২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হবে ইউজিসি নেট (ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন-ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট) । রাজ্য স্তরে সেট-এরও (স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট)-এরও আয়োজন করা হবে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা এবং শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত হতে জন্য এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। সে জন্য চাই যথাযথ প্রস্তুতির। উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতারও প্রয়োজন। এই প্রতিবেদনে নেট সংক্রান্ত নানা বিষয় আলোচনা করা হল।
যোগ্যতা
আবেদনকারীকে ইউজিসি স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্তত ৫৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হতে হয়। সংরক্ষিত বিভাগের প্রার্থীদের জন্য বয়সের ছাড় দেওয়া হয়।
যে সকল পড়ুয়া মাস্টার্স কোর্সের চূড়ান্ত বর্ষে বা শেষ সেমিস্টারে পড়ছেন, তাঁরাও এই পরীক্ষায় বসতে পারেন (শর্ত থাকে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজাল্ট জমা দিতে হবে)। অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদের জন্য আবেদনের কোনও সর্বোচ্চ বয়ঃসীমা নেই। যে কোনও বয়সে পরীক্ষা দেওয়া যায়। জেআরএফ-এর জন্য সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা সাধারণত ৩০ বছর। তবে সংরক্ষিত বিভাগ, নারী এবং গবেষকদের ক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী ৫ বছর পর্যন্ত বয়সের ছাড় থাকে।
পরীক্ষার সময়সীমা
ইউজিসি নেট পরীক্ষা সম্পূর্ণ অনলাইনে অর্থাৎ কম্পিউটার বেসড্ টেস্ট পদ্ধতিতে নেওয়া হয়। পরীক্ষার মোট সময় ৩ ঘণ্টা (১৮০ মিনিট)। এই পরীক্ষা একটানা হয়, অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের মাঝখানে কোনও বিরতি দেওয়া হয় না। পরীক্ষার্থী নিজের সুবিধা মতো ৩ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনও পত্রের উত্তর আগে বা পরে করতে পারেন। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, দু’টি শিফটে নানা বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রথম শিফটের পরীক্ষা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা বিকেল ৩টে থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত হবে।
প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্রের ভাগ
ইউজিসি নেট-এ মোট দু’টি পত্রের পরীক্ষা হয়। সব প্রশ্নই অবজেক্টিভ বা মাল্টিপল চয়েস (এমসিকিউ) ধরনের হয়।
প্রথম পত্র: প্রার্থী যে বিষয়ের পরীক্ষাই দিন না কেন, এই পত্র সবাইকে দিতে হয়। এর মূল উদ্দেশ্য, প্রার্থীর শিক্ষকতা করার মানসিকতা এবং গবেষণার দক্ষতা যাচাই করা। মোট প্রশ্ন থাকে ৫০টি। প্রতি প্রশ্নে দু’নম্বর করে দেওয়া হয়, অর্থাৎ ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
দ্বিতীয় পত্র: প্রার্থীকে নিজের বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হয় এই পত্রে। যা তিনি স্নাতকোত্তর স্তরে পড়েছেন। মোট প্রশ্ন থাকে ১০০টি। প্রতি প্রশ্নে দু’নম্বর করে দেওয়া হয়, অর্থাৎ ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
আরও পড়ুন:
পাঠ্যক্রমে মূলত কী কী থাকে?
প্রথম পত্র মোট ১০টি ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগ থেকে সাধারণত পাঁচটি করে প্রশ্ন আসে।
দশটি ভাগ–
টিচিং অ্যাপ্টিটিউড, রিসার্চ অ্যাপ্টিটিউড, রিডিং কমপ্রিহেনশন, কমিউনিকেশন, ম্যাথমেটিক্যাল রিজ়নিং অ্যান্ড অ্যাপ্টিটিউড, লজিক্যাল রিজ়নিং, ডেটা ইন্টারপ্রিটেশন বা ডিআই, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বা আইসিটি, পিপল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, হায়ার এডুকেশন সিস্টেম।
দ্বিতীয় পত্র-
এর সিলেবাস সম্পূর্ণ ভাবে প্রার্থীর নিজের বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ইউজিসি-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিজ নিজ বিষয়ের নির্দিষ্ট সিলেবাস ডাউনলোড করে নেওয়া যায়।
ফলাফলের তিন ধরনের ভাগ:
নেট পরীক্ষার স্কোরের ওপর ভিত্তি করে যোগ্য প্রার্থীদের মূলত তিনটি ভাগে ফলাফল দেওয়া হয়। জেআরএফ, পিএইচডি এবং সহকারী অধ্যাপক পদের জন্য আলাদা আলাদা ভাগে ফলাফল প্রকাশ হয়।
ইউজিসি-র তরফে জুন পর্বের পরীক্ষায় যুক্ত হয়েছে নতুন একটি বিষয়। আগ্রহীরা এখন রাশিবিজ্ঞান বা স্ট্যাটিস্টিক্স বিষয়েও নেট দিতে পারবেন। এই বিষয়টি যুক্ত হওয়ার পর মোট ৮৬টি বিষয়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ রয়েছে।