কারও পছন্দ ভেড়া, কেউ তৃপ্ত হাঁসের মাংসে, বিশ্বকাপ দাপানো ফুটবলারদের প্রিয় খাবারের বিবরণ অবাক করবে
বিশ্বকাপ ঝড় শুরু হয়ে গিয়েছে। টিভির পর্দায় চোখ রেখে যে ফুটবলারদের মাঠ কাঁপাতে দেখবেন, তাঁদের কেউ পছন্দ করেন মাছ-ভাত খেতে, কারও প্রিয় মাংসের কাটলেট। ডায়েট ফাঁকি দিয়ে কী খেতে পছন্দ করেন মেসি-রোনাল্ডো-এমবাপেরা?
ফুটবল জ্বরে কাঁপছে বিশ্ব। ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এমবাপের গতি, মেসির নিখুঁত পাসিং কিংবা রোনাল্ডোর পাওয়ারফুল শটের ম্যাজিক দেখতে টিভির পর্দায় চোখ আটকে আপামর ফুটবলপ্রেমীর। বিশ্বকাপ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন যে ফুটবলাররা, তাঁদের ডায়েটে নজর রাখতেই হয়। সারা বছরে পছন্দের খাবার খাওয়ার ‘চিট ডে’ আসে হাতে গোনা। তবে ম্যাচ শেষে বা কাপ জয়ের পরে তাঁরা মনের মতো খাবার চেখে দেখতেই পছন্দ করেন। কারও পছন্দ পেঁয়াজকুচি দিয়ে সাঁতলানো মাছ, কেউ ভালবাসেন চিজ়ে ভরা মাংস, কারও আবার ভাত-ডাল-পাস্তা মেশানো খিচুড়ি। বিশ্বকাপে আপনার পছন্দের ফুটবলার কী খেতে ভালবাসেন, জানেন?
পর্তুগাল মানেই সিআর৭। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো যখন, তখন খাওয়াদাওয়া রাজকীয় হতেই হবে। তবে তাঁর পছন্দ পেঁয়াজ দিয়ে সাঁতলানো মাছ। পর্তুগালে এ খাবারটির নাম ‘ব্যাকালাও আ ব্রাস’। কড মাছকে পেঁয়াজকুচি, আলু ও ডিমের সঙ্গে কষিয়ে রান্না করা হয়।
ঘরোয়া খাবার বেশি পছন্দ লিওনেল মেসির। প্রিয় খাবার ‘মিলানেসা নিয়াপোলিটানা’। নামটি শুনতে অদ্ভুত হলে খাবারটি আসলে মাংসের কাটলেট। ব্রেডক্রাম্ব বা বিস্কুটের গুঁড়ো মাখিয়ে টম্যাটো সস, হ্যাম ও চিজ়ের পরত মাখিয়ে রাঁধা হয়। ম্যাচ জিতলে মাংসের কাটলেটই আয়েস করে খান ফুটবলের রাজপুত্র।
স্পেনের ঐতিহ্যবাহী হ্যামন ইবেরিকো উইথ মাঞ্চেগো চিজ় পছন্দ করেন কিলিয়ান এমবাপে। মেসির মতো চিজ়ে ঠাসা মাংসই বেশি প্রিয় ফরাসি ফুটবলারের। এমন চিজ় আবার তৈরি হয় ভেড়ার দুধ থেকে।
মাঠে তাঁর গতি দুরন্ত। শক্তি ধরে রাখতে নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করেন মহম্মদ সালাহ। মিশরীয় ফুটবলারের পছন্দের খাবার কোশারি। সে দেশে এটি খুবই জনপ্রিয়। ভাত, পাস্তা, ডাল, টম্যাটো সস ও নানা রকম মশলা সহযোগে খাবারটি বানানো হয়। উপর থেকে ছড়িয়ে দেওয়া পেঁয়াজের বেরেস্তা।
আরও পড়ুন:
স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের পছন্দের খাবার আলথ্ কন পোলো। নামটি যতই খটমট হোক না কেন, লাতিন আমেরিকার সুস্বাদু খাবারটি আসলে চিকেন দিয়ে ভাত। এর সঙ্গে মেশানো হয় বাদাম দিয়ে তৈরি ঘন সস।
ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার পছন্দ মায়ের হাতে তৈরি ঘরোয়া খাবার। পঞ্চব্যঞ্জন সহযোগেই খেতে পছন্দ করেন নেমার দা সিলভা স্যান্টোস জুনিয়র। তাঁর থালা সাজানো হয় ভাত, বিন, ভাজা আলু এবং মাংসের যে কোনও একটি পদ দিয়ে।
বেলজিয়ামের হয়ে মাঠ কাঁপাবেন কেভিন ডি’ব্রুইন। তাঁর আবার পছন্দ এক বিশেষ ধরনের ইটালীয় পাস্তা— পালং শাক দিয়ে রিকোটা ক্যানেলোনি। লম্বাটে নলাকার পাস্তার ভিতরে পালং শাক ও চিজ়ের পুর ভরে বেক করা হয়। উপর থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় আরও খানিকটা চিজ় ও ঘন সস।
কন্টিনেন্টাল ঘরানার খাবারই পছন্দ ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনের। ভাত, স্যামন মাছ ও হালকা ভাপানো সব্জিই তাঁর ‘কমফর্ট ফুড’।
আরও পড়ুন:
নানা রকম মশলা দিয়ে ম্যারিনেট করা গ্রিলড বিফ (বুলগোগি) এবং সঙ্গে কিমচি খেতে ভালবাসেন দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক সন হিউ মিন। যে কোনও খাবারের সঙ্গেই নাকি তাঁর দেশের আচার বা কিমচি চাখতে পছন্দ করেন তিনি। ঝাল ও টক-মিষ্টি স্বাদের কিমচি না হলে তাঁর খাওয়া ঠিক জমে না।
ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী খাবার ফেজোয়াদাই বেশি পছন্দ ভিনিসিয়াস জুনিয়রের। খাবারটি কালো বিন, শূকরের মাংস বা বিফ দিয়ে কম আঁচে রান্না করা এক ধরনের ঘন স্ট্যু। ঝরঝরে সাদা ভাতের সঙ্গে খেতে ভালবাসেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
ইংল্যান্ডের তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের পছন্দের ‘চিট মিল’ সানডে রোস্ট। ব্রিটেনে এই খাবারটি খুবই জনপ্রিয়। রোস্টেড মাংস (সাধারণত বিফ বা চিকেন), রোস্টেড আলু, নানা রকম সেদ্ধ সব্জি ও পুডিং দিয়ে পরিবেশন করা হয় তা।
ক্রোয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পেকা’। ভেড়ার মাংস, অক্টোপাস, আলু সব একসঙ্গে মিশিয়ে বড় লোহার পাত্রে কম আঁচে ঢেকে ঘন ঝোল রান্না করা হয়। অক্টোপাসের এই ঝোল চেটেপুটে খেতে পছন্দ করেন ক্রোয়েশিয়ার তারকা ফুটবলার লুকা মদ্রিচ।
বিশ্বের অন্যতম আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত জার্মানির জামাল মুসিয়ালা। খেতে পছন্দ করেন শ্নিটসুল। নামটি বেজায় কঠিন হলেও এটিকে মাংসের কাটলেটই বলা যায়। মাংসের টুকরো পাতলা ও লম্বা করে কেটে ব্রেডক্রাম্বে মাখিয়ে মুচমুচে করে ভাজা হয়। উপরে লেবুর টুকরো সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়।
বেলজিয়ামের তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু খেতে ভালবাসেন মাংসের স্ট্যু। বেলজিয়ান বিয়ারের মধ্যে থাইম, তেজপাতা এবং পেঁয়াজ দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সেদ্ধ করা হয়। এর স্বাদ হয় টক-মিষ্টি। বেলজিয়ামে খাবারটি 'কার্বোনেড ফ্ল্যামান্ড' নামে জনপ্রিয়।
রিয়াল মাদ্রিদ ও উরুগুয়ে জাতীয় দলের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দের পছন্দের খাবার অ্যাসাডো। এটি উরুগুয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবারও বটে। লোহার পাত্রে কাঠকয়লার আগুনে বড় বড় টুকরো করা মাংস ঝলসানো হয়। খুব বেশি মশলা থাকে না, শুধু নানা ধরনের সস ব্যবহার করা হয়।
ফিলাডেলফিয়া চিজ়স্টেক দেখলেই জিভে জল আসে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের। স্যান্ডউইচের ভিতরে পাতলা করে স্লাইস করা মাংস, গলানো চিজ় পুরে বানানো হয় খাবারটি। ম্যাচ শেষে চিজ় ও মাংসে ঠাসা খাবারটি খেতেই বেশি পছন্দ করেন আমেরিকার তারকা ফুটবলার।
হাঁসের মাংসের পোলাও খুবই পছন্দ পর্তুগালের বার্নার্ডো সিলভার। হাঁসের মাংসকে মশলা দিয়ে কষিয়ে তাতে ভাত দিয়ে পোলাও রাঁধা হয়। উপরে আবার সসেজ দিয়ে বেকও করা হয়। খাবারটির পোশাকি নাম 'আররথ দে পাতো'।
নরওয়ের বাসিন্দা হলেও আর্লিং হালান্ডের পছন্দের খাবার তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী কবাব। নানা মশলা ও ভেষজ সহযোগে গ্রিল করে বা আগুনে পুড়িয়ে তৈরি হয় এমন কবাব। খেতে সুস্বাদু, প্রোটিনে ভরপুর এই খাবারই সবচেয়ে বেশি প্রিয় ফুটবল তারকার।