কেউ অতর্কিতে চুমু খেয়েছেন, কারও ‘প্রেম’ পৌঁছেছে আদালতে! কখনও আবার তারকাপুত্র জেলবন্দি, বলিউডের কিছু বিতর্ক যা সারা দেশে হইচই ফেলে দেয়
বলিউডে এমন কিছু বিতর্ক হয়েছে গত কয়েক বছরে, যা এখনও তাজা মানুষের স্মৃতিতে। কোন কোন তারকা বার বার বিতর্কে থেকেছেন? কী নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন তাঁরা?
রোজ কত কিছুই তো ঘটে যাহা তাহা। কিন্তু, তা বলে সব খবর তো মানুষের স্মৃতিতে ছাপ রেখে যায় না। কিছু ঘটনা এমন হয়, মাস কিংবা বছর কেটে গেলেও যার অভিঘাত রয়ে যান দর্শকের মনে। বলিউডে এমন কিছু বিতর্ক হয়েছে গত কয়েক বছরে, যা এখনও তাজা মানুষের স্মৃতিতে। যে যে তারকা বার বার বিতর্কে থেকেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রথম দিকেই সলমন খান। তাঁর প্রেমজীবন থেকে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ, সলমন যেন বলিউডের ‘ব্যাড বয়’। তবে তালিকা দীর্ঘ। রইল এক এক তারকার জীবনের এক এক ঘটনার কথা।
সলমন খানের সঙ্গে ঐশ্বর্যা রাইয়ের প্রেম নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রবল। তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল সঞ্জয় লীলা ভন্সালী পরিচালিত ‘হম দিল দে চুকে সনম’-এর সেটে। তখন ঐশ্বর্যা নবাগতা। বলিউডে সে ভাবে জমি পাননি। অন্য দিকে, সলমন বেশ প্রতিষ্ঠিত। তখন একে অপরের প্রেমে নাকি হাবুডুবু খেয়েছেন। অভিনেত্রী কার সঙ্গে কাজ করবেন, কোন ছবি নেবেন, সে ব্যাপারেও পরামর্শ দিতে শুরু করেন সলমন। শোনা যায়, ধীরে ধীরে ঐশ্বর্যার প্রতি অধিকার ফলাতে শুরু করেন সলমন! একবার নাকি ঐশ্বর্যার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দরজা খোলার জন্য প্রচণ্ড চিৎকার করতে থাকেন সলমন। সে সময়ে এই ঘটনা শিরোনাম দখল করেছিল অনেক সংবাদমাধ্যমের। ঐশ্বর্যা দরজা না খুললে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকিও নাকি দিতে থাকেন। এর পরে যদিও সেই প্রেম ভাঙে।
২০০৬ সালে এক গায়ক ও এক অভিনেত্রীর চুম্বন সংবাদের শিরোনামে জায়গা করে নেয়। কথা হচ্ছে মিকা সিংহ ও রাখি সবন্তের। শোনা যায়, নিজের জন্মদিনের পার্টিতে নাকি জোর করে রাখির ঠোঁটে ঠোঁট রাখেন মিকা। সেই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। গায়কের বিরুদ্ধে ওঠে নিন্দার ঝড়। ঘটনায় যেন খানিকটা বাড়তি প্রচারের আলো ছিনিয়ে নিয়েছিলেন রাখি। মিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ (মহিলাকে উত্যক্ত করা) এবং ৩২৩ (স্বেচ্ছায় কাউকে আঘাত করা) ধারায় মামলা দায়ের হয়। যদিও দিনকয়েকের মধ্যেই সেই মামলায় জামিন পান মিকা। তার পর ১৭ বছর ধরে এই মামলা চলে আদালতে। বছরতিনেক আগে মুম্বই আদালতে দু’জনের সম্মতিক্রমে নিষ্পত্তি হয় এই মামলার।
২০০৭ সালেও একটি চুমুর ঘটনায় বিপুল শোরগোল পড়েছিল। রাজস্থানে এক প্রচার অনুষ্ঠানের মাঝখানে বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টীকে চুমু খেয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হলিউড অভিনেতা রিচার্ড গেয়ার। প্রকাশ্যে ‘অশ্লীল’ আচরণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন এক আইনজীবী। তবে এই ঘটনার ১৬ বছর পরে সেই মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন শিল্পা। জানিয়েছেন, রিচার্ডের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ নেই।
অল্প সময়েই বলিউডে জায়গা তৈরি করেছিলেন, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। আর কাজ করা হয়নি শাইনি অহুজার। ‘গ্যাংস্টার’ ছবিতে প্রথম নজর কেড়েছিলেন। প্রশংসিত হয় অভিনয়। বেশ সাড়া ফেলে ছবিটি। এর পরে একটি ছবিতে কঙ্গনার সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন। ‘হজ়ারো খোয়াইশে অ্যায়সি’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’, ‘ভুল ভুলাইয়া’র মতো ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন। খ্যাতির দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু, এরই মধ্যে বাড়ির পরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে অভিনেতার বিরুদ্ধে। সংশোধনাগারে ছিলেন অনেক দিন। তার পরে আবার বলিউডে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৫ সালের ছবি ‘ওয়েলকাম রিটার্নস’-এ অভিনয় করেন। তবে সেই ছবি সফল হয়নি।
আরও পড়ুন:
২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে বান্দ্রার এক বেকারির সামনের ফুটপাথে উঠে পড়ে সলমন খানের গাড়ি। চাকায় পিষে নাকি মারা যান এক ফুটপাথবাসী। আহত হন চার জন। পুলিশের দাবি, সে সময়ে চালকের আসনে ছিলেন সলমনই। শোনা যায়, দুর্ঘটনার পরে গাড়ি ছেড়ে কার্যত পালিয়ে যান তিনি। এই ঘটনায় হইচই পড়ে যায় গোটা দেশে। প্রায় ১৩ বছর আদালতে এই মামলা চলে। যদিও ২০১৫ সালে সলমনকে রেহাই দেয় বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের বক্তব্য, সেই রাতে সলমনের মদ খাওয়া বা গাড়ি চালানো— কোনওটাই অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হয়নি। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি এ আর জোশী বলেন, ‘‘শুধুমাত্র সন্দেহই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে যথেষ্ট নয়।’’
বলিউডের একাধিক সম্পর্ক নিয়েই জলঘোলা হয়েছে। তবে যাঁদের গোপন সম্পর্ক প্রায় আদালতের দোড়গোড়ায় পৌঁছে যায়, তাঁরা হলেন কঙ্গনা রনৌত ও হৃত্বিক রোশন। এই দুই তারকার সম্পর্ক নিয়ে ফিসফাস ‘কৃষ ৩’-র সময় থেকেই শুরু। একসঙ্গে ‘কাইট্স’ ও ‘কৃষ ২’ ছবিতে কাজ করেছেন তাঁরা। প্রথমে আড়ালেই ছিল বিষয়টা। আচমকাই হৃতিকের সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন বলিউডের ‘ক্যুইন’। যদিও কঙ্গনার প্রসঙ্গে সব সময় মৌনতা বজায় রেখেছেন হৃতিক। অভিনেতাকে আইনি চিঠি পাঠান অভিনেত্রী। এই ঘটনার পরে হৃতিক যদিও প্রকারান্তরে কঙ্গনার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কঙ্গনা সরাসরি হৃতিককে মিথ্যাবাদী বলে তোপ দেগেছিলেন।
বলিউডে কাজ করতে গিয়ে বহু বার নাকি যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন তনুশ্রী দত্ত। চুপচাপ সব মেনে নিতে না পেরে ২০১৮ সালে প্রতিবাদ করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু, তার পর থেকেই তিনি আর ছবির প্রস্তাব পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। অভিনেতা নানা পটেকরের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ আনেন তনুশ্রী। হলিউডে একটা সময় ‘মিটু’ আন্দোলনের ঝড় ওঠে। একের পর এক খ্যাতনামী নায়িকারা এগিয়ে এসে যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। বলিউডে তনুশ্রী এই প্রসঙ্গে সরব হওয়ার পরে, বেশ কিছু নায়িকা তাঁদের জীবনের কথা তুলে ধরেন। যদিও তালিকায় প্রথম সারির কোনও নায়িকাকে দেখা যায়নি।
২০২০ সালের জুন মাসে অতিমারির মাঝে অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর খবর আসে। এই খবর সারা দেশে যেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। সুশান্ত নাকি আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে অভিনেতার মৃত্যুর পরে তাঁর তৎকালীন প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীকে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এই ঘটনায় সারা দেশ জুড়ে বিক্ষোভ মাথা চাড়া দেয়। হাজতবাস পর্যন্ত হয় রিয়ার। সুশান্তের মৃত্যুতে বলিউডের সঙ্গে মাদকযোগের তত্ত্ব যেন বার বার ফিরে আসে সংবাদমাধ্যমে। অভিনেতার মৃত্যুর পর ছয় বছর কেটে গিয়েছে। এখন যদিও নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন রিয়া। শুরু করেছেন নিজস্ব ব্যবসা।
আরও পড়ুন:
সুশান্তের মৃত্যুর ঠিক এক বছর পরেই, অক্টোবরে আচমকাই একটি গ্রেফতারির খবর আসে। যা গোটা দেশের মানুষকে অবাক করে দেয়। ২০২১ সালে মুম্বইয়ের উপকূলে প্রমোদতরী ‘কর্ডেলিয়া’-য় মাদকযোগের অভিযোগে শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খান-সহ আরও ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এনসিবি)। এনসিবি-র সেই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন শীর্ষ আধিকারিক সমীর ওয়াংখেড়ে। তিনি তাঁর দল নিয়ে অভিযান চালিয়েছিলেন প্রমোদতরীতে। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল আরিয়ানকে। জেলেও যেতে হয়েছিল তাঁকে। বছরকয়েক মামলাও চলে। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন শাহরুখ-পুত্র।
তাঁদের সম্পর্ক একেবারে আদায়-কাঁচকলায়। প্রতিভার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ভাবে সকলকে সুযোগ দেওয়ার বদলে বলিপাড়ার অন্দরের তারকাসন্তানদের প্রতিই নাকি বেশি নজর কর্ণ জোহরের। সুশান্তের মৃত্যুর পরে বলিউড স্বজনপোষণ বিতর্কে যখন ছয়লাপ, সেই সময়ে এই পরিচালকের বিরুদ্ধে কড়া কথা শুনিয়েছিলেন কঙ্গনা রনৌত। সুশান্তের মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি এমন হয় যে, তিনি সমাজমাধ্যম নিষ্ক্রিয় রাখতে বাধ্য হন। কর্ণকে সরাসরি ‘মুভি মাফিয়া’ বলে দাগিয়ে দেন বলিউডের ‘ক্যুইন’। সেই থেকে দু’জনের সম্পর্কের অবনতি।
বলিউড অভিনেতা আদিত্য পঞ্চোলী ও জ়ারিনা ওয়াহাবের ছেলে সূরজ পঞ্চোলী। ২০১৫ সালে সলমন খান প্রযোজিত ‘হিরো’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করলেও অভিনেতা হিসাবে এখনও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি সূরজ। ২০১৩ সালে বলিউড অভিনেত্রী জিয়া খান আত্মহত্যা করেন। সেই সময়ে ‘প্রেমিকা’ জিয়ার লিখে যাওয়া চিঠিতে সূরজের উল্লেখ পাওয়া যায়। সূরজের বিরুদ্ধে জোর করে গর্ভপাতের অভিযোগ এনেছিলেন জিয়া। সূরজ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন অভিনেত্রীর মা। মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন সূরজ ও তাঁর গোটা পরিবার, অভিযোগ করেন প্রয়াত অভিনেত্রীর মা। সূরজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সিবিআই। প্রায় ১০ বছর পরে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সেই মামলায় রায় দিয়েছে সিবিআই-এর বিশেষ আদালত। যেখানে সূরজ নির্দোষ বলেই রায় দেয় আদালত।
আমির খানের প্রেমজীবন নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। অভিনেতা দু’টি বিবাহবিচ্ছেদের পরে ফের প্রেমে পড়েছেন। এই মুহূর্তে প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটকে চোখে হারাচ্ছেন আমির খান। সর্বত্র প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে যান। খুব শীঘ্রই গৌরীর সঙ্গে বিয়ে করতে চলেছেন আমির। এই তিন নারী ছাড়াও বলিপাড়ার গুঞ্জন, আর এক নারীর সঙ্গে প্রেম ছিল আমিরের। ব্রিটিশ সাংবাদিক জেসিকা হাইনসের সঙ্গে একসময়ে নাকি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন আমির। তাঁরা নাকি একসঙ্গে থাকতেনও। শোনা যায়, তখন নাকি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন জেসিকা। যদিও সেই সন্তান চাননি আমির, এমনটাই শোনা যায়। পরে অবশ্য এই গোটা ঘটনাটা গুজব বলে উড়িয়ে দেন অভিনেতা।
২০১৯ সালে মুক্তি পায় শাহিদ কপূরের কর্মজীবনের মোড় ঘোরানো ছবি ‘কবীর সিংহ’। বিস্তর সমালোচনা হয় এই ছবিকে ঘিরে। বলিউডের একাংশ একে ‘পুরুষতান্ত্রিকতায় ঠাসা’, ‘নারীবিদ্বেষী ছবি’ বলে দাগিয়ে দেন। যদিও সেই ছবিই অক্সিজেন জুগিয়েছে শাহিদের কেরিয়ারে। বিতর্ক হলেও তা ছবির ব্যবসায় প্রভাব ফেলেনি। বরং হয়েছিল উল্টোটাই। ৩৮০ কোটির ব্যবসা করে বক্সঅফিসে নজির গড়েছিল এই ছবি। ‘কবীর সিংহ’কে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সফল ছবি বলে মনে করেন শাহিদও। তবে এই ছবি নিয়ে সরব হয়েছিল নারীবাদীরা। সরব হন অভিনেত্রীরা। এই ছবির পর থেকেই সমালোচিত হয়েছেন ছবির পরিচালক সন্দীপ রেড্ডী বঙ্গা।
২০২২ সালের জুলাই মাসে হঠাৎই এক ‘বিস্ফোরক’ খবর ছড়িয়ে পড়ে। সুস্মিতা সেনের সঙ্গে একগুচ্ছ ছবি ভাগ করে নেন শিল্পপতি ললিত মোদী। সেখানে সুস্মিতাকে সরাসরি ‘জীবনসঙ্গিনী’র তকমা দিয়ে বসেন। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। পরে যদিও তার পাল্টা লম্বা আর একটি পোস্ট করেন সুস্মিতা। সেখানে রসিকতা করে নিজেকে ‘ডায়মন্ড ডিগার’ও বলেন। পরে নিজেকে ‘সিঙ্গল’ বলেও ঘোষণা করেন।