ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করে নাকি টেলিগ্রাম চালানোই যায়। এ দেশে ওই অ্যাপ সাময়িক ভাবে বন্ধের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমাজমাধ্যমে এই বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নজর এড়ায়নি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) অধিকর্তা অভিষেক সিংহেরও। তিনি জানিয়েছেন, ভিপিএন-এর দৌরাত্ম্যের ফলে সমস্যা থেকেই যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩ মে নিট-এর প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের ঘটনায় সিবিআই এবং পুলিশি তদন্তে উঠে আসে টেলিগ্রাম অ্যাপ মারফত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। ওই অ্যাপের সাহায্যে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র বিক্রি করা হয়েছিল, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কাঙ্ক্ষিত র্যাঙ্ক-ও পেয়ে যাবেন পরীক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
২১ জুনের পুনঃপরীক্ষার আগে যাতে এমন কোনও চক্র ফের সক্রিয় হয়ে না ওঠে, তাই ৩০ জুন পর্যন্ত এ দেশে টেলিগ্রাম ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এই অ্যাপের সাহায্যে পরীক্ষা সংক্রান্ত ভুয়ো তথ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা থেকে পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখা সম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। কিন্তু গোপন নেটওয়ার্ক সিস্টেমের সাহায্যে ওই অ্যাপ ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না এনটিএ অধিকর্তা অভিষেক সিংহ। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের তরফে পরীক্ষার্থীদের যাবতীয় ভুয়ো তথ্য থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সাইবার সুরক্ষা বিভাগের তরফে ক্রমাগত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, টেলিগ্রাম অ্যাপ মারফত নাম বদলে ব্যবহারকারীরা পড়ুয়াদের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে থাকেন। এনটিএ অধিকর্তার দাবি, অ্যাপের ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় সেই পথে প্রলোভন দেখানো সুযোগ আপাতত না থাকলেও ঘুরপথে চেষ্টা চলতেই পারে। তাই পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “অনৈতিক ভাবে প্রশ্নপত্র আগে পাওয়ার প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে পড়ুয়ারা যেন সময় এবং টাকা নষ্ট না করেন।”
আরও পড়ুন:
টেলিগ্রাম অ্যাপের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা ও অধ্যাপক ভি কামাকোটি। তিনি জানিয়েছেন, ওই অ্যাপে পাঠানো ম্যাসেজ দু’দিনের মধ্যে এডিট করে বদলে ফেলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ম্যাসেজের মাধ্যমে কোনও নথি পাঠানো হলেও তা পরিবর্তন করে অন্য নথি বসানো সম্ভব। এতে পড়ুয়াদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো সহজ হয়ে উঠেছিল। তাই অ্যাপটি সাময়িক ভাবে বন্ধ হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে কোনও বাধা আসবে না বলেই মনে করছে আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা।
সাধারণত নিট-এর মতো পরীক্ষার আয়োজন করতে পাঁচ থেকে ছ’মাস পর্যন্ত সময় ব্যয় করে এনটিএ। কিন্তু প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির জেরে এক মাসের মধ্যে নতুন করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হয়েছে নিয়ামক সংস্থাকে। এনটিএ সূত্রে খবর, প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করা থেকে শুরু করে তার ত্রুটি সংশোধন করে ছাপানোর কাজ দ্রুত শেষ করা হয়েছে।
ওই প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত ভাবে নির্দিষ্ট গন্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য বায়ুসেনার বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে বায়ুসেনার প্রহরার পাশাপাশি, বিভিন্ন কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে আধাসেনাবাহিনীও। জানা গিয়েছে, দেশে ৫,৪৪০টি এবং বিদেশের ১৪ টি পরীক্ষা কেন্দ্রে নতুন করে নিট নেওয়া হবে।