুধবার ফের বিচারের দাবি জানালেন। সাফ জানিয়ে দিলেন, পৃথিবীর সমস্ত টাকা একত্র করে তাঁকে দিলেও তাঁর ক্ষতি পূরণ হবে না। অপরাধীদের কঠোর, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় দীপুর পরিবার।

Advertisement

বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার দু’দিন আগে দীপুর পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেন ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, ওই পরিবারের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। দীপুর স্ত্রী এবং বাবা পাবেন ১০ লক্ষ টাকা করে। এ ছাড়া, দীপুর নামে ওই পরিবারের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকার একটি ফিক্সড্‌ ডিপোজ়িট করে দেওয়ার কথাও বলা হয়। বুধবার দীপুর বাবা রবিচন্দ্র দাস জানান, আর্থিক সহায়তার কথা তাঁরা শুনেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘৫০ লক্ষ কেন, দুনিয়ার সব টাকা আমাকে দিলেও আমার ছেলে হারানোর ক্ষতি পূরণ হবে না। আমরা আমাদের ছেলের খুনিদের শাস্তি পেতে দেখতে চাই। দৃষ্টান্তমূলক বিচারব্যবস্থা চাই, যাতে এই দেশের আর কোনও বাবা-মায়ের আমাদের মতো দশা না-হয়।’’

পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন ময়মনসিংহের দীপু। গত ১৮ ডিসেম্বর গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। পরিবার জানায়, পিটিয়ে খুন করার পর নৃশংস ভাবে দীপুর দেহ গাছে ঝুলিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে। দীপুর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তাঁর বাবার প্রশ্ন, ‘‘আমার ছেলে কী দোষ করেছিল? যদি কারও ভাবাবেগে আঘাত লেগে থাকে, আইন তার মোকাবিলা করত। আমরা গরিব বলে ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।’’

Advertisement

পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতেন দীপু। তাঁর মৃত্যুর ঘোর থেকে মা এবং স্ত্রী এখনও বেরোতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা। দু’জনেই ঘুমের ওষুধ খান। কিন্তু দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি ঘুমোতে পারেন না। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহম্মদ আবদুল্লা আল মামুন জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার ২২ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর দীপুর ভাই ১৫০ জন অচেনা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ইউনূস এই হত্যাকাণ্ডের কড়া নিন্দা করেন এবং একে ‘জাতির লজ্জা’ বলে উল্লেখ করেন। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত সরকারও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement