বলি নায়কের সৎভাইয়ের সঙ্গে ক্ষণিকের প্রেমে পালিয়ে বিয়ে, নির্যাতনের শিকার হয়ে এক মাসের কন্যাকে নিয়ে ঘর ছাড়েন নায়িকা
বিবাহবিচ্ছেদের পর একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু কোনও সম্পর্কই সুখকর হয়নি। বার বার মন ভেঙেছে তাঁর। ধারাবাহিকে কাজ করাকালীন অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিলেন। তাই অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কিশোরী বয়স থেকেই সুখে সংসারে করার ইচ্ছা ছিল অভিনেত্রীর। অভিনয় করতেন শখে। তিনি যখন পেশাজীবনে সাফল্যের চূড়ায়, তখনই স্বপ্নপূরণের জন্য এক বলি অভিনেতার সৎভাইয়ের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলেন। কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবে পরিণত হল না অভিনেত্রীর। বছরের পর বছর শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক মাসের সন্তানকে নিয়ে স্বামী-সংসার ত্যাগ করেছিলেন টেলিভিশনের অভিনেত্রী ইভা গ্রোভার।
অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছা কোনও দিনই ছিল না ইভার। ফ্যাশন ডিজ়াইনিং নিয়ে ডিপ্লোমা করেছিলেন তিনি। তার পর হঠাৎ বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে তাঁর কাছে। উপার্জনের তাগিদে একের পর এক বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতে শুরু করেন ইভা। সেখান থেকে বড়পর্দায় এবং পরে ছোটপর্দার অতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। অভিনয়জীবনে সাফল্য পেলেও ব্যক্তিজীবন বেদনাময় ছিল তাঁর। সম্প্রতি ভিকি লালওয়ানির পডকাস্টে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন ইভা।
বলিউডের ‘পারফেকশনিস্ট’ আমির খানের সৎভাই হায়দর আলি খানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ইভা। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৭ বছর। অভিনয় তিনি করছিলেন শখে। তবে কম সময়ের মধ্যেই পরিচিতি তৈরি করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ে-স্বামী-সংসারের স্বপ্নের পিছনে ছুটতে গিয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে এনেছিলেন ইভা।
পডকাস্টে ইভা জানান, হায়দরের সঙ্গে মাত্র ১৮ দিনের প্রেম ছিল তাঁর। কয়েক দিন ডেট করার পরেই ইভাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন হায়দর। তখন আমিরের সৎভাইয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন ইভা। তাঁকে বিয়ে করতে রাজিও হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ইভার বাবা মারা গিয়েছিলেন। মাকে নিয়েই তাঁর একার সংসার। কিন্তু হায়দরের সঙ্গে বিয়েতে সম্মতি জানাননি ইভার মা।
কানাঘুষো শোনা যায়, হায়দর ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে আপত্তি জানিয়েছিলেন ইভার মা। অন্য দিকে, ইভার ঘনিষ্ঠেরাও সেই বিয়েতে মত দেননি। এত অল্প দিনের আলাপে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলেন বলে ইভাকে অনেকে সাবধানও করেছিলেন। কিন্তু ইভার চোখে তখন সুখের সংসারের স্বপ্ন। হায়দরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বয়স মাত্র ১৯ দিন। সে দিনই দু’জনে পালিয়ে বিয়ে করেন।
আরও পড়ুন:
বিয়ের চার দিনের মাথায় ইভার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘আমার বাড়িতে কোনও পুরুষ সদস্য ছিল না। তাই পরিবারে কোনও পুরুষকে দেখিনি আমি। হায়দরকে বিয়ে করার পর বুঝতে পারলাম, পুরুষদের কত আগ্রাসন থাকে। কিন্তু এই মানুষটার সঙ্গে আমি সম্পর্কে ছিলাম না। বিয়ের পর দেখি, ও একেবারেই অন্য মানুষ।’’
ইভার কথায়, ছোটখাটো বিষয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলতেন হায়দর। প্রচণ্ড রাগারাগি করতেন তিনি। এমনকি, শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হয়েছিলেন ইভা। তবুও মুখ বুজে সব সহ্য করতেন। আমিরের বাবা এবং হায়দরের সৎবাবা তাহির হুসেন বহু বার হায়দরকে তাঁর রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু কারও কথা শুনতেন না হায়দর।
ইভা বলেন, ‘‘দিনের পর দিন আমি সহ্য করে গিয়েছি। প্রত্যেক নারীই ভাবেন যে, সন্তান এলে সব ঠিক হয়ে যাবে। স্বামীর মন ফিরে পাওয়া যাবে, সংসারে শান্তি আসবে। আমিও তাই ভেবেছিলাম। বিয়ের তিন-চার বছর পর সন্তানধারণের সিদ্ধান্ত নিই। হায়দরেরও অমত ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুই বদলাল না।’’
২০০৯ সালে ‘দিল তো দিওয়ানা হ্যায়’ নামের একটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে বলিপাড়ায় পা রেখেছিলেন হায়দর। কিন্তু প্রথম ছবির পরেই ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যান তিনি। অন্য দিকে, সংসারের খরচ চালাতে অন্তঃসত্ত্বা হয়েও শুটিং করে চলেছিলেন ইভা। ইভার চোখেমুখেও শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের ছাপ ফুটে উঠতে শুরু করেছিল। তাঁকে এমন শোচনীয় অবস্থায় দেখতে না পেরে এগিয়ে এসেছিলেন ধারাবাহিকের সহ-অভিনেতা, সহ-অভিনেত্রীরা।
আরও পড়ুন:
ইভার সহকর্মীরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। ইভার মা জেদ ধরে বসেছিলেন যে, মেয়ে যখন তাঁর কথা অমান্য করে পালিয়ে গিয়েছে, তখন আর তাঁকে ফেরাবেন না। কিন্তু সহকর্মীদের অনুরোধে মন গলে ইভার মায়ের। মেয়ের দুঃখ-কষ্ট আর সহ্য করতে পারছিলেন না তিনি। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর এক মাসের সন্তানকে নিয়ে হায়দরের সংসার ছেড়ে বেরিয়ে যান ইভা।
২০০৮ সালের এপ্রিলে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় ইভা এবং হায়দরের। তাঁদের কন্যার দায়দায়িত্ব নিয়ে নেন হায়দরের বোন। ইভার সঙ্গে তাঁর সন্তানের নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ হলেও হায়দর তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ রাখেননি বলে দাবি করেন ইভা। তবে, বিবাহবিচ্ছেদের পর নানা রকম চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছিল ইভাকে।
বিবাহবিচ্ছেদের পর একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ইভা। কিন্তু কোনও সম্পর্কই সুখকর হয়নি। বার বার মন ভেঙেছে ইভার। ধারাবাহিকে কাজ করাকালীন অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিলেন তিনি। তার প্রভাব পড়েছিল ইভার স্বাস্থ্যেও। তাই অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
দু’-তিন বার অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন ইভা। এমনকি, ‘বিগ বস্’-এর মতো জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়েও প্রতিযোগী হয়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর মতো মানসিক জোর ছিল না তাঁর। তাই সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি।
বর্তমানে জ্যোতিষবিদ্যা এবং সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে চর্চা করে অবসর সময় কাটান ইভা। অভিনয়ে আবার ফেরার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। সে কারণে সমাজমাধ্যমে নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন আমিরের সৎভাইয়ের প্রাক্তন স্ত্রী ইভা।