মধুচন্দ্রিমার সাক্ষী অক্টোপাস, অবসরের সঙ্গী মাছের দঙ্গল, সমুদ্রের গভীরে বিলাসের ঠিকানা
পাহাড়চূড়ায় বা অরণ্যে নয়, মধুচন্দ্রিমা হতে পারে সাগরের অতলেও। সমুদ্রের গভীরে বিলাসের ঠিকানা বিশ্বের নানা দেশেই। কী আছে সেখানে?
জঙ্গল-পাহাড়-মরুভূমি নয়। মধুচন্দ্রিমা হতে পারে সাগরের অতলেও।
প্রেমের সাক্ষী থাকতে পারে বিশালাকার হাঙর, কচ্ছপ, অক্টোপাস আর নীল, লাল, হলুদ মাছ।
বিয়ের পর প্রিয় মানুষটির সঙ্গে একান্ত যাপন নিয়ে স্বপ্ন থাকে অনেকেরই। মধুচন্দ্রিমার দিনগুলি স্মরণীয় রাখতে কেউ বেছে নেন পাহাড় চূড়ার মনোরম হোটেল, কেউ আবার মিহি বালুরাশির ঘন নীল জলের সাগর সৈকতে ক্যাম্পফায়ারের স্বপ্ন সাজান।
মধুচন্দ্রিমার অনন্য অভিজ্ঞতা আজীবন মনের খাতায় লিখে রাখতে চেনা ছকের বাইরেও ভাবা যায়। সাগরতট বা বরফাবৃত শৈলরাজি নয়, মধুচন্দ্রিমা হতে পারে জলের তলাতেও। বিশ্বের নানা দেশেই সমুদ্রের তলায় তৈরি হয়েছে এমন সব হোটেল, যা তাক লাগিয়ে দিতে পারে।
সমুদ্র নীচের যে জীবজগৎ টিভি বা মোবাইলের পর্দায় দেখা যায়, সেই জীবনই চাক্ষুষ করা যায়, এমন স্থানে দুধ-সফেন বিছানায় শুয়ে। প্রিয় মানুষটির বাহুলগ্ন হয়েই উপভোগ করা যায় হাঙরের আনাগোনা, মাছেদের খুনসুটি।
আরও পড়ুন:
হোটেল নয়, এমন স্থানে এলে মনে হবে এ যেন কোনও জীবন্ত অ্যাকোয়ারিয়াম। তফাত একটাই, অ্যাকোয়ারিয়ামের ভিতরে থাকে মানুষ। সামুদ্রিক প্রাণীরা এখানে স্বাধীন, মুক্ত।
আড়ম্বরের এখানে কোনও অভাব নেই। বিলাসিতার সমস্ত আয়োজনই মজুত। রেস্তরাঁগুলিও এমন ভাবে তৈরি, যেখানে বসে ওয়াইন গ্লাসে চুমুক দিতে দিতেই উপভোগ করা যায় সমুদ্রের তলদেশের জীবন।
বিশ্বের নানা প্রান্তেই রয়েছে এমন ঠিকানা। এমন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে যেতে পারেন মলদ্বীপ থেকে তানজ়ানিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা অস্ট্রেলিয়াতেও। কোথাও আবার জলের তলায় রয়েছে হোটেল নয়, শুধুই রেস্তরাঁ।
আরও পড়ুন:
মলদ্বীপের কনরাড ’স রাঙ্গালি দ্বীপে ২০১৮ সালে তৈরি হয়েছে ‘দ্য মুরাকা’ হোটেল। ডাভেলি ভাষায় এর অর্থ 'প্রবাল'। সমুদ্রের ১৬ ফুট নীচের এই হোটেলে রয়েছে এমন শোয়ার ঘর, যেখান থেকে সমুদ্রের তলদেশের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য দেখা যায়।
দ্বিতল বিশিষ্ট এই হোটেলের উপরিতল থেকে সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সেখানে রয়েছে ইনফিনিটি পুল। আবার নীচের তলা থেকে দেখা যায় সাগরের তলদেশে সামুদ্রিক প্রাণীদের আনাগোনা। এই হোটেলে এক রাত এক জনের থাকার খরচ লক্ষাধিক টাকা।
তানজ়ানিয়ার পেম্ব্রা দ্বীপে রয়েছে মান্টা রিসর্ট। সৈকত থেকে ২ মিনিট নৌকোয় যেতে হয়। এখানে জলের তলায় রয়েছে ঘর। তিন তল বিশিষ্টি এই হোটেলের সমুদ্রে নিমজ্জিত ঘর থেকে দৃশ্যমান রঙিন প্রবাল। ডেক থেকে দেখা যায় সমুদ্রের রং-বৈচিত্র। এমন একটি ঘরে থাকতে গেলে এক রাতে ভাড়া গুনতে হয় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।
সমুদ্রের নীচে ঘরে থাকার সুযোগ মেলে অস্ট্রেলিয়ার ‘গ্রেট বেরিয়ার রিফ’-এর অদূরে হুইটসানডে আইল্যান্ডে। এখানেই রয়েছে রিফস্যুটস হোটেল। কুইন্সল্যান্ড থেকে ৪৬ মাইল দূরে পর্যটকদের জন্য স্নরকেলিংয়ের সুযোগ থাকে। তার পর খোলা আকাশের নীচে নৈশভোজের পরে জলের তলার হোটেলে আনা হয়।
জলের তলার হোটেলের ঘরগুলির একটি দেওয়াল জুড়ে রয়েছে বিশাল কাচের জানলা। সেখান থেকেই দেখা যায় সামুদ্রিক প্রাণীদের আনাগোনা। এমন একটি ঘরে রাতে থাকার খরচ দেড় থেকে আড়াই লক্ষ টাকা।
সিঙ্গাপুরের সেন্টোসা দ্বীপেও রয়েছে জলের তলার জীবন উপভোগের সুযোগ। রিসর্ট ওয়ার্ল্ড সেন্টোসায় সমু্দ্রের তলদেশ দেখার জন্য রয়েছে বিশাল অ্যাকোয়ারিয়াম। তবে মলদ্বীপের মতো এখানে ঘরে শুয়ে সামুদ্রিক জীবন দেখার সুযোগ নেই।
জলের তলায় থাকার জন্য হোটেল যেমন আছে, তেমনই বিশ্বের নানা জায়গায় জলের তলার রেস্তরাঁও রয়েছে। সেখানে রাত্রিবাসের সুযোগ না থাকলেও, প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ভোজ সারতে সারতে উপভোগ করা যায় সমুদ্রের নীচের সৌন্দর্য।
দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম সামুদ্রিক পার্ক উশাকা।সেখানেই রয়েছে সুবিশাল অ্যাকোয়ারিয়াম। সেখানেই রয়েছে রেস্তরাঁ। মেনুতে থাকে সামুদ্রিক খাবার।
আমেরিকার হিউস্টনে ডাউনটাউন অ্যাকোয়ারিয়াম হতে পারে স্মরণীয়। এখানে ছাদটি স্বচ্ছ নয়। তবে দেওয়াল জুড়ে থাকা স্বচ্ছ কাচের ও পারে ঝাঁকে ঝাঁকে সাঁতরে বেড়ায় মাছ, রকমারি সামুদ্রিক প্রাণী।
দুবাইয়ের আটলান্টিস হোটেলে ‘ওশিয়ানো’, নরওয়ের অতলান্তিক মহাসাগরের নীচে থাকা ‘আন্ডার’-সহ বিশ্বের অনেক দেশেই অ্যাকোয়ারিয়াম রেস্তরাঁ আছে। যেখান থেকে সমুদ্রের নীচের জগৎটি দেখা যায়।