বর্ষার মরসুম এসেই গেল প্রায়। এই সময়ে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের উপদ্রব বাড়ে। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে ডেঙ্গির প্রকোপ বেড়েছে। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (এমসিডি)রিপোর্ট বলছে, অন্তত ১৬২ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত। হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে। ডেঙ্গির প্রকোপ কী ভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে এখন বিশ্ব জুড়েই বিজ্ঞানীরা মাথা ঘামাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও অ্যানোফিলিস স্টিফেনসাই, এডিস ইজিপ্টাই এবং কিউলেক্স বিশনোই মশার উৎপাত কমানো যায়নি। যে হেতু পশ্চিমবঙ্গে তিন মশার বংশবিস্তারেরই অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে এ রাজ্যেও ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে পারে।
এই বিষয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানান, প্রতি বছরই ডেঙ্গি প্রকোপ বাড়ে। এ বছরেও তা হওয়ার আশঙ্কা আছে। , উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে, বদল আসছে স্থানীয় আবহাওয়ার চরিত্রে। বৃষ্টি আসার সময়ও এলোমেলো হয়ে গিয়েছে এখন। এই সবই ডেঙ্গির মশার বংশবৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে।
ডেঙ্গি নিয়ে খবর অনেক হয়। এখন আবারও ডেঙ্গি নিয়ে হইচইয়ের কারণ হল বিজ্ঞানীদের পাওয়া নতুন কিছু তথ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ডেঙ্গি ভাইরাস তার চরিত্র বদলে ফেলেছে। ভাইরাসের জিনে এমন রাসায়নিক বদল হচ্ছে (মিউটেশন) যা এর সংক্রামক ক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে ভাইরাসের রূপ বদল নিয়ে এখনই আশঙ্কার কথা জানাননি চিকিৎসক। তাঁর মতে, ভাইরাসের কতটা রাসায়নিক বদল হচ্ছে, তা গবেষণার বিষয়। আপাতত এখানে তেমন কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি, যা নিয়ে আতঙ্কিত হতে হবে। তবে সাবধানে থাকা জরুরি। শরীরে নানা রকম রোগ রয়েছে এমন মানুষজনের ক্ষেত্রে ডেঙ্গি হলে সঙ্কটজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্লেটলেট দ্রুত কমতে শুরু করবে, কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভারও হতে হবে। তখন বিপদ বাড়বে।
আরও পড়ুন:
কোন কোন লক্ষণ খেয়াল রাখবেন?
জ্বর, সারা গায়ে র্যাশ, চোখের সংক্রমণ হতে পারে। জ্বর মাঝেমধ্যেই আসবে, লালচে র্যাশ বেরোবে সারা শরীরে।
ডেঙ্গি সংক্রমণ হলে এখন উপসর্গের ধরনেও বদল আসছে। শুধু জ্বর বা সারা গায়ে র্যাশ নয়, রোগীর ‘মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওয়র’-এর ঝুঁকি বাড়ছে। সেই সঙ্গে রক্তক্ষরণ শুরু হচ্ছে শরীরের ভিতরে। প্লেটলেট তো কমছেই, পাশাপাশি, হার্ট-লিভারের মতো অঙ্গেও প্রভাব ফেলছে ডেঙ্গি।
শরীরে জল জমছে অনেকের। জল জমছে ফুসফুসেও। শুধু তাই নয়, জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, জন্ডিস, কিডনির সমস্যা দেখা গেলে ডেঙ্গির আশঙ্কার কথা মাথায় রাখতে হবে।
কী কী টেস্ট করাবেন?
জ্বর ও পেট খারাপের উপসর্গ দেখা দিলেই এনএস-১ কিংবা আইজিএম (অ্যালাইজ়া) পরীক্ষার মাধ্যমে দেখে নিতে হবে ওই রোগী ডেঙ্গি আক্রান্ত কিনা।
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, জ্বর হওয়ার প্রথম দু’দিনের মাথায় এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট করে দেখা হয়, ডেঙ্গি পজ়িটিভ কি না। যদি পাঁচ দিন পেরিয়ে যায়, তা হলে আইজিএম অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়। এর বেশি হলে দু’টি পরীক্ষাই করে দেখে নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে প্লেটলেট কাউন্ট দেখে নেওয়াও জরুরি।
‘নিউক্লিক অ্যাসিড অ্যামপ্লিফিকেশন টেস্ট’ (এনএএটি) এখন অনেক জায়গায় করানো হয়। পরীক্ষাটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মতো, ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে এতে।