Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘প্রশ্ন করার ক্ষমতা অরাজকতা নয়, এত নীচে নেমে গেলেন?’ প্রধানমন্ত্রীর যাদবপুর-মন্তব্যের সমালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা

বারুইপুরে রাজনৈতিক সভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বেশ কিছু কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তিনি সমগ্র বাংলাকে অপমান করেছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩১
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা হচ্ছে না। রাজ্যের অন্যতম এবং নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করতে পারছে না রাজ্য সরকার। শুক্রবার বারুইপুরে রাজনৈতিক সভা থেকে এমনই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গে সঙ্গে এর বিরোধিতা করে জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এতটা নীচে নামতে পারেন?’’ মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান, প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করে মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদেরই অপমান করলেন। আর ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা মানেই সেটা অরাজকতা নয়।

মোদীর মন্তব্যের সমালোচনায় শুক্রবার সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেন মমতা। তিনি লেখেন, ‘‘জিজ্ঞেস করতে কষ্টই হল— বিখ্যাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্কে এ ভাবে বর্ণনা করা যায়? এটাই কি আপনার শালীনতা এবং সৌজন্যবোধের ধারণা?’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে মোদী সরকারই এনআইআরএফ র‌্যাঙ্কিংয়ে উঁচু জায়গায় রাখে। আর প্রধানমন্ত্রী সেই প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠত্বকে খাটো করে অপমান করেছেন। মমতা লেখেন, ‘‘আপনি কি এত নীচে নেমে গিয়েছেন? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা তাঁদের মেধা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ডিগ্রি নিয়ে, বুদ্ধি নিয়ে, প্রশ্ন করার ক্ষমতা নিয়ে বেরিয়েছেন। এটা তো অরাজকতা নয়। এটাই শিক্ষা এবং এটাই শ্রেষ্ঠত্ব।’’

বারুইপুরের সভায় মোদী জানান, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেছেন, যাদবপুরের ক্যাম্পাসে হুমকির দেওয়া হয়। দেওয়ালে দেশবিরোধী কথাবার্তা লেখা হয়। ছাত্রদের মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে। পড়াশোনা হচ্ছেই না। মোদীর কথায়, ‘‘আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে চাই। যে সরকার নিজের রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষাকেন্দ্র বাঁচাতে পারে না, তারা রাজ্য কী বাঁচাবে!’’ তা নিয়ে মমতার পাল্টা, ‘‘অরাজকতার মানে হল ছাত্রছাত্রীরা যেখানে তাঁদের আওয়াজ তোলেন না। অরাজকতা হল বুলডোজ়ারকে ন্যায়বিচারের পরিবর্তে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা। অরাজকতা হল যখন কৃষকেরা মারা যান এবং তাঁদের কন্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে যায়। ধর্ষণ এবং অন্যান্য জঘন্যতম অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মুক্ত হন।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘অরাজকতা হল দরিদ্রদের পাওনা দিতে অস্বীকার করা। অরাজকতা হল একটি জাতিকে ধর্মান্ধ করে ভোটের জন্য ভাগ করা। অরাজকতা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে অস্বীকার করা, জবাবদিহি করতে অস্বীকার করা এবং প্রশ্ন প্রত্যাখ্যান করা।

Advertisement

অরাজকতা হল যখন মণিপুর জ্বলছে এবং আপনারা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত।’’

পরিশেষে মমতা লিখেছেন, ‘‘ছাত্র আন্দোলন গণতন্ত্রকে ভাঙে না। এটাই গতিশীল গণতন্ত্র। দয়া করে শ্রীঅরবিন্দ-সহ আমাদের জাতীয়তাবাদীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাকে কলঙ্কিত করবেন না। দয়া করে বাংলার বদনাম করবেন না।’’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছে যাদবপুরের অবিজেপি ছাত্র সংগঠনগুলি।পড়ুয়াদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্টের তরফে আদিত্য বলেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ডানপন্থী দলের ছাত্র সংগঠন কর্তৃত্ব কায়েম করতে পারেনি। সেই হতাশা থেকেই প্রধানমন্ত্রী এই সব মন্তব্য করেছেন বলেই আমরা মনে হয়।’’ ‘উই দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ (ডব্লুটিআই)-এর তরফে জিম্মি বলেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা ভয় না পেয়ে শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলতে পারে। আমাদের এই ভয় না পাওয়াকেই প্রধানমন্ত্রী বোধ হয় ভয় পাচ্ছেন।’’

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Mamata Banerjee Narendra Modi Jadavpur University TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy