বাজারে কোন ফলের দাম বাড়ছে, তা নিয়ে বাঙালি মাথা ঘামায়। আপেলের দর বেশি না বেদানার, সে বিষয়ে আলোচনা চলেই। এখন আবার নানা ঘরানার ডায়েটের দৌলতে অ্যাভোকাডো, ড্রাগন ফ্রুটের মতো ফলের দেখা মিলছে স্থানীয় বাজারেও। তবে এ সব তো নস্যি! বিশ্বের নানা দেশে এমন কিছু ফল পাওয়া যায়, যেগুলির দাম আকাশছোঁয়া। তেমন ফল স্বাদে-গন্ধে-পুষ্টিগুণে যেমন সেরা, তেমনই দামের বিচারেও এগিয়ে অনেকখানিই। এমন কিছু ফল আছে, যেগুলি কিনতে তো লাখ লাখ টাকাও খরচ হতে পারে।
জাপানের ইউবারি কিং মেলন
জাপানের ইউবারি কিং মেলন
এক বিশেষ প্রজাতির তরমুজ। গ্রিন হাউসে অত্যন্ত যত্ন সহকারে ফলানো হয়। এক একটি গাছে একটিই মাত্র তরমুজ ফলে। দেখতে নিখুঁত গোল ও উপরে জালের মতো নকশা থাকে। ইউবারি কিং মেলন জাপানের বিশেষ কিছু জায়গাতেই বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে আর পাঁচটি সাধারণ ফলের সঙ্গে বিকোয় না। এক একটি ফলের দাম লাখ টাকারও বেশি। এমনও শোনা গিয়েছে, এক কেজি ইউবারি কিং মেলন প্রায় ২০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নিলামে এক জোড়া ফলের দাম ৪২ লক্ষ টাকা অবধি উঠেছিল।
রুবি রোমান আঙুর
রুবি রোমান আঙুর
এটিও জাপানে ফলানো হয়। বিশেষ প্রজাতির লাল আঙুর। তবে সাধারণ আঙুরের চেয়ে আকারে বড়। দেখতে পিংপং বলের মতো। প্রতিটির ওজন ২০ গ্রাম বা তার বেশিই হয়। এমন আঙুরের এক একটি থোকার দাম ৭.৭ লাখ থেকে ১১.২ লাখ টাকা অবধি হয়। একটি আঙুরের দাম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকারও বেশি।
তাইয়ো নো তামাগো
তাইয়ো নো তামাগো
জাপানের মিয়াজ়াকি অঞ্চলে বিখ্যাত আম তাইয়ো নো তামাগো। মিয়াজ়াকি আম নামেই এর পরিচিতি বেশি। এই আমের আর এক নাম 'সূর্যের ডিম'। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের প্রজাতি এই মিয়াজ়াকিই। জাপানি প্রজাতির এই আমের এক একটির ওজন কম করেও ৩৫০ গ্রাম। এমন এক জোড়া আমের দর উঠতে পারে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। মিয়াজ়াকিকে দেখতেও সুন্দর। টকটকে লাল রং, তাতে হালকা বেগুনি আভা। জাপানে দামি উপহার হিসাবে দেওয়া হয় এই আম।
ফিঙ্গার লাইম
ফিঙ্গার লাইম
লেবু জাতীয় ফল। অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়। এই লেবুগুলি লম্বাটে আঙুলের মতো দেখতে হয় এবং কাটলে ভিতর থেকে ছোট ছোট মুক্তোর দানার মতো রসালো অংশ বেরিয়ে আসে। খাবার পরিবেশনের সময়ে এই লেবু সাজিয়ে দেওয়া হয়। প্রতি কেজির দাম প্রায় ৯,৪০০ টাকা।
লস্ট গার্ডেনস অফ হেলিগান আনারস
লস্ট গার্ডেনস অফ হেলিগান আনারস
ব্রিটেনে পাওয়া যায় এমন আনারস। এটি ফলোনা হয় অন্য ভাবে। ঘোড়ার প্রস্রাব ব্যবহার করে ভিক্টোরিয়ান উদ্যানপালনের রীতি অনুসারে এই আনারস পাকানো হয়। একটি আনারস পাকতে বছর দুয়েক সময় লাগে। এই আনারস সাধারণত বিক্রি হয় না, তবে এক একটি আনারসের উৎপাদন খরচ ও আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। নিলামে এর দাম ১২ লাখ টাকা অবধি উঠতে পারে।
কান ইয়ায়ো ডুরিয়ান
কান ইয়ায়ো ডুরিয়ান
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার 'ফলের রাজা' বলা হয় ডুরিয়ানকে। তাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাওয়া যায় এই ফল। খুবই মিষ্টি এবং দেখতেও ভাল। ডুরিয়ান পুষ্টিগুণেও সেরা। ২০১৯ সালের নিলামে একটি ডুরিয়ান বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৫২ লাখ টাকায়। সাধারণত এক একটি ডুরিয়ানের দাম ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো।
ডেনসুক তরমুজ
ডেনসুক তরমুজ
জাপানের হোক্কেডো দ্বীপে পাওয়া যায় এমন তরমুজ। গায়ের রং কুচকুচে কালো। সাধারণ তরমুজের মতোও ডোরাকাটা দাগ থাকে না। ভিতরের শাঁস গাঢ় লাল রঙের। খুবই মিষ্টি এবং সাধারণ তরমুজের চেয়ে স্বাদ কিছুটা ভিন্ন। এই তরমুজ চাষের জন্য বিশেষ জমির প্রয়োজন হয়য় বছরে মাত্র কয়েক হাজার ডেনসুক তরমুজ ফলানো হয় এবং এক একটি ফলের দাম ২৩ থেকে ২৮ হাজার টাকা। এই ধরনের ফল নিলামেও ওঠে, যার এক একটির দাম হয় ৪০-৫০ লাখ টাকা।