আদর্শ নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক বিএলও-কে আটক করল পুলিশ। মহিলা ভোটারদের শাড়ি বিলি করে তিনি তৃণমূলকে ভোট দিতে বলেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। অমৃত বিশ্বাস নামে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার ১৫৭ নম্বর বুথের ওই বিএলও-র বিরুদ্ধে সোমবার রাতে এই অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। অমৃতের পরিবারের অভিযোগ, চক্রান্ত করে ফাঁসানোর তাঁকে চেষ্টা চলছে। বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত জানান, ‘মডেল কোড অব কন্ডাক্ট টিম’-এর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বিএলও-কে থানায় আনা হয়। ঘটনাস্থল থেকে কিছু শাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতা জিতেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের দাবি, “অমৃত পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। নিরপেক্ষ ভাবেই দায়িত্ব পালন করেছেন। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে ওঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছিল।” বিজেপি নেতা বিক্রম রায়ের বক্তব্য, “নির্বাচনী বিধি ভেঙে তৃণমূলের হয়ে কাপড় বিলি করা হচ্ছিল। আমরা আগেই অভিযোগ করেছিলাম, কিছু বিএলও পক্ষপাতদুষ্ট ভাবে কাজ করছেন।”
অন্য দিকে, ভোটার স্লিপ দিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএলও-র বিরুদ্ধে। উত্তর২৪ পরগনারই বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার ৭০ নম্বর বুথের সাতভাই কালীতলা এলাকার ঘটনা। বিএলও মৃন্ময় রায় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল বিশ্বাসের পরিবারের তিন সদস্যকে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানিতে ডাকা হয়। সে সময়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার জন্য মৃন্ময় তাঁদের কাছে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারটির। যদিও টাকা তাঁরা দেননি। পরে, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও অভিযোগ, ‘ভোটার স্লিপ’ দিতে গড়িমসি করা হচ্ছিল। এ জন্য নতুন করে ১০ হাজার টাকা চান মৃন্ময়, অভিযোগ সুশীলের মেয়ে প্রিয়া বিশ্বাসের। সোমবার তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে ই-মেলে অভিযোগ জানিয়েছেন।
প্রিয়ার দাবি, “আমাদের এপিক নম্বর ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল লেখা হয়েছিল। সে কারণে শুনানিতে যেতে হয়। এর পরে তিন বার যোগাযোগ করেও ভোটার স্লিপ পাইনি। উল্টে, টাকা চাওয়া হচ্ছিল।” অভিযোগ জানানোর পরে অবশ্য ‘ভোটার স্লিপ’ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মৃন্ময় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমার বুথে ১২৫৬ জন ভোটার। সকলকেই ভোটার স্লিপ দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে চক্রান্তকরা হচ্ছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)