হ্যাটট্রিক করেছেন লিয়োনেল মেসি। হ্যাটট্রিক করতে পারতেন কিলিয়ান এমবাপেও। চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন এমবাপে। পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল করতে পারতেন তিনি। কিন্তু সেই পেনাল্টি দেননি রেফারি। তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ঠিক কী হয়েছিল মাঠে?
দ্বিতীয়ার্ধে একটি বল পেয়ে প্রান্ত ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। তাঁর যা গতি ছিল তাতে গোলের কাছে পৌঁছে গেলে তাঁকে থামানো কঠিন ছিল। সেই সময় পিছন থেকে এসে সাদিয়ো মানে বক্সের মধ্যে ট্যাকল্ করেন। এমবাপে পড়ে যান। রেফারি আলিরেজা ফাঘানি প্রথমে কর্নার দেন। ফ্রান্সের ফুটবলারেরা পেনাল্টির আবেদন করছিলেন। ভার-ও রেফারিকে পরামর্শ দেন রিপ্লে দেখার। গ্যালারিতে তখন চিৎকারে কান পাতা দায়। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের মধ্যে ৭৫ হাজারই ছিলেন ফরাসি সমর্থক। সকলে ভাবছিলেন, পেনাল্টি হবে। সকলকে অবাক করে রেফারি ফাঘানি জানালেন, এমবাপেই ইচ্ছা করে মানের পায়ে পা লাগিয়েছেন। তাই কর্নার নয়, তার বদলে গোল কিক দেওয়া হয়।
রেফারি ফাঘানি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও জন্মসূত্রে তিনি ইরানের। এমবাপেকে পেনাল্টি না দেওয়া নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। কারণ, খালি চোখে দেখে মনে হয়েছিল, মানে বলে পা লাগাতে পারেননি। তাঁর পা সরাসরি এমবাপের পায়ে লাগে। আর ওই পরিস্থিতিতে যে কোনও স্ট্রাইকার ডিফেন্ডারের পা জড়িয়ে পড়বেন। ফুটবলে এ রকম পেনাল্টি হামেশাই দেখা যায়। কিন্তু ফাঘানি দিলেন না। উল্টে তাঁর মনে হয়েছে এমবাপেই ইচ্ছা করে মানের পায়ে পা লাগিয়ে পড়ে যান। রেফারির কথা শুনে অবাক হয়ে যান এমবাপে। তিনি বুঝতে পারছিলেন না, কোন যুক্তিতে পেনাল্টি বাতিল করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ধারাভাষ্যকার তথা ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলার অ্যালান শিয়ারার অবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, “আমি বুঝতেই পারলাম না। মানে স্লাইডিং ট্যাকল্ করেছিল। এমবাপের পায়ে লাগে। এমবাপে তো সামনে ছিল। তা হলে ও কী ভাবে মানের পায়ে পা লাগিয়ে পড়বে? খুবই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত।”
আরও পড়ুন:
আর এক ধারাভাষ্যকার প্যাট নেভিন বলেন, “খুব বাজে সিদ্ধান্ত। এর কোনও মানে হয় না। এমবাপে কী ভাবে পায়ে পা লাগাবে? আমি এই রকম বাজে যুক্তি আগে শুনিনি।” বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা পরিচালনা করা সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান বলেন, “সত্যি বলতে, আমি রেফারির এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। আমার মতে, এটা পরিষ্কার পেনাল্টি। আমার কাছে একের পর এক ফোন আসছে। তাদের প্রত্যেকের প্রশ্ন, কেন পেনাল্টি দেওয়া হল না। বুঝতে পারলাম না, ভার প্রযুক্তির পরেও কী ভাবে এত খারাপ সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।”
পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়ার পর জোড়া গোল করেন এমবাপে। পেলে, জঁ ফঁতেকে টপকে বিশ্বকাপে ১৪ গোলের মালিক হয়েছেন তিনি। ছুঁয়ে ফেলেছেন গার্ড মুলারকে। তাঁর সামনে এখন ব্রাজ়িলের রোনাল্ডো, আর্জেন্টিনার মেসি ও জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়ে। তবে মুলারকেও ছাপিয়ে যেতে পারতেন এমবাপে। পেনাল্টি দিলে তিনিই সেটি নিতেন। পেনাল্টি থেকে এমবাপে গোল সাধারণত মিস্ করেন না। যদি তা হত তা হলে বিশ্বকাপে পর পর দু’ম্যাচে হ্যাটট্রিক হত তাঁর। গত বারের বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এমবাপে। এ বার প্রথম ম্যাচেই সেই সুযোগ ছিল। কিন্তু রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে তা হল না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
- ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
- বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
-
১০:৩০
মেসির কান্না! আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম গোলের পর কেন কাঁদলেন, ম্যাচ শেষে নিজেই জানালেন লিয়ো -
০৮:৩০
বিশ্বকাপে নেমেই হ্যাটট্রিক মেসির! আলজেরিয়াকে হেলায় হারিয়ে লিয়ো বোঝালেন, চ্যাম্পিয়ন হতেই নেমেছে আর্জেন্টিনা -
০২:৩৪
দেশঁর এক চালে বাজিমাত ফ্রান্সের, জোড়া গোলে পেলেকে ছাপিয়ে গেলেন এমবাপে, সুযোগ নষ্টের খেসারত দিল সেনেগাল -
১৯:০০
রোনাল্ডোদের শিবিরে ঘুরছে কুমিরের দল! ভয়ে হোটেল ছাড়তে নারাজ পর্তুগালের ফুটবলারেরা, ঘাম ঝরাচ্ছেন জিমেই -
২০০ ম্যাচের মাইলফলকের সামনে মেসি, চোট সারিয়ে তৈরি মার্তিনেস, বিশ্বকাপে বুধবার ভোরে মাঠে নামার অপেক্ষায় লিয়ো