US Iran Conflict

ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা করতে হলে কী কী ছাড়তে হবে আমেরিকাকে? বৈঠকের আগেই জানাল তেহরান, উত্তাপ বাড়ছে

আমেরিকা এবং ইরানের আধিকারিকদের মধ্যে এক দফা আলোচনা হয়ে গিয়েছে ওমানে। দ্বিতীয় দফায় তাঁরা মুখোমুখি বসতে চলেছেন চলতি সপ্তাহেই। সেখানে থাকতে পারেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০১
Share:

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপে রাশ টানতে চায় আমেরিকা। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চলছে। দর কষাকষিতে ত্রুটি রাখছেন না আধিকারিকেরা। এর মাঝেই তেহরানের এক কূটনীতিক জানিয়ে দিলেন, তাঁদের সঙ্গে সমঝোতা সফল করতে হলে আমেরিকাকেও কিছু ছাড়তে হবে। দুই দেশের অর্থনৈতিক লাভ না হলে সমঝোতা সম্ভব নয়, ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

সম্প্রতি আমেরিকা এবং ইরানের আধিকারিকদের মধ্যে এক দফা আলোচনা হয়ে গিয়েছে ওমানে। দ্বিতীয় দফায় তাঁরা মুখোমুখি বসতে চলেছেন চলতি সপ্তাহেই। দ্বিতীয় বৈঠকে থাকতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেদ কুশনার। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় উইটকফদের সঙ্গে ইরানের আধিকারিকদের বৈঠক হতে পারে। তার আগে রবিবার পারস্পরিক এই সমঝোতা নিয়ে মুখ খুলেছেন ইরানি কূটনীতিক হামিদ ঘানবারি।

হামিদ ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্পর্কিত বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর। সে দেশের সংবাদসংস্থাকে তিনি বলেছেন, ‘‘যদি আমেরিকার সঙ্গে আমাদের কোনও সমঝোতা হয়ও, তা টিকিয়ে রাখার জন্য আমেরিকাকেও আমাদের লাভটা দেখতে হবে। যে সমস্ত ক্ষেত্র আমাদের জন্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে, সেখানে সুযোগ দিতে হবে।’’ এর পরেই তিনি জানিয়ে দেন, জ্বালানি, খনি-সহ বিভিন্ন বিষয় সমঝোতার আলোচনায় উঠে আসবে। তাঁর কথায়, ‘‘খনিজ তেল এবং গ্যাসের ক্ষেত্রে দুই দেশের সাধারণ স্বার্থ, যৌথ ক্ষেত্রগুলির পাশাপাশি খনিতে বিনিয়োগ, এমনকি বিমান কেনাবেচার বিষয়গুলিও সমঝোতার আলোচনায় রয়েছে।’’

Advertisement

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশের পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। একাধিক ক্ষেত্রে তাতে ছাড় পেয়েছিল ইরান। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে আনেন এবং তেহরানের উপর পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ে চাপ বৃদ্ধি করতে থাকেন। হামিদ দাবি করেছেন, ২০১৫ সালের চুক্তিতে আমেরিকার অর্থনৈতিক লাভে ব্যাঘাত ঘটেছিল বলেই তিনি ওই চুক্তি থেকে সরে যান। কিন্তু তেহরান সহজে জমি ছাড়বে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো দাবি করেছেন, ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সঙ্গেও মুখোমুখি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কঠিন হতে চলেছে, মেনে নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে আমেরিকা তেহরানকে চাপে রাখতে পশ্চিম এশিয়ায় দু’টি রণতরী মোতায়েন করেছে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement