জটিল যন্ত্র তৈরি করতে চাই কারিগরি বিদ্যার জ্ঞান। সেই যন্ত্রকে কী ভাবে চালনা করা যেতে পারে, তা-ও জানতে হয় ইঞ্জিনিয়ারদের। এই বিষয় বিশেষজ্ঞদের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়ে থাকে। উচ্চ মাধ্যমিকের পর এই বিশেষ বিষয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
কাজের জন্য বিশেষ পরিকাঠামো কী ভাবে গড়ে তোলা যায়, তার নকশা তৈরি বা তার কর্মকাল সম্পর্কে যাবতীয় খুঁটিনাটি শেখানো হয় সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। সেই পরিকাঠামো ডিজিটাল মাধ্যমে তৈরি হতে পারে। আবার কোনও যন্ত্রের মধ্যেও থাকতে পারে।
আরও স্পষ্ট করে বললে, কোনও গাড়ি বা উপগ্রহের ইঞ্জিন কী ভাবে তৈরি করা হবে, তাতে কোন প্রযুক্তি থাকা দরকার, ইঞ্জিন চালানোর জন্য কী ধরনের তরল ব্যবহার করতে হবে— সেই সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিশ্চিত করেন সিস্টেম ইঞ্জিনিয়াররা। সে ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের সময় তা যাতে হ্যাক না যায়, তার উপায়ও বাতলে দেন এই বিশেষজ্ঞেরাই।
দ্বাদশের পর পড়াশোনা
সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার জন্য বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়া চাই। তার পর রাজ্য কিংবা সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রানস্ পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
স্নাতকে এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি পড়াশোনার সুযোগ নেই। পড়ুয়াদের মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স, এরোস্পেস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড সিস্টেম, এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মধ্যে যে কোনও একটি স্নাতক স্তরের জন্য বেছে নিতে হবে।
এ দেশে স্নাতকোত্তর স্তর থেকে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েশন অ্যাপটিটিউড টেস্ট (গেট) পাশ করা জরুরি। তবে, আইআইটি প্রতিষ্ঠান থেকে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন।
কোথায় পড়ানো হয়?
স্নাতক স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার বাছাই করা বিষয়গুলি আইআইটি প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন। স্নাতকোত্তর স্তরে আইআইটি বোম্বে, আইআইটি রুরকি, আইআইটি খড়্গপুর, আইআইটি কানপুর, আইআইটি হায়দ্রাবাদ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
কাজের সুযোগ
সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারি নিয়ে পড়াশোনার পর কাজের জন্য আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে সুযোগ মিলতে পারে। এই ধরনের পরিকাঠামো মহাকাশ অভিযান, বিমানপোত নির্মাণ, তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক, সফট্অয়্যার, সাইবার সুরক্ষা, গাড়ি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগের কাজের ধরন এবং চাহিদা আলাদা।
ইসরো, ডিআরডিও, হিন্দুস্থান এরোনটিক্স লিমিটেড-এর মতো মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র এবং বিমানপোত নির্মাণ সংস্থাগুলিতে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে। মূলত তাঁদের বিমান বা উপগ্রহ তৈরির নকশা তৈরি করা, তাপমাত্রার তারতম্য হওয়া সত্ত্বেও সেই সব যন্ত্র সক্রিয় রাখার মত কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের এরোডায়নামিক্স, প্রোপালশন, এভিওনিক্স, স্ট্রাকচারাল মেকানিক্স-এর মতো বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি।
তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় যে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারেরা কাজ করেন, তাঁদের মূলত নেটওয়ার্ক এবং তথ্য সুরক্ষিত রাখার শক্তিশালী পরিকাঠামো তৈরির কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কোটি কোটি তথ্য লক্ষাধিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় কী ভাবে ভ্রমণ করবে এবং তা সুরক্ষিত ভাবে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাবে— তার কৌশল জানা প্রয়োজন প্রার্থীদের।
প্রতিরক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে মূলত বিভিন্ন ধরনে যন্ত্র তৈরি এবং তা বিদেশি শত্রুর থেকে সুরক্ষিত রাখাই সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ হয়ে থাকে। যুদ্ধক্ষেত্র হোক কিংবা গোপন আস্থানা— সর্বত্রই যাতে জটিল যন্ত্র কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে, তা সুনিশ্চিত করেন ইঞ্জিনিয়াররা।
শুরুতে টেকনিক্যাল সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার বা ট্রেনি সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থায় নিয়োগের সুযোগ পেতে পারেন। উভয় ক্ষেত্রেই নিয়োগ-পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। এক-তিন বছর কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর সিনিয়র বিভাগে পদোন্নতি হতে পারে। সংস্থার নিরিখে প্রাথমিক স্তরে বার্ষিক বেতনক্রম তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। পদোন্নতি হলে তা ১৮ লক্ষ টাকা পর্যন্তও হতে পারে।