Advertisement

নবান্ন অভিযান

মদের দোকানে হুড়োহুড়ি, প্রায় শেষ ‘স্টক’! কী ভাবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের চাহিদা সামলাবেন? চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

প্রথম দফার ভোটের আগে গত ২০ এপ্রিল থেকে রাজ্যে মদের দোকান বন্ধ ছিল। শুক্রবার দোকান খুলেছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার পর আবার তা বন্ধ হয়ে যাবে। ক্রেতার পাশাপাশি বিক্রেতারাও চিন্তায়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩০
মদের দোকানে ক্রেতাদের লাইন পড়ছে।

মদের দোকানে ক্রেতাদের লাইন পড়ছে। —ফাইল চিত্র।

টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার সকাল থেকে ফের মদের দোকান খুলেছে রাজ্যে। কিন্তু ক্রেতাদের হুড়োহুড়িতে ‘স্টক’ প্রায় শেষ। নতুন করে অর্ডারও দেওয়া যাচ্ছে না। কী ভাবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেবেন, তা নিয়ে আপাতত চিন্তিত শহরের মদের দোকানের মালিকেরা। জানাচ্ছেন, সাধারণ সময়ে সারা দিনে যে পরিমাণ মদ বিক্রি হয়, শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মদ বিক্রি হয়ে গিয়েছে। দেশি ও বিদেশি— সব কিছুরই চাহিদা তুঙ্গে। ক্রেতাদের মধ্যে বাড়িতে যত বেশি সম্ভব মদ মজুত করে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কিছু দিন আগে আচমকাই সর্বত্র মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। প্রথম দফার ভোটের আগে ২০ এপ্রিল থেকে দোকান বন্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। তার পর শুক্রবার সকাল থেকে মদের দোকানগুলি আবার খুলেছে। তবে দ্বিতীয় দফার ভোট এখনও বাকি। তাই শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সমস্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি রয়েছে। তার পর আবার তা বন্ধ করে দিতে হবে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তত দিন মদের দোকান বন্ধ থাকবে। সেই কারণে যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের শনিবারের মধ্যে মদ সংগ্রহ করে রাখতে হবে। কিন্তু দোকানে গিয়ে অনেকেই খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ দোকানগুলিতেও মদের ‘স্টক’ প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।

মদের দোকান বন্ধের কথা আচমকা ঘোষণা করা হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, সেই কারণেই সমস্যা হচ্ছে। আগে থেকে আভাস না-পাওয়ায় দোকানেও পর্যাপ্ত মদ মজুত করা ছিল না। তার সুযোগও মেলেনি। ফলে শুক্রবার এবং শনিবারের চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাঁদনি চক চত্বরের এক মদের দোকানে গিয়ে দেখা গেল, কোলাপসিব্‌ল দরজায় তালা দেওয়া। তার ভিতর থেকেই মদ কেনাবেচা চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, আবগারি দফতর আগেই সতর্ক করে গিয়েছে দোকানিদের। সেই অনুযায়ী সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ওই দোকানের ম্যানেজার কালীপদ ছাটুই বলেন, ‘‘সকাল ১১টায় দোকান খুলেছি। তার আগে থেকেই দোকানের সামনে লাইন পড়ে গিয়েছিল। অনেকে দেশি খুঁজছেন। কিন্তু সব বিক্রি হয়ে গিয়েছে।’’

Advertisement

দোকান কত দিন বন্ধ থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় সুরাপ্রেমীরা। যত বেশি সম্ভব মদ কিনে রাখার পরিকল্পনা করেছেন অনেকেই। দোকানে যে ক’টি বিয়ারের বোতল পড়ে আছে, পারলে সব কিনে ফেলছেন। ব্যাগভর্তি করে মদ নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। কালীপদের কথায়, ‘‘হঠাৎ করে ঘোষণা হওয়ায় আমরা মাল মজুত করে রাখার সুযোগ পাইনি। তার উপর কিছু জায়গায় ‘নো এন্ট্রি’ রয়েছে। তাই জোগান নেই।’’

অনলাইনে অনেকে মদ কেনেন। কিন্তু সেখানেও ‘স্টক’ শেষের পথে। কোনও কোনও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ইতিমধ্যে ফুরিয়ে গিয়েছে অনলাইনেও। বিকেলের দিকে আর এক দোকানের ম্যানেজার অসিত দাস বলেন, ‘‘আমাদের এখানে বিয়ার শেষ। সকাল থেকে ক্যান বিয়ার অনেক বিক্রি হয়েছে। যেগুলির চাহিদা সাধারণ ভাবে বেশি থাকে, সেগুলি আর কিছুই বাকি নেই। দামি মদ এখনও কিছু পড়ে আছে বটে। অনেকে পছন্দের মদ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’’ দোকানের জন্য সকাল থেকে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিয়ার এবং মদ অর্ডার দেওয়ার চেষ্টা করছেন অসিত। কিন্তু মিলছে না। তাঁর কথায়, ‘‘সাইটে অর্ডার করা যাচ্ছে না। আমাদের স্টকে যা ছিল, সকাল থেকে তা-ই বিক্রি করেছি। কিন্তু নতুন স্টক না এলে কাল কী হবে বলতে পারছি না। সারা দিনই লোক আসছেন মদ কিনতে। দুপুরেও ভিড় হচ্ছে।’’

শহরের রেস্তরাঁ বা পানশালাগুলিতেও এই ক’দিন মদ বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে সেখানে এখনও ‘স্টক’ ফুরিয়ে যায়নি। দোকানের মতো রেস্তরাঁ থেকে দেদার বোতল কিনে নিয়ে যেতে পারছেন না ক্রেতারা। টুকটাক বিক্রি চলছে। সকলেই মানছেন, শুক্রবার সকাল থেকে অন্যান্য দিনের চেয়ে ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি। মদ কিনে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চাহিদা বেশি। শনিবার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে পারবেন কি না, তার আগেই ‘স্টক’ ফুরিয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Liquor Shop Alcohol Shop Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy