নন্দীগ্রামে এ বার তৃণমূল জিতবে। নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে প্রচারে গিয়ে এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীকে হারিয়ে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের জয় যে নিশ্চিত, সেই কথাও দিয়ে এলেন। অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে ভোটের পরের দিন শুক্রবার ভবানীপুরে প্রচারে নেমে বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু দাবি করলেন, বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থীকে ‘বোতলবন্দি’ করে ফেলেছেন। এ বার ভবানীপুরে হারাবেন মমতা বল্দ্যোপাধ্যায়কে, যেমন গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে করেছিলেন। তার পরে ভবানীপুরেই বাড়ি, বিধায়কের দফতর করবেন তিনি। বন্ধ করবেন তৃণমূলের ‘তোলাবাজি’।
ডায়মন্ড হারবার বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী পান্নালাল হালদারের হয়ে শুক্রবার রোড শো করেন অভিষেক। সেখানেই প্রচারগাড়ির উপরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘একটা প্রেডিকশন (ভবিষ্যদ্বাণী) করে যাব, খুশি হবেন। ২০২৪ সালে এখানে এসে বলেছিলাম, এই মাটিতে যা বলি তা হয়। এই মাটির ভালবাসা। নন্দীগ্রাম তৃণমূল জিতবে, কথা দিয়ে গেলাম।’’
বৃহস্পতিবার, প্রথম দফায় ভোট হয়েছে নন্দীগ্রামে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রেই মমতাকে ১,৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। ফল ঘোষণার পরেই মমতা বলেছিলেন, ‘‘নন্দীগ্রামের মানুষের রায় মেনে নিচ্ছি। কিন্তু ওখানে ভোট লুট হয়েছে। আদালতে যাব আমরা।’’ পরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা। এ বার সেখানে প্রার্থী পবিত্র, যিনি অতীতে শুভেন্দুর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত ছিলেন। ২০২৩ সালে বিজেপির প্রতীকে পঞ্চায়েত ভোটে জয়লাভ করে মার্চ মাসে তৃণমূলে যোগদান করেন। দিনের দিনই নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন। অভিষেক ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়ে সেই পবিত্রের জয় নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন শুক্রবার। তার পরে বলেন, ‘‘৪ তারিখ (মে) দেখা হবে। সবুজ আবির খেলতে পারলে আসব।’’
তৃণমূল সাংসদ যখন নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর হারের ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, তখন ভবানীপুরে জোড়া সভা করে বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের ভোটে তিনি তৃণমূল প্রার্থীকে ‘বোতলবন্দি’ করে ফেলেছেন। এ বার ভবানীপুরে ফের হারাবেন মমতাকে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আপনারা, ভবানীপুরের মানুষ মনে করেন, মমতাকে হারানো যায় না? ২০২১ সালে তা করে দিয়েছি। ১,৯৫৬ ভোটে হারিয়েছি। যখন তমলুক লোকসভায় দাঁড়িয়েছিলাম, বলা হয়েছিল সিপিএমের লক্ষ্মণ শেঠের এলাকা। আমি তাঁকেও হারাই।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘সেদিন (২৯ এপ্রিল) সকাল সকাল নেমে ভোট দিন। একটু লাইন দিন। আমাকে জেতান। ওঁকে হারিয়ে দেখিয়েছি। এ বারও করব।’’ এর পরেই তিনি নন্দীগ্রামে ভোটের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের ভোটে তৃণমূল প্রার্থীকে বোতলবন্দি করে নিজে চষে বেড়িয়েছি। ২৯ তারিখ ওঁকে ঘরবন্দি করে ঘুরে বেড়াব।’’
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ভবানীপুরে প্রচারে গিয়ে বার বার বলেছেন, তাঁর বড় হওয়া, শিক্ষা, কর্ম, সবই সেখানে। তিনি সেখানকার পা়ড়ার লোক, ঘরের মেয়ে। পাল্টা শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনারা ভাবছেন তো, আমি এখানে থাকব কি না? আমি এখানেই থাকব। ১৫ বছর তো কোনও বিধায়কের দফতর দেখেননি। আমি এখানেই থাকব। বিধায়কের বাড়িও এখানেই হবে। আটটি ওয়ার্ডে আটটি দফতর হবে।’’ তার পরেই তিনি নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘যে ভাবে নন্দীগ্রামে মানুষের পাশে ছিলাম, সে ভাবে ভবানীপুরেও থাকব। শুধু আপনারা নেমে ভোট দেবেন। সকলে নিজেকে হিন্দু মনে করে ভোট দিন। কেউ নিজেকে আলাদা ভাববেন না।’’ তৃণমূলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, ‘‘আমি একটি আবাসনে গিয়েছিলাম। সেখানে (আবাসিকেরা) বললেন, নাটবল্টু টাইট করতেও তৃণমূলকে টাকা দিতে হয়।’’ এর পরেই শুভেন্দু আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘আমি সব বন্ধ করে দেব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত