উল্কাবেগে উত্থান, ভয়ঙ্কর বিতর্কে পাশে দাঁড়ান মমতা, অভিষেকের জুতোয় পা গলানো সেই সায়নীও এ বার বেসুরো!
অভিনয়জগৎ থেকে তৃণমূলের হাত ধরে রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশ করা সায়নীর যাত্রাপথ এত দিন পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে মসৃণই ছিল। এমনকি ভয়ঙ্কর বিতর্কে জড়িয়েও তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিশেষ কোনও প্রভাব পড়েনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচক ছিলেন এককালে। পরে তাঁর হাত ধরেই রাজনীতিতে পা দেন। অনেকে বলেন, গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে চালচলন, পোশাক-আশাক, ভাবভঙ্গি— তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই অনুসরণ করা শুরু করেছিলেন দলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ! এমনকি, মমতা দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ধরাশায়ী হওয়ার মাস দেড়েক পর সেই সায়নীই এ বার বেসুরো।
কেউ দ্বিধা কাটিয়ে, আবার কেউ কিছুটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই এসে যোগ দিয়েছেন লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূলী সাংসদদের মঞ্চে। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে, অন্তত ২০ জনের সই-সহ চিঠি স্পিকারের কাছে পাঠানোর জন্য চূড়ান্ত। বিদ্রোহী শিবির থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, চিঠিতে এখনও পর্যন্ত সই করেছেন ইউসুফ পাঠান, শত্রুঘ্ন সিন্হা, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। সই করেছেন সায়নীও। এর আগে সই ছিল মালা রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, মিতালি বাগদের। ২০ জন আছেনই, সংখ্যা নাকি বাড়তেও পারে। সূত্রের খবর, নতুন সংযোজন হতে চলেছেন প্রতিমা মণ্ডল।
বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির বুধবার রাতে দাবি করেছে, চিঠি কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে গিয়েছে। অন্য দিকে, স্পিকারের সচিবালয় জানাচ্ছে, এখনও তা আসেনি। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, সামান্য বিলম্ব হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়ে যাবে বিদ্রোহীদের তরফে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এনডিএ বৈঠকের পরে রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান। এই বাড়িতেই সোমবার বিদ্রোহীরা বৈঠক করেছিলেন। ওই দিন শুভেন্দুর সঙ্গে সায়নী-মালা-মিতালি-ইউসুফের পাশাপাশি প্রতিমা মণ্ডলও ছিলেন বলে সূত্রের দাবি। আদি তৃণমূলে এখনও অবধি খাতায়-কলমে ‘আছেন’— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সাজদা আহমেদ, কীর্তি আজাদ।
কিন্ত এঁদের মধ্যে সায়নীর নাম আলাদা করে নজর কেড়েছে। যে সাদা শাড়ি মমতার চেনা সাজ, তৃণমূলের ভরাডুবির আগে প্রায় একই সাজে দেখা যেত সায়নীকে। তা দলীয় বৈঠকই হোক বা জনসভা। অভিনয়জগৎ থেকে আসা সায়নীর শুধু পোশাকেই বদল আসেনি। তাঁর চলাফেরা, কথাবার্তায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু রাজনীতি সর্বদা অনিশ্চিত। আর যখন দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হয়, তখন রাজনৈতিক চাল বা পদক্ষেপগুলি হয়ে ওঠে আরও বেশি অনিশ্চিত। তৃণমূলের অন্যতম সোচ্চার সাংসদ সায়নীর ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছে। তাঁকে এখন দলের বিদ্রোহী শিবিরে এক অপ্রত্যাশিত সংযোজন হিসাবে দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
যদিও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কড়া ভাষায় আক্রমণ এবং দলীয় নেত্রী মমতার প্রতি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাবের জন্য পরিচিত সায়নী এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ঘটা সবচেয়ে বড় সঙ্কটের আবহে তিনি ইতিমধ্যেই নিজের অবস্থান ঠিক করে ফেলেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের এক মাস পর দলের নির্দেশ অমান্য করে সংসদে একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে উদ্যোগী হওয়া যে ২০ জন সাংসদকে নিয়ে আলোচনা চলছে, যাদবপুরের সাংসদ সায়নী এখন তাঁদেরই একজন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে যে, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সায়নী। তাঁর হাত ধরেই বিরোধী শিবিরে প্রবেশ করেছেন তিনি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্ভবত দিল্লিতেই বাকি বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে ঘাঁটি গেড়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার কলকাতা ফেরেন তিনি।
ঘোষের এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা তৃণমূলের কাছে বড়সড় ধাক্কা হিসাবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, তিনি ছিলেন মমতার অন্যতম সোচ্চার সমর্থক। সম্প্রতি তাঁকে দলের যুব শাখার প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি মমতাকে ‘ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী’ হিসাবেও মন্তব্য করেছিলেন। একটি সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি কখনওই মমতার সঙ্গ ছাড়বেন না।
সায়নীর পদক্ষেপ বিস্ময়কর মনে হওয়ার কারণ, বিজেপি এবং এনডিএ-র বিরুদ্ধে তাঁর ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক অবস্থান। বছরের পর বছর ধরে তিনি বিজেপির বিভিন্ন নীতির বিরোধিতা করে এসেছেন, যার মধ্যে ‘নারী সংরক্ষণ বিল’-ও অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া তিনি নির্বাচন কমিশনেরও কড়া সমালোচক ছিলেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছিলেন।
আরও পড়ুন:
নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর সায়নী দাবি করেছিলেন, ‘ভোট চুরি’র কারণেই মমতা হেরেছেন এবং তাঁর দল আদতে নির্বাচনে পরাজিত হয়নি। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমরা হারিনি। বরং ভোট চুরি এবং লুটের মাধ্যমে তৃণমূলকে পরাজিত করা হয়েছে। ২০২৯ সালে বাংলার মানুষ তথা সারা দেশের মানুষ, এবং ২০৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেরা, এখানকার মাটি ও মানুষ এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’’
অভিনয়জগৎ থেকে তৃণমূলের হাত ধরে রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশ করা সায়নীর যাত্রাপথ এত দিন পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে মসৃণই ছিল। এমনকি ভয়ঙ্কর বিতর্কে জড়িয়েও তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিশেষ কোনও প্রভাব পড়েনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলে তাঁর সাংগঠনিক দায়দায়িত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধীরে ধীরে পুরোদস্তুর রাজনীতিক হয়ে ওঠেন সায়নী। তা নজরে রেখেই ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা।
রাজনীতির ময়দানে শিল্পীদের আনাগোনা কোনও নতুন ঘটনা নয়। তাপস পাল, দেবশ্রী রায়, শতাব্দী রায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়েরা বছরের পর বছর ধরে রাজনীতি করেছেন। তাঁদের পর রাজনীতিতে পা রেখেছেন দেব, মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহান, সোহম চক্রবর্তীর মতো নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা। তৃণমূলে কিছু দিন থেকে পরে পদ্মশিবিরে চলে যেতে দেখা গিয়েছে রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জুন মালিয়া , রাজ চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিক, মানালি দে, সুদেষ্ণা রায়, ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি ও ফুটবলার সৌমিক দে-র সঙ্গে সায়নীও তৃণমূলে যোগ দেন। শাসকদলের একাংশের বক্তব্য, সেই সময় যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের তুলনায় অনেক কম সময়ের মধ্যেই দলে গুরুত্ব বাড়ে সায়নীর। তাঁর উত্থানকাহিনিও নজরকাড়া।
তৃণমূলে যোগদানের আগে ঘনিষ্ঠ মহলে ‘বামঘেঁষা’ বলেই পরিচিত ছিলেন সায়নী। সমাজমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যেও বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। পরিচালক অনীক দত্তের রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর হল না পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তাঁকে পথে নামতে দেখা গিয়েছিল। এমনকি, চলচ্চিত্র উৎসবে ছবির পোস্টারের বদলে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কেন থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছিল টলিপাড়ায় ‘ঠোঁটকাটা’ বলে পরিচিত সায়নীকে। সমাজমাধ্যমে এক বার ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের বিরোধিতা করায় বিজেপির রোষে পড়েছিলেন সায়নী। সেই সময় অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। তৃণমূলের একাংশ মনে করেন, ওই ঘটনার পর থেকেই ধীরে ধীরে দলের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ে তাঁর।
‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে বিজেপির সঙ্গে বাগ্যুদ্ধে সায়নীর পোস্ট করা একটি পুরনো টুইট তুলে এনেছিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথাগত রায়। সেখানে শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরানো এক মহিলাকে ‘বুলাদি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সায়নী হিন্দু ধর্মের অপমান করেছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তথাগত। ভয়ঙ্কর সেই বিতর্ক আদালত পর্যন্ত পৌঁছোয়।
সেই সময় সায়নীর সমর্থনে মাঠে নেমেছিলেন মমতা। সমাজমাধ্যমে সায়নীকে হুমকি দেওয়ার তীব্র সমালোচনা তো করেনই, বিজেপিকে হুঁশিয়ারিও দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘ক্ষমতা থাকলে সায়নীর গায়ে কেউ হাত দিয়ে দেখাক।’’ তার পর থেকেই সায়নী এবং তৃণমূলের ‘পরিবর্তিত রসায়ন’ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সায়নীর তৃণমূলে যোগদানের পর সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ে। এর পর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সায়নীকে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিলেন মমতা। যদিও সায়নী হেরে গিয়েছিলেন বিজেপির অগ্নিমিত্রা পালের কাছে।
ভোটে হারলেও তৃণমূল এবং আসানসোলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেননি সায়নী। বরং, করোনা এবং কার্যত লকডাউনের পরিস্থিতিতে বার বার গিয়েছেন আসানসোল। ত্রাণ বিলি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নানা সমস্যায় তিনি পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এর পরেই সায়নীকে দলের যুব সংগঠনের দায়িত্ব দেন তৃণমূল নেতৃত্ব। যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে সায়নী বলেছিলেন, ‘‘তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। দায়িত্ব যখন পেয়েছি, এই মুহূর্ত থেকে কাজ শুরু করতে চাই।’’
সায়নী যে দায়িত্ব পেয়েছিলেন, সেই দায়িত্বে আগে ছিলেন সঞ্জয় বক্সী, মদন মিত্র, শুভেন্দু অধিকারী (বর্তমানে তিনি বিজেপিতে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী), সৌমিত্র খাঁ (তিনিও এখন বিজেপিতে)। সায়নীর আগে ওই পদে অভিষেক ছিলেন। ফলে হিসাবমতো, অভিষেকের জুতোয় পা গলিয়েছিলেন তিনি। আর অভিষেককে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। তৃণমূলের অনেকেই মনে করেন, যুবর দায়িত্ব পাওয়ার পরেই অভিনেত্রী থেকে ধীরে ধীরে নেত্রী হয়ে ওঠা শুরু হয় সায়নীর। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পর ত্রিপুরায় সায়নীকে পাঠিয়েছিল দল। পড়শি রাজ্যে গ্রেফতারও হয়েছিলেন সায়নী। সেখানে কয়েক দিন জেলেও ছিলেন।
পুরোদমে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেও অভিনয়জগৎ ছেড়ে কখনওই বেরোননি অভিনেত্রী। অভিনয় এবং রাজনীতি হাত ধরাধরি করেই চলেছে। দু’-একটি বাংলা ছবিতে অভিনয় করার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ়েও কাজ করেছেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর বিতর্কেও জড়িয়েছেন সায়নী। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কুন্তল ঘোষের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ের তদন্তে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার তলবে সাড়া দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি দফতর থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, “আমাকে যদি একশো বার তলব করা হয়, আমি একশো বারই আসব। আজ ওঁরা কিছু নথি নিয়ে আসতে বলেছিলেন। আমি সে সব জমা দিয়েছি। আরও কিছু নথি চাওয়া হয়েছে।”
এ বারের লোকসভা ভোটে যাদবপুর কেন্দ্রে সায়নীকে প্রার্থী করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়েছিলেন সায়নী। প্রবল গরমেও হুডখোলা গাড়িতে করে প্রচার করেছিলেন। এক বার অসুস্থও হয়েছিলেন প্রচারে বেরিয়ে। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায় জিতে গিয়েছেন সায়নী। সাংসদ হয়ে দিল্লির রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি।
এর পর সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে ভালই ছিলেন সায়নী। তবে আবার বিতর্কে জড়ান সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আগে। বিভিন্ন সভায় বিভিন্ন প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে গিয়ে ‘আমার হৃদয়ে কাবা, নয়নে মদিনা’ গানটি বার বার গেয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সায়নী। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এর পর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের পর কয়েক দিন দলের হয়ে গলা তুললেও বিগত কয়েক দিন ধরে চুপ রয়েছেন সায়নী। এ বার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তাঁর বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার।