পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী ইমান মাজারি। —ফাইল চিত্র।
জেলবন্দি করে ফেলে রাখলেও তাঁকে টলানো যাবে না। কারাদণ্ডের নির্দেশের পরে পাকিস্তানি সেনাকে এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ইমান মাজারি। ৩২ বছর বয়সি এই তরুণী পাকিস্তানের অন্যতম আলোচিত মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবী। পাক সেনার কট্টর সমালোচক হিসাবেও পরিচিতি রয়েছে তাঁর। সেই ইমানকে সমাজমাধ্যমে ‘দেশবিরোধী’ পোস্ট করার অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইসলামাবাদের আদালত। জেলে পাঠানো হয়েছে তাঁর স্বামী হাদি আলি চাঠ্ঠাকেও।
পাকিস্তানি সেনা এবং সে দেশের সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করার জন্য অতীতে বিভিন্ন সময়ে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। অনলাইনে হুমকি, গ্রেফতারি পরোয়ানা— কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি ইমানকে। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সমাজমাধ্যমে তাঁর কিছু পোস্টে ‘দেশবিরোধী’ তকমা সেঁটে দিয়েছে সে দেশের প্রশাসন। তা নিয়ে মামলাও চলছিল। গত শুক্রবার ইসলামাবাদের এক আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন ইমান এবং তাঁর স্বামী। অভিযোগ, মাঝপথ থেকেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার জানা যায়, ইমান এবং তাঁর স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে সে দেশের আদালত। তিনটি পৃথক মামলায় দু’বছর, পাঁচ বছর এবং ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় দম্পতিকে। মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড। তবে তিনটি শাস্তিই একইসঙ্গে চলবে। ফলে ১০ বছর জেলে থাকতে হবে তাঁদের। তবে এই কারাদণ্ডও যে তাঁর মুখ বন্ধ করতে পারবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। ইমান বলে, “এই দেশে (পাকিস্তানে) সত্যি কথা প্রকাশ করা খুব কঠিন হয়ে উঠছে। তবে আমরা যখন এই কাজ শুরু করি, তখনই জানতাম এর পরিণাম কী হতে পারে। আমরা এ সবের সম্মুখীন হতে প্রস্তুত। আমরা পিছু হটব না।”
বস্তুত, পাকিস্তানের বিভিন্ন স্পর্শকাতর মামলায় আইনজীবী হিসাবে জড়িত ছিলেন ইমান। জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে বালোচদের হয়ে মামলা লড়ছেন তিনি। শীর্ষ বালোচ নেত্রী মেহরান বালোচের হয়েও মামলা লড়েছেন। পাকিস্তানে বসবাসকারী আফগানদের উপরে দমনপীড়নের অভিযোগ নিয়েও সরব ছিলেন তিনি। ইমানের মা শিরিন মাজারি অতীতে ইমরান খানের সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। মানবাধিকার দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। মেয়ের কারাদণ্ডের নির্দেশ শোনার পরে তাঁর দাবি, বঞ্চিত এবং প্রান্তিক মানুষের কথা বলার জন্যই ইমানকে এই ফল ভুগতে হচ্ছে।