Advertisement
E-Paper

সকালের প্রথম ৯০ মিনিটই যথেষ্ট, কোন পাঁচ অভ্যাস রপ্ত করলে সুগার-প্রেশারের ভয় থাকবে না

সকালটা শুরু হয় অলস ভাবে। তার পর সারা দিনের ইঁদুরদৌড়। দিনের শেষে ক্লান্তি এতটাই বাড়ে যে শরীর ঝিমিয়ে পড়তে থাকে। কোনও কাজে উৎসাহ পাওয়া যায় না। খিদেও কমে যায়। রাতে শুয়ে ঘুম আসতে চায় না। এমন সব সমস্যা প্রায় প্রত্যেকেরই হয়। এর জন্য ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সকালের পাঁচ অভ্যাস রপ্ত করে নিলেই দিনভর চনমনে ও সতেজ থাকতে পারবেন অনায়াসেই।

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১৩:৫১
5 Simple Practices in the First 90 Minutes to Keep Sugar and Blood Pressure Under Control

সকালের কোন পাঁচ অভ্যাসে শরীর ভাল থাকবে, সুগার বা প্রেশার হবেই না। ছবি: ফ্রিপিক।

সকাল থেকেই তাড়াহুড়ো। একে তো ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়, তার পরে গতি বাড়িয়ে সংসার সামলে অফিস পৌঁছোনোর তাড়া। দিনভর অফিসের কাজের চাপে পিষ্ট হয়ে দিনের শেষে শরীরে একফোঁটাও শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। রোজের ইঁদুরদৌড়ে শরীর যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, তেমনই মানসিক ক্লান্তিও বাড়ছে। বেশির ভাগকেই বলতে শুনবেন, রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না, সকালে উঠে মাথাঘোরা বা বমি ভাব থাকে। খিদে কমছে, যখন খিদে পাচ্ছে তখন জাঙ্ক ফুড খেয়ে ফেলছেন। ফলে বিপদ ঘনাচ্ছে অজান্তেই। চুপিসাড়ে বাড়ছে সুগার, রক্তচাপ হয় ঊর্ধ্বে উঠছে না হলে কমছে। স্থূলত্ব, থাইরয়েডের মতো রোগ জীবনধারার সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে। এর থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং রোজের জীবনে পাঁচটি বিশেষ অভ্যাস রপ্ত করে ফেলতে হবে।

সকালের ৯০ মিনিটেই সতেজ ও চনমনে হবে শরীর

ঘুম থেকে উঠেই রোদে যান

ঘুমচোখ খুলে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখাই বেশির ভাগের অভ্যাস। ডিজিটাল স্ক্রিনের কৃত্রিম আলো দিনের শুরু থেকেই স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি মিনিট দশেকও রোদে থাকা যায়, তা হলে যেমন দৃষ্টিশক্তি উন্নত হবে, তেমনই শরীরে হরমোনের ক্ষরণ নিয়ম মেনে হবে। ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে ঝিমুনি থাকবে না। শরীর চনমনে হয়ে উঠবে।

চা-কফির আগে জল ও ইলেকট্রোলাইট

সারারাত ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিক ভাবেই জলশূন্য হয়ে পড়ে। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে জল ও ইলেকট্রোলাইট বা ডিটক্স পানীয় পান করা ভাল। জলে সামান্য নুন ও চিনি মিশিয়ে ইলেকট্রোলাইট বানাতে পারেন। অথবা মেথি-জিরে ভেজানো জল, ধনে ভেজানো জল খেলেও উপকার হবে।

জাপানি কৌশলে হাঁটা

এর পরের ধাপে শারীরচর্চা জরুরি। যিনি জিমে যান বা ঘরেই ঘাম ঝরিয়ে নানা ওয়ার্কআউট করেন, তিনি দিনভরই বাড়তি শক্তি পাবেন। যাঁর সে অবকাশ নেই, তিনি হাঁটতে পারেন অন্তত ২০-৩০ মিনিট। সে হাঁটা হনহনিয়ে নয়, জাপানি কৌশলে হেঁটে দেখতে পারেন। একে বলে ‘নাম্বা আরুকি’। জাপানের খুব প্রাচীন এক পদ্ধতি যাতে সারা শরীরের ব্যায়াম হয়। এ ভাবে হাঁটতে হলে ডান পা এগিয়ে দেওয়ার সময় ডান হাতটিও সামনে যাবে। অর্থাৎ, শরীরের একই দিকের হাত ও পা একই সঙ্গে এগোবে ও পিছোবে। সাধারণত উল্টোটই হয় হাঁটার সময়ে। এ ভাবে হাঁটলে ক্লান্তি আসে না, অস্থিসন্ধির ব্যথাও কমে যায়।

সকালের জলখাবারে প্রোটিন

সকালের খাবারে কার্বোহাইড্রেট যেমন, পাউরুটি, রুটি, পরোটা বা লুচির চেয়ে প্রোটিন যেমন ডিম, ছানা, ওট্‌স বা নানা রকমের বাদাম থাকা জরুরি। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়তে দেয় না। খিদে পাওয়ার হরমোন ঘেরলিনকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে দিনভর বিঞ্জ ইটিংয়ের প্রবণতা কমে।

৫ মিনিটের প্রাণায়াম

পেশাগত ক্ষেত্রে হোক বা ব্যক্তিগত জীবনে, মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়। উদ্বেগ হবেই, দুশ্চিন্তাও হবে। তবে তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার কৌশল জেনে রাখতে হবে। নিয়ম করে অভ্যাস করতে পারে ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম। পিঠ টানটান রেখে প্রথমে মুখ দিয়ে শ্বাস ছেড়ে ফুসফুসের সব বাতাস বার করে দিতে হবে। আবার গভীর শ্বাস নিয়ে যতটা সম্ভব ফুসফুসে বাতাস ভরে নিতে হবে। এর পর যত ক্ষণ সম্ভব শ্বাস আটকে রাখুন। আবার জোরের সঙ্গে সব বাতাস বার করে দিন। হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও এই প্রাণায়াম উপকারী।

Diet For Longevity Morning Habits Healthy Lifestyle
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy